• কেন আবাস যোজনার বরাদ্দ পাচ্ছে না বাংলা? সংসদে কারণ স্পষ্ট করলেন মন্ত্রী
    এই সময় | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • গ্রামীণ এলাকায় উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক প্রকল্প রয়েছে। যার সবকটিই রাজ্যের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখে করতে হয়। এই প্রকল্পগুলির ঠিক কী অবস্থা তা জানতে চেয়ে সংসদে প্রশ্ন পেশ করেছিলেন তৃণমূল সাংসদ মালা রায়।

    ১. গ্রামীণ কোনও প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে গত তিন বছরে কেন্দ্রের কোনও দল কোনও রাজ্যে গিয়েছে কি না

    ২. যদি গিয়ে থাকে, তাহলে তার তালিকা

    ৩. কোন রাজ্যে কী ধরনের বেআইনি কাজের হদিশ মিলেছে?

    ৪. কেন্দ্রের সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ করেছে?

    গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী কমলেশ পাসোয়ান এই প্রশ্নগুলির উত্তর দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা, দীনদয়াল অন্ত্যোদয় যোজনা, ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্প রয়েছে গ্রামীণ এলাকায় জীবনযাত্রার মান উন্নত করার জন্য। এই সব প্রকল্পের ক্ষেত্রেই স্বচ্ছতা এবং নিয়ম মেনে কাজ করার ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেক্ষেত্রে কখনও টাকার হিসাব না মেলা, কাজের চিহ্ন না মেলা, নাগরিকদের কাজ দেওয়ার বদলে মেশিন দিয়ে কাজ করানোর ঘটনা ঘটলে অথবা প্রকল্প সংক্রান্ত যে কোনও ধরনের হিসেবে গরমিল সামনে এলে পদক্ষেপ করা হয়।

    জাতীয় স্তরের পরিদর্শক (NLM বা ন্যাশনাল লেভেল মনিটর) অথবা কেন্দ্রীয় টিম পাঠিয়ে পরিস্থিতি সরেজমিনে বিচার করা হয়। ১০০ দিনের কাজের ক্ষেত্রে এবং গ্রামীণ আবাস যোজনায় এমন অভিযোগ সামনে এসেছে বলে জানানো হয়েছে কেন্দ্রের তরফে। আবাস যোজনার ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ ও ওডিশা থেকে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল বলে অভিযোগ এসেছিল বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

    গ্রামীণ আবাস যোজনার ক্ষেত্রে ৪৫.৬৯ লক্ষ বাড়ির অ্যালোকেশন দেওয়া হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে। রাজ্যের তরফে সেই সংখ্যক বাড়ির অনুমতিও দিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই অনুযায়ী ২০১৬-১৭ থেকে ২০২১-২২ পর্যন্ত কেন্দ্র এই কাজের জন্য তার বরাদ্দের ২৫৭৯৮ কোটি টাকা পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। কিন্তু, ২০১৮-এর সমীক্ষার তালিকায় যখন ২০২২ সালের নভেম্বরে বেরোয়, তখন সেখানে একাধিক অভিযোগ এসেছিল। প্রাপকদের তালিকায় গরমিল, অযোগ্যদের বাড়ি দেওয়ার একাধিক অভিযোগ ছিল। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানিয়েছেন এই অভিযোগ ছাড়াও প্রকল্পের নাম বদল করে ‘বাংলা আবাস যোজনা’ করে দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ এসেছিল।

    এই অভিযোগের তদন্তে ২টি কেন্দ্রীয় টিম এসেছিল বাংলায়। ২ জেলায় তারা গিয়েছিল। এছাড়াও ১০টি জেলায় গিয়েছিল ১০টি NLM টিম। এরপরে রাজ্যের তরফে অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট পাঠানো হয়েছিল। এরপরেও কেন্দ্রের একাধিক অফিসার এসে সমীক্ষা করেছেন। বার বার কেন্দ্রের টিম বাংলায় আসার হিসাব দিয়েছেন মন্ত্রী। অভিযোগ খতিয়ে দেখে রাজ্য সরকারকে জানানো হয়েছিল।

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক দল যে যে বক্তব্য জানিয়েছে, সেগুলির উপর ভিত্তি করে সন্তোষজনক পদক্ষেপ করেনি রাজ্য। রাজ্যের তরফে অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট না পাঠানোয় গ্রামীণ আবাস যোজনার খাতে ২০২২-২৩ অর্থবর্ষ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের এখনও পর্যন্ত কোনও কেন্দ্রীয় বরাদ্দ রাজ্যে আসেনি।

  • Link to this news (এই সময়)