সদ্য মা হয়েছেন। একরত্তিকে নিয়েই এসেছেন আদালতে। জরুরি মামলায় সওয়াল-জবাব করবেন। কিন্তু এজলাসে তো আর খুদেকে নিয়ে যাওয়া যায় না। একবার কেঁদে উঠলেই ব্যস। এই সমস্যার সমাধানেই ক্রেস চালু হচ্ছে কলকাতা হাইকোর্টে। আদালতের স্টাফ এবং আইনজীবীরা তো বটেই, মামলাকারীরাও ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সি শিশুদের ক্রেসে রাখতে পারবেন। দেখভালের জন্য থাকবেন নার্স এবং মেডিক্যাল অফিসাররা। ক্রেসে স্তন্যপান করানোর আলাদা ঘরও থাকছে বলে আদালতের নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে।
নির্দেশিকা অনুযায়ী, আদালতের কর্মদিবসে সকাল সাড়ে দশটা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকবে ক্রেস। শিশুকে একদিনের জন্য রাখলে কোনও অ্যাডমিশন ফি দিতে হবে না। শুধু ১০০ টাকা পরিষেবা চার্জ দিলেই হবে। আর যদি এক মাস বা তার বেশি দিন রাখতে হয়, তা হলে ১০০০ টাকা অ্যাডমিশন ফি লাগবে। সঙ্গে মাসিক ফি হিসেবে দিতে হবে ১,৫০০ টাকা। আপাতত ক্রেসে একসঙ্গে চারটি শিশুকে রাখা যাবে।
ক্রেসে শিশুকে রাখার জন্য বার্থ সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক। এর সঙ্গে মা-বাবার সঙ্গে যে কোনও সময়ে যাতে যোগাযোগ করা যায়, তার জন্য জরুরি নম্বর দিতে হবে। শিশুর খাবার, দুধ, ডায়াপার, অতিরিক্ত পোশাক এবং প্রয়োজনীয় ওষুধের দায়িত্বও অভিভাবককের। পাশাপাশি নিরাপত্তার জন্য থাকছে ক্রেসে সিসিটিভিও থাকছে।
একরত্তিদের দেখভালের জন্য থাকবেন একজন মেডিক্যাল অফিসার, একজন প্রশিক্ষিত নার্স এবং দু’জন আয়া। পাশাপাশি ক্রেসে একজন ইনচার্জ, একজন সহকারী ইনচার্জ, দু’জন প্রশাসনিক কর্তা এবং দু’জন নিরাপত্তা কর্মীকেও রাখা হবে বলে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে কলকাতা হাইকোর্টে ক্রেস চালুর দাবিতে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন তিন জন আইনজীবী। তার পরে ক্রেসের জন্য হাই কোর্টের চার তলায় একটি ঘর ঠিক হয়। তবে প্রশিক্ষিত নার্স এবং শিশু চিকিৎসকের অভাবে সেটি চালু করা সম্ভব হয়নি। অবশেষে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ক্রেস চালু করতে হবে বলে নির্দেশিকা জারি করেছে কলকাতা হাইকোর্ট।