• পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পথে উধাও কলেজ পড়ুয়া, ATM থেকে টাকা তুলছে কে? দুর্গাপুরে রহস্য
    এই সময় | ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • পরীক্ষা দিতে কলেজে যাচ্ছিলেন। মাঝ রাস্তা থেকে আচমকা উধাও হয়ে যান ফার্মাসি পড়ুয়া জহরলাল গড়াই। গত বুধবারের এই ঘটনার পর প্রায় এক সপ্তাহ কাটতে চলল। এখনও তাঁর কোনও হদিশ মেলেনি। তবে সোমবার তাঁর এটিএম কার্ড আচমকাই সচল হয়ে ওঠে। তার পরেই দুর্গাপুরের এই ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পড়ুয়ার খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে বি-জ়োন ফাঁড়ির পুলিশ। ছেলের সন্ধান না পেয়ে ভেঙে পড়েছেন জহরলালের মা-বাবা।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরুলিয়ার রোপো গ্রামে বাড়ি জহরলালের। দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে বি-ফার্মা কোর্সে ভর্তি হন তিনি। পাশের জেমুয়া গ্রামে বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতেন। গত বুধবার তাঁর কলেজের পরীক্ষা ছিল। দুপুর দেড়টা নাগাদ বাড়ি থেকে বের হন তিনি। তার পরে আর ফেরেননি।

    রাত দশটা পর্যন্ত অপেক্ষা করেন বাড়িওলা। তার পরে গোটা বিষয়টা তিনি জানান কলেজ কর্তৃপক্ষকে। জানা যায়, কলেজে পরীক্ষা দিতে যাননি জহরলাল। পরের দিন ভোরে তাঁর বাড়িতে খবর দেওয়া হয়। সঙ্গে সঙ্গে জহরলালের বাড়ির লোক দুর্গাপুরে ছুটে যান। বাড়িওলার সঙ্গে কথা বলার পরে তাঁরা বি-জ়োন ফাঁড়িতে নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করেন। শুরু হয় তল্লাশি। কিন্তু পড়ুয়ার কোনও হদিশ মেলে না।

    তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, নিখোঁজ হওয়ার দিন জহরলালের ডেবিট কার্ড দিয়ে দুর্গাপুরের একটি এটিএম থেকে তিন হাজার টাকা তোলা হয়েছিল। এর পরে দুর্গাপুরের বিভিন্ন এলাকাতেই তল্লাশি চালাচ্ছিলেন তদন্তকারীরা। কিন্তু এর পরেই ৭ ফেব্রুয়ারি ওই ডেবিট কার্ড দিয়ে ঋষিকেশ থেকে ১০ হাজার টাকা তোলার পরেই নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়ায়। তা হলে কি দুর্গাপুর থেকে ট্রেনে করে ঋষিকেশ চলে গিয়েছেন জহরলাল? এখন এই প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।

    জহরলালের বাবা বনমালি গড়াই পেশায় কৃষক। তিনি বলেন, ‘অনেক টাকা খরচ করে পড়ানো হচ্ছে। ভালো রেজ়াল্ট না করলে টাকাগুলো জলে যাবে। এই ভেবে মানসিক অবসাদে ভুগত। আমরা অনেক বুঝিয়েছি। কিন্তু শুনত না।’ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বি-জ়োন ফাঁড়ির পুলিশ। এই প্রসঙ্গে দুর্গাপুরের ডিসি (পূর্ব) অভিষেক গুপ্তা বলেন, ‘মোবাইলের সুইচড অফ থাকায় টাওয়ারের লোকেশন পাওয়া যাচ্ছে না। তবে ওই ছাত্রের খোঁজে তল্লাশি চলছে।’

  • Link to this news (এই সময়)