ইতিহাসে প্রথম! টয়ট্রেনে মহিলা টিকিট কালেক্টর সরিতা
আজকাল | ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: হেরিটেজ টয়ট্রেনের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে নিজের নাম লেখালেন পাহাড়ের মেয়ে সরিতা ইয়োলমো। দার্জিলিং হিমালয়ান রেলের হেরিটেজ টয়ট্রেনে প্রথম মহিলা টিকিট কালেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে নজির গড়লেন তিনি। গত ৫ ফেব্রুয়ারি নিউ জলপাইগুড়ি থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত টয়ট্রেনের সিনিয়র সিটিসি হিসেবে কাজ করেন সরিতা। রবিবার তাঁর এই নতুন দায়িত্বে দ্বিতীয় দিন ছিল।
দার্জিলিংয়ের সোনাদায় জন্ম সরিতার। বর্তমানে কর্মসূত্রে তিনি শিলিগুড়ির উপকণ্ঠে দাগাপুরে বসবাস করেন। দীর্ঘদিন ধরে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনের সিটিসি হিসেবে কাজ করছেন তিনি। নতুন দায়িত্বের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে সরিতা জানান, পাহাড়ের মেয়ে হয়ে হেরিটেজ টয়ট্রেনে পাহাড়ি পথে যাত্রা করা তাঁর কাছে এক আলাদা অনুভূতি।
প্রথম দিন যাত্রীদের কাছ থেকে যে ভালোবাসা ও অভ্যর্থনা পেয়েছেন, তা তাঁর কাছে আজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
সরিতা বলেন, পর্যটকরা সকলে এগিয়ে এসে ট্রেনের মধ্যেই তাঁর সঙ্গে ছবি তুলেছেন। হেরিটেজ টয়ট্রেনের প্রথম মহিলা টিকিট কালেক্টর হিসেবে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে পেরে পর্যটকরাও উচ্ছ্বসিত ছিলেন। অনেকেই জানান, এই ছবি তাঁদের জীবনের অমূল্য স্মৃতি হয়ে থাকবে। যাত্রীদের এমন প্রতিক্রিয়া তাঁকে নতুন দায়িত্বে আরও আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে পুরুষশাসিত বলে পরিচিত এই দায়িত্বে অদৃশ্য প্রাচীর ভেঙে নারীর অগ্রগতির বার্তা দিলেন সরিতা ইয়োলমো। তিনি জানান, টিকিট কালেক্টর হিসেবে দূরপাল্লার ট্রেনেও আগেই ডিউটি করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। তবে হেরিটেজ টয়ট্রেনে এই প্রথম কাজ। যে পাহাড়ের কোলে জন্ম ও বেড়ে ওঠা, সেই পাহাড়ি পথে চলা টয়ট্রেনে দায়িত্ব পালন করা তাঁর কাছে এক অনন্য মুহূর্ত।
দার্জিলিং হিমালয়ান রেলের ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরি জানান, "এখনও পর্যন্ত টয়ট্রেনে কোনও মহিলা টিকিট কালেক্টরের রেকর্ড পাওয়া যায়নি।" সরিতা ইয়োলমোর এই কৃতিত্ব আগামী দিনে বহু নারীকে বড় স্বপ্ন দেখাতে অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে তিনি মনে করেন।
উল্লেখ্য, সরিতা দেবীর স্বামীও রেলের কর্মী ছিলেন। জানা গিয়েছে, তিনি এক বছর আগে অবসর নিয়েছেন। সরিতা জানান, তাঁর কন্যা ও স্বামীর উৎসাহই তাঁকে এই সাফল্যের পথে এগিয়ে যেতে শক্তি জুগিয়েছে। ব্রিটিশ আমলে চালু হওয়া টয়ট্রেন আজ ভারতীয় রেলের গর্ব- আর সেই ঐতিহ্যবাহী ট্রেনের প্রথম মহিলা টিকিট কালেক্টর হতে পারা তাঁর কাছে গর্বের বিষয় বলেই জানান তিনি।