অরূপ লাহা: স্বাধীনতারাও অনেক আগে, প্রায় একশো বছর আগে পৃথিবীতে এসেছিলেন। এখন ভালো করে হাঁটতে পারেন না, চোখের দৃষ্টিও ঝাপসা, পরিবারের আর্থিক অবস্থাও নড়বড়ে। তারপরেও ১০৪ বছরের ইব্রাহিমের কপালে জোটেনি বার্ধক্যভাতা। পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর বিধানসভার বত্রিশবিঘা গ্রামের বৃদ্ধ শেখ ইব্রাহিমের হাতের আঙ্গুলের ছাপ না ওঠার অজুহাতে তাঁর বার্ধক্য ভাতা জোটেনি। ভোটের মুখে এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই তুমুল শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
জামালপুর ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার অখ্যাত গ্রাম বত্রিশবিঘা। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই গ্রামের আদি বাসিন্দা হলেন শেখ ইব্রাহিম। তিনি দাবি করেছেন, ১৩২৯ বঙ্গাব্দের মাঘ মাসে তাঁর জন্ম। সেই অনুযায়ী বর্তমানে তাঁর বয়স ১০৪ বছর। শেখ ইব্রাহিম জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর রাজ্যের মানুষ নানা প্রকল্পের সুবিধা পেতে শুরু করেন। তা দেখে তিনি বার্ধক্য ভাতা পাওয়ার জন্য আবেদন করেন। কিন্তু বার্ধক্য ভাতা তিনি পাননি । হয়তো কিছু ভুল ভ্রান্তি হয়েছে এমনটা ধরে নিয়ে ফের আর একবার তিনি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে আবেদন ফর্ম পূর্রণ করে প্রশাসনের দফতরে জমা করে ছিলেন। কিন্তু তার পরেও বার্ধক্য ভাতা পাওয়ার সৌভাগ্য আজ অবধি তাঁর হয়নি।
ঠিক কি কারণে আপনার বার্ধক্য ভাতা পাওয়া হল না তার কিছু জানতে পেরেছেন? এই প্রশ্নের উত্তরে দিতে গিয়ে শেখ ইব্রাহিম তাঁর বাম হাতের বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বলেন, আমার হাতের আঙুলের ছাপ নাকি উঠছে না। এই অজুহাতের কথাই আমায় বলা হয়েছে।
এই বিষয়ে জামালপুরের বিডিও পার্থসারথী দে বলেন, এমনটা তো হওয়ার কথা নয়। কেননা,বার্ধক্য ভাতা পেতে চেয়ে আবেদন করা কোন ব্যক্তির আঙ্গুলের ছাপ তো আমাদের লাগে না। আমাদের লাগে,নির্ভুল আবেদনপত্র, আবেদনকারীর বয়সের প্রমাণপত্র, আধার কার্ড, ভোটার কার্ড আর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্য। বিডিও বলেন, আমার মনে হচ্ছে শেখ ইব্রাহিমের বার্ধক্য ভাতা হয়তো অনুমোদন হয়ে গেছে। কিন্তু ব্যাঙ্কিং কোনও সমস্যার কারণে উনি বার্ধক্য ভাতা হাতে পাচ্ছেন না।
যদিও আঙ্গুলের ছাপ না ওঠার কারণে কেউ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন নি, এই যুক্তি একদমই মানতে চাননি স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইণ্ডিয়ার জামালপুরের শুঁড়েকালনা ব্রাঞ্চের ম্যানেজার কৃষ্ণ নন্দন কুমার পোদ্দার। তিনি জানান,ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য হাতের আঙ্গুলের ছাপ লাগে না। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট কেউ খুলতে চাইলে তাঁকে তাঁর সাম্প্রতিক সময়ের ফটো, ভোটার ও আধার কার্ডের তথ্য সহ সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক থেকে দেওয়া ফর্ম পূরণ করে জমা করতে হয়। এই নিয়ম মেনে প্রবীণ শেখ ইব্রাহিম যদি তাঁর ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলতে চান অবশ্যই ওঁর অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়া হবে। এমনটাই জানান কৃষ্ণ নন্দন কুমার পোদ্দার।
এদিকে জীবনের শতবর্ষ পার করেও বৃদ্ধর বার্ধক্য ভাতা না পাওয়ার পিছনে কারণ যাই থাক না কেন,বিরোধীরা অবশ্য এ নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন,“ভোটের মুখে সারা বাংলা জুড়ে “উন্নয়ন পাঁচালির“ গাড়ি ঘোরাচ্ছে তৃণমূল। কিন্তু বাস্তবে বাংলার মানুষের কি উন্নয়ন হয়েছে সেটা ১০৪বছর বয়সী জামালপুরের প্রবীণ বাসিন্দা শেখ ইব্রাহিমের বার্ধক্য ভাতা না পাওয়ার ঘটনাই প্রমাণ করে দিচ্ছে ।