দিল্লির বুরারি কাণ্ডের পুনরাবৃত্তি মথুরায়।
উত্তরপ্রদেশের মথুরার মহাবন জেলার একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে পাঁচ জনের দেহ। মৃতরা একই পরিবারের সদস্য। তাদের মধ্যে তিন জন শিশু। মঙ্গলবার ওই দেহগুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের সন্দেহ ওই পরিবারের সদস্যরা এক সঙ্গে পরিকল্পনা করে আত্মহত্যা করেছেন। বাড়ি থেকে একটি সুইসাইড নোট এবং ভিডিয়ো উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার মহাবন থানার খাকবরপুর গ্রাম থেকে উদ্ধার হয়েছে এক ব্যক্তি, তাঁর স্ত্রী এবং তিন সন্তানের দেহ। মৃতদের নাম মনীশ কুমার (৩০), তাঁর স্ত্রী সীমা (৩২) হানি (৮), প্রিয়াংশী (৬) এবং পঙ্কজ (৩)।
পুলিশ সূত্রে খবর, ওই বাড়ির রান্নাঘরের দেওয়ালে ‘আমরা আত্মহত্যা করছি’ লেখা ছিল। এছাড়াও ওই বাড়ি থেকে একটি সুইসাইড নোট এবং ভিডিয়ো উদ্ধার হয়েছে। ঘরের ভিতর থেকে একটি দুধভর্তি গ্লাসও উদ্ধার হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে পুলিশের সন্দেহ, বিষ মেশানো দুধ পান করেই ওই পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। পেশায় কৃষক মনীশ কুমার পরিবারের অন্য সদস্যদের ওই দুধ খাওয়ানোর পরে নিজেও আত্মঘাতী হয়েছে বলেও ধারণা পুলিশের।
মথুরার সিনিয়র পুলিশ সুপার (এসএসপি) শ্লোক কুমার জানিয়েছেন, প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে পরিকল্পনা করেই এক সঙ্গে আত্মঘাতী হয়েছেন ওই পরিবারের সদস্যরা। কী কারণে তাঁরা এই চরম পদক্ষেপ করেছেন তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, ওই বাড়ির পাশেই থাকেন মনীশের দুই ভাই। তাঁরা এবং এলাকার লোকজন মঙ্গলবার সকাল থেকে বাড়ির ভেতর কোনও রকম সাড়া-শব্দ পাননি। এই নিয়ে সন্দেহ হয় তাঁদের। দরজা বন্ধ থাকার কারণে জানালা দিয়ে উঁকি দিতেই চমকে ওঠেন তাঁরা। দেখেন ওই দম্পতি এবং তাঁদের সন্তানরা মেঝে পড়ে আছেন। পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে তাঁদের দেহ উদ্ধার করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৮ সালে মনীশ ও সীমার বিয়ে হয়। তাঁদের মধ্যে কোনও রকম অশান্তি ছিল না বলেও জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা। তবে এই নিয়ে স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে দিল্লির একটি বাড়ি থেকে একই পরিবারের ১১ জনের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছিল। কুসংস্কারের প্রভাবে গণ-আত্মহত্যা করেছিলেন তাঁরা। মথুরার এই ঘটনার পিছনে কোন রহস্য আছে তা খতিয়ে দেখার কাজ শুরু করেছে পুলিশ।