• বয়স বাড়লেও কমে গিয়েছে উচ্চতা! কলকাতা পুলিশের নিয়োগ পরীক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগ
    এই সময় | ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়: বয়স বাড়ছে, উচ্চতা কমছে!

    কলকাতা পুলিশের নিয়োগ পরীক্ষায় যে অভিযোগ উঠেছে, তা এক বাক্যে এ ভাবেই বলা যায়। বছর দুয়েক আগে পুলিশের একটি নিয়োগ পরীক্ষায় প্রার্থীর যে উচ্চতা ছিল, সেটাই সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশে নিয়োগের অন্য একটি পরীক্ষায় কমে গেল! এ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কারণ যাঁদের সঙ্গে এমন ঘটেছে, সেই ১৫ জন ‘অযোগ্য’ প্রার্থীর দাবি, এমন আজব কাণ্ড চ্যালেঞ্জ করলেও তাঁদের এর বিরুদ্ধে আবেদনই করতে দেওয়া হচ্ছে না। অতএব জল গড়িয়েছে হাইকোর্টে। মঙ্গলবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড এই প্রার্থীদের উচ্চতার রিপোর্ট এবং বক্তব্য জানাবে আদালতকে।

    রাজ্য পুলিশের কনস্টেবল নিয়োগের পরীক্ষায় এই দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রার্থীদের একাংশের দাবি, তাঁদের ইচ্ছাকৃত ভাবে বাদ দিতেই এ ভাবে উচ্চতা কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর আগে লিখিত পরীক্ষা নিয়েও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। গত সপ্তাহেই কনস্টেবল নিয়োগের পরীক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় লিখিত পরীক্ষার যাবতীয় তথ্য দিয়ে প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিল এই আদালত।

    পুলিশে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ফিজ়িক্যাল মেজ়ারমেন্ট টেস্ট (পিএমটি) এবং ফিজ়িক্যাল এফিশিয়েন্সি টেস্ট (পিএটি) হয় একই দিনে। পিএমটি উত্তার্ণরাই পিএটি–তে অংশ নিতে পারেন। এই পরীক্ষায় কোনও অনিয়মের অভিযোগ থাকলে ওই একই দিনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তা জানাতে হয় পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের বিধি মেনে। ১৫ জন মামলাকারীর আইনজীবী বিশ্বব্রত বসু মল্লিক আদালতে অভিযোগ করেন, কোনও অজ্ঞাত কারণে মাঠে পিএমটি–র সময়ে দেখা যাচ্ছে প্রার্থীদের উচ্চতা কমে গিয়েছে। অথচ তাঁদের অনেকেই এর আগে পুলিশের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছেন। ফলে প্রার্থীদের কাছে তাঁদের দেহের নানা প্যারামিটার রয়েছে। সরকারি চাকরির পরীক্ষার নিয়মমাফিক তাঁরা এ নিয়ে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের থেকে সার্টিফিকেটও নিয়েছেন।

    কিন্তু সেই উচ্চতাই রাতারাতি কমে গেল কোন জাদুমন্ত্রে! বিশ্বব্রত আরও অভিযোগ করেন, নথি নিয়ে প্রার্থীরা কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানাতে গেলে প্রথমে নানা যুক্তি দেখিয়ে তাঁদের ফেরানোর চেষ্টা হয়। পরে তাঁদের মধ্যে চার জনকে অভিযোগ জানানোর সুযোগ দেওয়া হলেও, নিয়োগ কর্তৃপক্ষ নিজেদের নথিতে লেখা উচ্চতার মাপেই অনড় থাকেন। তাঁর অভিযোগ, ‘নিয়োগ ঘিরে ব্যাপক অনিয়ম হচ্ছে।’ এই মামলার আরও দুই আইনজীবী কাজি আর্দান আলি এবং অষ্মিতা মিত্রের অভিযোগ, স্কুলে নিয়োগ দুর্নীতির মতোই এই পুলিশের নিয়োগের ক্ষেত্রেও দুর্নীতি হয়েছে। একই দিনে পিএমটি, পিএটি ও সেই দিনেই কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানোর বিধিই অনেক গোলমালের জন্ম দিচ্ছে বলে তাঁদের দাবি। যদিও রাজ্যের আইনজীবী কোর্টে দাবি করেন, কোনও দুর্নীতি হয়নি।

  • Link to this news (এই সময়)