• CBSE 2026: লাল কালিতে নয়, টুয়েলভে অন–স্ক্রিন মার্কিং চালুর সিদ্ধান্ত বোর্ডের
    এই সময় | ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়: বোর্ড পরীক্ষার মূল্যায়নে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনছে সিবিএসই। এ বছরই দ্বাদশের বোর্ড পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে অন-স্ক্রিন মার্কিং (ওএসএম) পদ্ধতি চালু করছে বোর্ড। এই প্রক্রিয়ায় উত্তরপত্র স্ক্যান করে অন–স্ক্রিন মূল্যায়ন ও নম্বর দেওয়া হয়। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি এই পরীক্ষা শুরু হয়ে চলবে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত। তবে দশমের পরীক্ষার খাতা চিরাচরিত পদ্ধতিতেই হবে।

    বোর্ডকর্তাদের মতে, টুয়েলভের নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরীক্ষার্থীর প্রাপ্ত নম্বর হিসেবে ভুলের আশঙ্কা থাকবে না, কম সময়ে ফলপ্রকাশও সম্ভব হবে। তা ছাড়া মূল্যায়ন কেন্দ্রের বদলে নিজেদের স্কুলে বসে খাতা দেখতে পারবেন পরীক্ষকরা, অতিরিক্ত এগজ়ামিনারের প্রয়োজন হবে না। পঠনপাঠনের জন্য বেশি সময় মিলবে। রেজ়াল্ট বেরোনোর পরে রিভিউয়ের আবেদন কমবে। বিশ্বের নানা প্রান্তে থাকা সিবিএসই স্কুলের শিক্ষক–শিক্ষিকারা এই প্রক্রিয়ায় যোগ দিতে পারবেন। একই সঙ্গে, ডিজিটাল মূল্যায়নে কাগজের ব্যবহার কমায় পরিবেশরক্ষাতেও জোর দেওয়া যাবে। উত্তরপত্র স্ক্যানিংয়ের ফলে এড়ানো যাবে খাতা পাঠানোর ঝক্কি। বিজ্ঞপ্তি জারি করে বোর্ড জানিয়েছে, ভারত-সহ ২৬টি দেশে প্রতি বছর প্রায় ৪৬ লক্ষ স্টুডেন্ট তাদের পরীক্ষায় বসে। বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র মূল্যায়নকে ত্রুটিমুক্ত, স্বচ্ছ ও দ্রুততর করাই এর লক্ষ্য। পরীক্ষা নিয়ামক সংযম ভরদ্বাজ সোমবার বোর্ডের সব স্কুলের প্রধানদের এই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন।

    পদ্ধতি চালুর আগে যথাযথ প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতিতেও জোর দিচ্ছে বোর্ড। ওএএসআইএস আইডি (সিবিএসই–র শিক্ষা সংক্রান্ত অনলাইন সার্ভিস। যার মাধ্যমে স্কুলগুলি টিচারদের তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পরীক্ষার ডিউটি ইত্যাদি ম্যানেজ করে) থাকা শিক্ষক–শিক্ষিকাদের সিস্টেমে লগ-ইন করে কাজের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। একাধিক ড্রাই রান, প্রশিক্ষণ, সমস্যা সমাধানে কলসেন্টার চালু এবং ভিডিয়ো তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে বোর্ডের। সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছে শিক্ষা মহলের বড় অংশ। প্রযুক্তিগত সমস্যার আশঙ্কাও তেমন নেই বলে স্কুল–প্রধানদের দাবি।

    অভিনব ভারতী হাইস্কুলের অধ্যক্ষা শ্রাবণী সামন্ত বলেন, ‘করোনার টেনের পরীক্ষার্থীদের জন্য অন-স্ক্রিন মার্কিং চালু করেছিল আগে সিবিএসই। সে জন্য টিচারদের প্রশিক্ষণ হলেও পরে তা বন্ধ হয়ে যায়। এ বার সেটাই দ্বাদশে চালু হচ্ছে।’ সল্টলেকের ভবন’স জিকে বিদ্যামন্দিরের অধ্যক্ষ অরুণকুমার দাশগুপ্তের কথায়, ‘এতে পরীক্ষকদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযোগ তোলা যাবে না। পুরো খাতা দেখা না হলে সিস্টেম উত্তরপত্র গ্রহণও করবে না। তবে পেনের জায়গায় কম্পিউটারের মাউস, কি–প্যাডে খাতা দেখায় সড়গড় হতে কিছুটা সময় লাগবে।’

  • Link to this news (এই সময়)