• ১২-১৪ ঘণ্টা ডিউটি, সিভিক ভলান্টিয়ারের মৃত্যুতে বৈষম্য নিয়ে সরব সহকর্মীরা
    এই সময় | ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়, শিলিগুড়ি: পুলিশের হোমগার্ড, কনস্টেবলদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রায় একই কাজ করলেও বেতনে বৈষম্য রয়েছে। নেই কোনও স্বাস্থ্যবীমা। সোমবার ফুলবাড়িতে ডাবগ্রাম ১২ ব্যাটালিয়নে এক সিভিক ভলান্টিয়ারের মৃত্যুতে নতুন করে ক্ষোভ প্রকাশ্যে এসেছে। অভিযোগ, সিভিকদের নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা করানো হয় না। বেশিরভাগ সিভিককে ১২-১৪ ঘণ্টা করে ডিউটি করতে হচ্ছে। সহজে ছুটি মেলে না। মঙ্গলবার এই আক্ষেপের কথা জানিয়েছেন শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারের সিভিক ভলান্টিয়াররা।

    ট্রেনিং নিতে আসা কোচবিহারের জাহিদুল ইসলাম বলেন, 'শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আমাদের এক বন্ধুর মৃত্যু হয়েছে ব্যাটালিয়নের ভিতরেই। সময়মতো উপযুক্ত চিকিৎসা হলে পঙ্কজের মৃত্যু হতো না।' আলিপুরদুয়ারের স্বপন বর্মন বলেন, 'নিয়োগের সময়ে আট ঘণ্টা কাজের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু এখন প্রায় ১২ ঘণ্টা করেই কাজ করতে হয় আমাদের। বিশেষ পরিস্থিতিতে ১৪-১৫ ঘণ্টাও কাজ করতে হয়।' রাস্তায় ডিউটি পড়লে সমস্যা হয় মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ারদের। শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটে কর্মরত তানিয়া চক্রবর্তী বলেন, 'হাইওয়ে বা নির্জন জায়গাগুলিতে খাবারের হোটেল ও শৌচালয়ের অভাব রয়েছে। ফলে সমস্যা হয়।'

    সোমবারের ঘটনায় রাজ্য সরকারকে দায়ী করেছেন ডাবগ্রাম ফুলবাড়ির বিজেপি বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, 'সোমবার এক সিভিক ভলান্টিয়ারের মৃত্যুর খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে পৌঁছই। কিন্তু পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা আমাকে তাঁদের সামনে যেতে দেয়নি। ওঁদের প্রতি বঞ্চনা করা হচ্ছে।' শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ বলেন, 'সিভিক ভলান্টিয়ারদের বেতন বৈষম্য ও অন্যান্য বিষয় তো রয়েছেই, তার মধ্যে সরকারের চূড়ান্ত অমানবিক রূপ দেখা যাচ্ছে। সিভিক ভলান্টিয়াররা এখন আর এই সরকারের প্রতি আস্থা রাখতে পারছে না।' পাল্টা উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহ বলেন, 'তৃণমূল সরকার অমানবিক নয়। মৃত সিভিক ভলান্টিয়ার উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ পাবেন। ওঁদের সমস্যার বিষয়টি আমি শুনেছি। আমি নিজে বিষয়গুলো মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরব।'

  • Link to this news (এই সময়)