• স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ট্র্যাফিক চেকিংয়েও নজর থাকবে বডি ক্যামেরায়
    এই সময় | ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়, তমলুক: জেলায় প্রায় প্রতিদিন কোথাও না কোথাও ঘটছে ছোট-বড় পথ দুর্ঘটনা। পূর্ব মেদিনীপুরের জাতীয় ও রাজ্য সড়ক জুড়ে যাত্রিবাহী বাস থেকে শুরু করে গাড়ি-সবকিছুরই এখন স্বাস্থ্য পরীক্ষা চলছে। কিন্তু চেকিংয়ের সময়ে দেখা যায়, গাড়িচালক ও পরিবহণ দপ্তরের আধিকারিকদের মধ্যে বচসা বা বিতর্কের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। অনেক সময়ে গাড়ির কাগজপত্র ও নিয়মাবলী ঠিক থাকলেও ফাইন করা হয়, এমনটাই অভিযোগ তোলেন গাড়ির চালক ও মালিকেরা। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই সমস্ত চেকিংয়ের সময়ে বডি ক্যামেরা বাধ্যতামূলক করল পরিবহণ দপ্তর। মঙ্গলবার জেলা প্রশাসনিক ভবনের সামনে আনুষ্ঠানিক ভাবে সমস্ত আধিকারিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বডি ক্যামেরা। এ দিন হলদিয়া ও মেচেদা জাতীয় সড়কে নিমতৌড়ি এলাকায় যাত্রিবাহী বাস থেকে ছোট গাড়ি পর্যন্ত একাধিক যানবাহনে চেকিং চালান আধিকারিকরা।

    প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী, বডি ক্যামেরায় পুরো চেকিং প্রক্রিয়ার রেকর্ড থাকবে। ফলে একদিকে যেমন কাজের স্বচ্ছতা বজায় থাকবে, তেমনই গাড়ি মালিক বা চালকদের প্রশ্নেরও সঠিক উত্তর দিতে পারবেন আধিকারিকরা। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় দূরপাল্লা ও লোকাল রুটে প্রায় হাজার খানেক বাস চলাচল করে। এ ছাড়া দিঘা, মন্দারমণি-সহ একাধিক পর্যটন কেন্দ্র থাকায় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছোট বড় যাত্রিবাহী গাড়ি ব্যাপক পরিমাণে চলাচল করে। মাস খানেক আগে ট্র্যাফিক পুলিশের ক্ষেত্রেও বডি ক্যামেরা ব্যবহারের নির্দেশ জারি করেছিল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশ। এ বার সেই পথেই হাঁটল জেলা পরিবহণ দপ্তর।

    বাসচালক সর্বানন্দ প্রধান বলেন, 'অনেক সময়ে দেখা যায়, কিছু চালক নিয়ম মানেন না বা গাড়ির সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ করেন না। আবার কেউ কেউ চেকিংয়ের সময়ে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এখন ক্যামেরা থাকলে দুই পক্ষের সুবিধা হবে। আমরাও চাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ভাবে নিয়মিত চেকিং হোক।' আঞ্চলিক পরিবহণ দপ্তরের আধিকারিক সঞ্জয় হালদার বলেন, 'জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। সম্ভবত পশ্চিমবঙ্গে এই জেলায় প্রথম পরিবহণ আধিকারিকদের বডি ক্যামেরা ব্যবহারের নির্দেশ জারি হয়েছে। গাড়ি চেকিংয়ের সময়ে নানা পরিস্থিতি তৈরি হয়-এখন ক্যামেরা থাকলে তা অনেকটাই এড়ানো যাবে। আমরা আরও খোলা মনে কাজ করতে পারব।'

  • Link to this news (এই সময়)