আজকাল ওয়েবডেস্ক: ট্রাকের ধাক্কায় মৃত্যু হল তৃণমুলের সংখ্যালঘু সদর ২ ব্লক সভাপতি লুৎফর রহমানের৷ গুরুতর আহত তাঁর একমাত্র কন্যা জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন।
জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে মোটরবাইক করে মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন তৃণমূল নেতা। সেসময় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। বাইকে ধাক্কা মেরে টেনে নিয়ে গেল কন্টেনার ট্রাক। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই তৃণমূল নেতার। গুরুতর জখম ওই তৃণমূল নেতার মেয়ে। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে জলপাইগুড়ি শহরের গোশালা মোড়ের কাছে। ওই দুর্ঘটনার পরেই উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। ঘটনাস্থলে পুলিশ গেলে ক্ষোভ বাড়ে! পুলিশের গাড়িও ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ। দুর্ঘটনা ও পরবর্তী উত্তেজনার কারণে দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকে জাতীয় সড়ক।
স্থানীয় সুত্রে খবর, তৃণমুল নেতা লুৎফর রহমান তাঁর মেয়েকে টিউশন থেকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন রাত সাড়ে দশটা নাগাদ। গোশালা মোড় এলাকায় জাতীয় সড়কে একটি ট্রাক পেছন থেকে কন্যা সহ তৃণমূল নেতাকে ধাক্কা মারে। রাস্তায় বাবা–মেয়ে দু’জনেই ছিটকে পড়েন। ওই তৃণমূল নেতাকেও কিছু দূর টেনে নিয়ে গিয়েছিল ওই ট্রাকটি। ট্রাকের নিচে আটকেছিল বাইকটি। ওই অবস্থাতেই ট্রাকচালক প্রায় ২ কিলোমিটার গাড়ি চালিয়ে পালিয়েছিল বলে খবর। দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২ কিমি দূরে বাইকটি উদ্ধার হয়।
অবশেষে আসাম মোড় এলাকায় বাসিন্দারা ট্রাকটি আটকে দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তৃণমুল নেতা ও তাঁর মেয়েকে মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তৃণমুল নেতাকে মৃত বলে ঘোষণা করে। গুরুতর আহত অবস্থায় ১৪ বছরের মেয়ের চিকিৎসা চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জাতীয় সড়কের গুরুতপূর্ণ মোড় গোশালা মোড়ে রাত ৮টার পর কোনও ট্রাফিক পুলিশ থাকে না। স্থানীয়দের দাবি, এর আগেও একই এলাকায় দুর্ঘটনায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে ওই দুর্ঘটনা, নেতার মৃত্যুর খবর শুনে ক্ষোভ বাড়ে স্থানীয়দের একাংশের মধ্যে। রাস্তায় নেমে শুরু হয় প্রতিবাদ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র্যাফ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ ঘাতক গাড়িটিকে আটক করেছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।