• বৃহস্পতিবার ভারত বনধ, কী কী বন্ধ থাকতে পারে, বাংলায় কতটা প্রভাব?
    আজ তক | ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • ১০টি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নের যৌথ মঞ্চের ডাকে ১২ ফেব্রুয়ারি দেশজুড়ে ভারত বনধের ডাক দেওয়া হয়েছে। এই ধর্মঘটে সমর্থন জানিয়েছে একাধিক কৃষক সংগঠনও। নতুন শ্রম আইন, বেসরকারীকরণ, মজুরি বৃদ্ধি, সামাজিক সুরক্ষা এবং প্রস্তাবিত ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে উদ্বেগের জেরেই এই বনধের আয়োজন।

    কেন এই বনধ?
    আন্দোলনকারী সংগঠনগুলির দাবি, ২৯টি শ্রম আইন বদলে যে চারটি নতুন শ্রম আইন আনা হয়েছে, তাতে শ্রমিকদের অধিকার খর্ব হচ্ছে এবং নিয়োগ ও ছাঁটাই সহজ হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি, কৃষক সংগঠনগুলির আশঙ্কা-ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হলে দেশীয় কৃষি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

    কী কী প্রভাব পড়তে পারে?
    ব্যাঙ্ক পরিষেবা:
    AIBEA, AIBOA, BEFI-সহ একাধিক ব্যাঙ্কিং ইউনিয়ন ধর্মঘটে অংশ নিচ্ছে। যদিও রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ছুটি ঘোষণা করেনি, তবুও শাখা-স্তরের পরিষেবা, যেমন নগদ লেনদেন বা চেক ক্লিয়ারেন্সে বিলম্ব হতে পারে। অনলাইন ব্যাঙ্কিং ও এটিএম পরিষেবা সচল থাকবে। কলকাতার এক বেসরকারি ব্যাঙ্ককর্মী জানালেন, তাঁদের ব্যাঙ্ক খোলাই থাকবে। 

    পরিবহণ:
    রাস্তা অবরোধ বা বিক্ষোভ হলে কিছু এলাকায় বাস, ট্যাক্সি ও স্থানীয় পরিবহণ ব্যাহত হতে পারে। অংশগ্রহণের মাত্রার উপর নির্ভর করবে পরিস্থিতি। সরকারি অফিসে উপস্থিতিও কম হতে পারে।

    বাজার ও দফতর:
    বড় শহরের কিছু বাজার, দোকানপাট ও সরকারি দফতর আংশিকভাবে প্রভাবিত হতে পারে। তবে সব কিছু সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে, এমন ঘোষণা নেই।

    স্কুল-কলেজ:
    দেশব্যাপী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার কোনও নির্দেশ জারি হয়নি। তবে স্থানীয় পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে কিছু জায়গায় ছুটি ঘোষণা হতে পারে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    কোন পরিষেবা সচল থাকবে?
    হাসপাতাল ও জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা, অ্যাম্বুলেন্স, বিমানবন্দর, বিদ্যুৎ ও জল সরবরাহের মতো অত্যাবশ্যক পরিষেবা স্বাভাবিক থাকবে বলেই আশা। বেসরকারি অফিস ও এটিএম পরিষেবাও চালু থাকার সম্ভাবনা।

    বাংলায় কী প্রভাব?
    পশ্চিমবঙ্গেও একাধিক শ্রমিক সংগঠন বনধে অংশ নিলেও বেশিরভাগই নিচ্ছে না। কিছু সংগঠনের দাবি, বনধের সিদ্ধান্ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তবুও ফলে রাজ্যের কিছু জেলায় বিক্ষোভ বা পথ অবরোধের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে প্রশাসন পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রস্তুত। গণপরিবহণ ও সরকারি পরিষেবায় আংশিক প্রভাব পড়তে পারে, যদিও স্বাভাবিক জনজীবন বজায় রাখার চেষ্টা থাকবে। তবে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তৃণমূল সরকার বনধের বিরুদ্ধে। তাই আগামীকাল বনধের প্রভাব বাংলায় পড়বে না বলেই মনে করা হচ্ছে।

     
  • Link to this news (আজ তক)