দেবব্রত ঘোষ: হাওড়ায় একাকী বৃদ্ধের রহস্যমৃত্য়ু। ফ্ল্যাটেই পাওয়া গেল দেহ। অস্বাভাবিক মামলা রুজু করে তদন্তে পুলিস। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল টিকিয়াপাড়ায়।
স্থানীয় সূত্রে খবর, মৃতের নাম সুমিতা দে। স্বামী হাওড়া আদালতের আইনজীবী ছিলেন। বছর তিনেক আগে প্রয়াত হন তিনি। টিকিয়াপাড়া এলাকার বেলিলিয়াস রোডে ফ্ল্যাটে একাই থাকতেন বছর ষাটেকের ওই বৃদ্ধা। ঘড়িতে তখন সাড়ে বারোটা। আজ, বুধবার দুপুরে ফ্ল্যাটে গিয়ে প্রতিবেশীরা দেখেন, বিছানায় পড়ে রয়েছেন সুমিত। জ্ঞান নেই তাঁর। খবর দেওয়া হয় টিকিয়াপাড়া থানায়। একতলার ফ্ল্য়াট থেকে ওই বৃদ্ধাকে হাওড়া হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিস। সেখানেই তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিত্সকরা। কীভাবে মৃত্যু? প্রাথমিক তদন্তে দেহে কোনও আঘাতের চিহ্ন মেলেনি বলেই খবর।
এর আগে, এক তরুণীর রহস্যমৃত্যুতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল কলকাতায় ফুলবাগানে। পুলিস সূত্রে খবর, মৃতের নাম পুষ্পা কুমারী, বয়স মাত্র ২২। গত দেড় বছর ধরে ফুলবাগানের শিবতলা লেনে একটি বাড়িতে বাবার সঙ্গে ভাড়া থাকতেন তিনি। মাঝেমধ্য়েই এই বাড়িতে যাতায়াত ছিল তাঁর ভাইদেরও।
গত ১৪ জানুয়ারি দুপুরে প্রতিবেশীরা পুষ্পাকে ঘরের ভিতরে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁকে বারবার ডাকাডাকি করা হলেও কোনও সাড়া মেলেনি। এরপর বিষয়টি মেয়েটির বাবা রাজ নারায়ণ শাকে জানান তাঁরা। পরে তিনি বাড়িতে এসে মেয়েটিকে উদ্ধার করে এনআরএস হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এদিকে মুর্শিদাবাদে আবার বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় একই পরিবারের চারজনের দেহ। নলিকাটা অবস্থায় পড়েছিল মা ও মেয়ে, আর বাবার দেহ ঝুলছিল! হাড়হিম ঘটনাটি মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলায়।
পুলিল সূত্রে খবর, মৃত ব্যক্তির নাম মানিক ব্যাপারি। পেশায় তিনি ফল ব্য়বসায়ী। প্রায় এক বছর আগে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে ভগবানগোলার কুছিবাড়ি এলাকায় ভাড়াবাড়িতে ওঠেন তিনি। ওই পরিবারের নদিয়ার বাসিন্দা। কর্মসূত্রে মুর্শিদাবাদে এসেছিলেন তাঁরা। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, পারিবারিক বিবাদের জেরেই এই খুন।
স্থানীয় সূত্রে খবর, বাড়ি থেকে রীতিমতো দুর্গন্ধ বেরোচ্ছিল। তাতেই সন্দেহ হয় প্রতিবেশীদের। এরপর থানায় খবর দেন তাঁরা। পুলিস এসে দরজা ভেঙে চারজনের মৃতদেহ উদ্ধার করে। পুলিস জানিয়েছে, ঘরে ভিতর রক্তের দাগ শুকিয়ে মাটি আঁকড়ে ধরে। মৃত দুই কন্যা সন্তান ১৫ বয়সের তানহা ব্যাপারী ও ছয় বছরের মায়েশা। তবে ঠিক কী কারণে এই হাড়হিম কাণ্ড, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পর জানা যাবে। ঘটনার তদন্তে ভগবানগোলা থানার পুলিস।