• ‘এত অনায়াসে বিভাজন…’, অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে ‘দুই ভারত’ তত্ত্বেই সিলমোহর, খোঁচা অভিষেকের
    এই সময় | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • জন্ম থেকে মৃত্যু— জীবনের প্রতিটি ধাপে ট্যাক্স দিতে হয় ভারতবাসীকে। সংসদে দাঁড়িয়ে কমেডিয়ান বীর দাসের ‘দুই ভারত’-এর কথা তুলে ধরে কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করেছিলেন তৃণমল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেক তাঁর বক্তব্যে জানিয়েছিলেন, একটি বাচ্চা জন্মালে তার প্রয়োজনীয় দুধের জন্যেও বাবা-মাকে ট্যাক্স দিতে হয়। সেই বক্তব্যের বিরোধিতা করে বুধবার কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন বলেন, ‘কোথা থেকে পেয়েছেন এই তথ্য? ২০১৭ সাল থেকেই দুধের উপর থেকে ট্যাক্স উঠে গিয়েছে।’ নির্মলার বক্তব্যের বিরোধিতায় রাতে এক্স হ্যান্ডলে অভিষেক লিখলেন, ‘অর্থমন্ত্রী লোকসভায় আমার বক্তব্যের বিরোধিতা করার আগে আমি যে তথ্য দিয়েছি, সেগুলির উৎস যাচাই করার জন্য সময় বের করলে ভালো হতো। কিন্তু সম্ভবত এত পরিশ্রম এবং বুদ্ধিদীপ্ত কাজ তাঁর থেকে আশা করা যায় না।’

    বাজেট অধিবেশনের বক্তৃতায় দেশের ট্যাক্স কাঠামোর চূড়ান্ত বিরোধিতা করার পাশাপাশি অভিষেক তুলেছিলেন ‘দুই ভারত’ তত্ত্বের কথাও। অভিষেক বলেন, ‘আমি এমন এক ভারত থেকে এসেছি, সেখানে বলা হয় এক ভারত-শ্রেষ্ঠ ভারত। আবার সেখানেই মাতৃভাষাকে সন্দেহের চোখে দেখা হয়। বাংলা বললেই তাঁকে বলা হয় বাংলাদেশি, মাছ খেলেই মুঘল।’ বাঙালি অস্মিতায় আঘাতের সঙ্গে জুড়ে দিয়েছিলেন ভারতীয়দের আজীবন ট্যাক্সের বোঝা টেনে নিয়ে যাওয়ার কথাও। অভিষেক বলেছিলেন, ‘শিশুর জন্মের পরে তাঁর দুধ ও ডায়াপারের জন্য ট্যাক্স, পড়াশোনা শুরু হওয়ার পরে শিক্ষা, বই, নোটবুক, পেন, পেন্সিল— সবকিছুতে ট্যাক্স, উপার্জন শুরু করলে তার উপরে ট্যাক্স, টাকা বাঁচালে এর উপরে ট্যাক্স, খরচ করলে তার উপরেও বসানো হয় ট্যাক্স, কাজে গেলে পেট্রল-ডিজেলে ট্যাক্স, অসুস্থ হলে ডাক্তার, ওষুধের উপরে ট্যাক্স, বৃদ্ধ হলে পেনশন, চিকিৎসায় ট্যাক্স, এবং সর্বোপরি মৃত্যুর পরে শোকসভায় জ্বালানোর জন্য ধূপ কিনতেও পরিবারকে ট্যাক্স দিতে হয়।’

    অভিষেকের এই বক্তব্যকেই কটাক্ষ করে নির্মলা বলেন, ‘উনি খুব চটকদার কথা বলেন, একজন জন্ম থেকেই দুধের জন্য, ডায়াপারের জন্য ট্যাক্স, স্কুল গেলে সেখানেও ট্যাক্স— এগুলো কী ভাবে বলছেন? আমি বলছি, ২০১৭ সালে যখন জিএসটি শুরু হয়েছিল, তখন থেকেই দুধের উপরে কোনও জিএসটি নেই। এই তথ্য কোথা থেকে নিয়ে আসছেন?’

    পাল্টা নির্মলার পুরোনো একটি বক্তব্যকে খোঁচা দিয়ে এক্স হ্যান্ডলে অভিষেক লেখেন, ‘আমি দুটি ভারত থেকে এসেছি। একটি, যেখানে পরিবারগুলিকে মহার্ঘ পেঁয়াজ কিনতে কষ্ট করতে হয়, যেখানে টিকে থাকাটাই একটা উচ্চাকাঙ্খা। এবং আরেকটি, যেখানে দেশের সর্বোচ্চ আর্থিক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তি আকস্মিক ভাবে ঘোষণা করতে পারেন যে তিনি বিরক্ত নন— কারণ তিনি পেঁয়াজ খান না।’ উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে, পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির সময়ে লোকসভায় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন মন্তব্য করেছিলেন যে তিনি এমন একটি পরিবার থেকে এসেছেন, যারা পেঁয়াজ ও রসুন খান না। এর পরেই অভিষেক নির্মলার উদ্দেশে লেখেন, ‘ধন্যবাদ আপনাকে! কেবল দু’টি ভারতকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্যই নয় বরং এত অনায়াসে বিভাজন দেখিয়ে দেওয়ার জন্য।’

    নির্মলার বক্তব্যের ভিডিয়ো শেয়ার করে তৃণমূল কংগ্রেসের এক্স হ্যান্ডলেও লেখা হয়, ‘হয়তো ওদের ভারতে শিশুরা তাজা দুধ পায়। কিন্তু, আসল ভারতে দরিদ্র মায়েরা শিশুকে যে গুঁড়ো দুধ জলে গুলে খাওয়ান, তাতে জিএসটি রয়েছে। হয়তো তাদের ভারতে স্টেশনারি বিনামূল্যে। আমাদের ভারতে, পেন্সিল, ক্রেয়ন, গ্রাফ বই এবং ল্যাব নোটবুকের উপর ১২% কর আরোপ করা হয়। হয়তো তাদের ভারতে স্বাস্থ্য পরিষেবা করমুক্ত। কিন্তু আমাদের ভারতে অ্যানাস্থেটিক্স, মেডিক্যাল অক্সিজেন, ইনসুলিন এবং ডায়াগনস্টিক কিটের উপরে কর আরোপ করা হয়।’

  • Link to this news (এই সময়)