সাইবার প্রতারণার শিকার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনারের ছেলে
আজকাল | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: সাইবার প্রতারণার। সাম্প্রতিককালে এই ঘটনায় জোর চর্চা। প্রাক্তন কলকাতা পুলিশের নগরপাল মনোজ বর্মার ছেলে পীযূষ বর্মা অনলাইন প্রতারণার শিকার। খোয়ালেন ৩০ হাজার টাকা অনলাইন প্রতারণায়। ঘটনাটি ঘটে গত ২৭ জানুয়ারি। উল্লেখ্য, মনোজ বর্মা নিজেই কলকাতা পুলিশের নগরপাল অর্থাৎ কলকাতা পুলিশ কমিশনার পদে কর্মরত ছিলেন।
কলকাতা পুলিশ তদন্তে নেমে ওড়িশার ভুবনেশ্বর থেকে রাকেশ প্রধান (২৪) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে, ২ ফেব্রুয়ারি। ধৃতকে আদালতে পেশ করা হলে তাকে আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পুনরায় পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সাইবার পুলিশ স্টেশন, কলকাতায় দায়ের হওয়া কেস নং ০৩/২৬ (তারিখ ২৮.০১.২০২৬) অনুযায়ী, তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ২০০০-এর ৬৬সি/৬৬ডি ধারা সহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS), ২০২৩-এর একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। অভিযোগকারী পীযূষ বর্মা (২৩), বর্তমানে নিউ দিল্লির লাজপত নগর–২-এ বসবাসকারী এবং স্থায়ীভাবে কলকাতার শেক্সপিয়র সরণির বাসিন্দা।
কীভাবে প্রতারণা?পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পিজিতে থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়ার নাম করে প্রতারকরা ভুক্তভোগীর কাছ থেকে মোট ₹৩০,০৩৩.৯৮ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। এর মধ্যে ভুক্তভোগীর স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার অ্যাকাউন্ট থেকে ₹১২,০৩৪.৯৯ টাকা একটি ইয়েস ব্যাঙ্কের ইউপিআই অ্যাকাউন্টে (স্থানান্তরিত হয়।
ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম পোর্টাল (NCRP)-এ মানি ট্রেল বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রতারণার টাকা পরবর্তীতে ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার একটি অ্যাকাউন্টে, যেটি ওড়িশা শাখার গ্রাহকের, সেখানে পাঠানো হয় এবং সেখান থেকে ভুবনেশ্বরের চন্দ্রশেখরপুর শাখার এটিএম থেকে নগদ তোলা হয়।ব্যাঙ্কের নথি খতিয়ে দেখে পুলিশ জানতে পারে, সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টটি রাকেশ প্রধান নামে এক ব্যক্তির। তার ঠিকানা—দামনা হাটা বস্তি, ফেজ–১, হাউজিং বোর্ড কলোনি, ভুবনেশ্বর, জেলা খোরদা, ওড়িশা– ৭৫১০১৬।
অভিযান ও গ্রেপ্তার:গত ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, চন্দ্রশেখরপুর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সৈলশ্রী বিহারের এলসি কোয়ার্টার্সের প্রথম তলার একটি ভাড়া ঘর থেকে রাকেশ প্রধানকে গ্রেপ্তার করা হয়। যুবকের কাছ থেকে ২টি মোবাইল ফোন ও ১টি সিম কার্ড বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
ধৃতকে ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতায় এনে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই চক্রের সঙ্গে আরও একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে। জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে পুরো চক্রের হদিশ পাওয়ার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি পুলিশের অনুমান, এই পুরো ঘটনার সঙ্গে বিহারের জামতারা গ্যাংয়েরও যোগসূত্র থাকতে পারে। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা।
কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, সাইবার প্রতারণার এই ধরনের ঘটনায় সাধারণ মানুষকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বিশেষ করে অনলাইনে পিজি বা বাড়ি ভাড়ার বিজ্ঞাপন দেখে অর্থ লেনদেনের আগে যথাযথ যাচাই-বাছাই করা অত্যন্ত জরুরি।
তবে এই ঘটনার পর একাধিক মহল থেকে যে প্রশ্ন উঠছে তা হল, যেখানে কলকাতা পুলিশ সাইবার প্রতারণার রুখতে একাধিক পদক্ষেপ প্রতিনিয়ত নিয়ে চলেছে, সেখানে কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন নগরপালের ছেলে যদি সুরক্ষা না পায় তাহলে সাধারণ মানুষের কি হবে?