• ‘কাজ না করলে সরিয়ে দেওয়া হোক সাংসদ, বিধায়ককে’, ‘রাইট টু রিকল’-এর দাবি রাঘবের, কী এই ব্যবস্থা?
    এই সময় | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • দেশের সাধারণ মানুষ ভোট দিয়ে সাংসদ বা বিধায়ককে নির্বাচিত করেন। তা হলে চাইলে তাঁদের ক্ষমতাচ্যুত করতে পারবেন না কেন? বুধবার এই প্রশ্ন তুলেই রাজ্যসভায় ‘রাইট টু রিকল’ (Right to Recall) বা প্রত্যাহারের অধিকার চালুর পক্ষে সওয়াল করলেন আপ (Aam Aadmi Party) সাংসদ রাঘব চাড্ডা (MP Raghav Chadha)। তাঁর কথায়, ‘এটাই হবে গণতন্ত্রের বিমা।’ বিশ্বের ২৪টি গণতান্ত্রিক দেশে এই সুবিধা রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

    গণতন্ত্রে জন প্রতিনিধিদের কাজের মূল্যায়নের কোনও সুযোগ নেই। জায়গা নেই জবাবদিহিরও। একমাত্র পরের নির্বাচনে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া ছাড়া। রাঘবের দাবি, এর ফলে গা-ছাড়া মনোভাব তৈরি হচ্ছে। তাঁর কথায়, ‘ভোটের আগে নেতা জনতার পিছনে ঘোরেন। আর ভোটের পরে জনতা নেতার পিছনে।’ আজকের দ্রুত পরিবর্তনশীল দুনিয়ায় দাঁড়িয়ে পাঁচ বছরের মেয়াদ অত্যন্ত দীর্ঘ বলেও দাবি তাঁর।

    এর পরেই ‘রাইট টু রিকল’-এর দাবি তোলেন রাঘব। সাংসদ বা বিধায়ক কাজ না করলে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার কোনও ব্যবস্থা নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভোটাররা যদি কোনও নেতাকে নির্বাচিত করতে পারেন, তা হলে তাঁকে বরখাস্ত করার অধিকারও থাকা উচিত। সেটাই হবে রাইট টু রিকল।’ রাঘবের আরও দাবি, আমেরিকার, সুইৎজ়ারল্যান্ড-সহ বিশ্বের অন্তত ২৪টি দেশে রাইট টু রিকলের মাধ্যমে প্রতিনিধি প্রত্যাহার করে নেওয়ার ব্যবস্থা আছে।

    ‘রাইট টু রিকল’ হলো এমন ব্যবস্থা যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ কোনও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদ থেকে সরিয়ে দিতে পারেন। ধরে নেওয়া যাক, কোনও জন প্রতিনিধির কাজে অসন্তুষ্ট হয়ে তাঁর বিধানসভা বা সংসদীয় ক্ষেত্রের ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ বাসিন্দা লিখিত ভাবে ‘রাইট টু রিকল’-এর দাবি তুললেন। নির্দিষ্ট সংখ্যক স্বাক্ষর জমা পড়লে ‘রিকল ইলেকশন’ (Recall Election) হবে। তাতে যদি সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ চান, তা হলে জন প্রতিনিধিকে পদচ্যুত করবে প্রশাসন।

    দেশের জাতীয় স্তরে এই ব্যবস্থা নেই। তবে রাঘবের দাবি, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, বিহার, ছত্তিসগড়ের মতো কিছু রাজ্যের পঞ্চায়েত এবং পুরসভায় এই ব্যবস্থা রয়েছে। আমেরিকা, ক্যানাডা, ভেনেজ়ুয়েলা, সুইৎজ়ারল্যান্ডের মতো কিছু দেশেও রাইট টু রিকলের সুবিধা পান ভোটাররা।

    ‘রাইট টু রিকল’-এ জন প্রতিনিধিদের উপরে চাপ থাকে। তাঁরা জানেন, কাজ না করলে তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। তবে একই সঙ্গে এই ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার আশঙ্কা থেকে যায়। ঘনঘন ভোট হলে প্রশাসনের খরচও বাড়ে। রাঘব তাই, নির্বাচনের প্রথম ১৮ মাস কাজের সুযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে চূড়ান্ত ভোটে কমপক্ষে ৫০ শতাংশের সমর্থন থাকলে তবেই সরানোর ব্যবস্থা আনা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

  • Link to this news (এই সময়)