চার দিন ধরে পলাতক থাকার পরে অবশেষে পুলিশের জালে শিবম মিশ্র। উত্তরপ্রদেশের কানপুরে ল্যাম্বরগিনি দুর্ঘটনায় অভিযোগের আঙুল উঠেছে তামাক ব্যবসায়ীর পুত্র শিবমের বিরুদ্ধে। হাইপ্রোফাইল সেই দুর্ঘটনায় তামাক ব্যবসায়ী কে কে মিশ্রের ছেলে শিবম মিশ্রকে বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করল কানপুর পুলিশ।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি কানপুরের ভিআইপি রোডের ঝুলা পার্ক ক্রসিংয়ের কাছে বেপরোয়া ভাবে রাস্তা দিয়ে ছুটছিল একটি ল্যাম্বরগিনি। ১০ কোটি টাকারও বেশি দামের বিলাসবহুল ইতালিয়ান স্পোর্টস গাড়িটি প্রথমে একটি অটো রিকশা এবং পরে একটি বাইকে ধাক্কা মারে। বাইক চালক তৌফিক আহমেদ গাড়ির ধাক্কায় কয়েক মিটার দূরে ছিটকে পড়েন। ঘটনায় কমপক্ষে ছয় জন সাংঘাতিক আহত হন। পরে আহতদের মধ্যে একজন FIR করলে শুরু হয় তদন্ত।
সম্প্রতি একটি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে এসেছে, দুর্ঘটনার পরে গাড়ি থেকে ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত শিবম মিশ্রকে বের করে অন্য একটি গাড়িতে তোলার চেষ্টা করেন তাঁর বাউন্সাররা। এমনকী বাউন্সারদের মধ্যে একজনকে গাড়ির নম্বর প্লেট খুলে ফেলারও চেষ্টা করতে দেখা যায়। কিন্তু বুধবার শিবমের চালকের বয়ানে মামলাটি নাটকীয় মোড় নেয়। মোহন নামের ওই ব্যক্তি দাবি করেন, দুর্ঘটনার সময় শিবম নয়, তিনিই গাড়ি চালাচ্ছিলেন। আদালতের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়, মোহন অভিযোগ করেন যে ধাক্কা লাগার কিছুক্ষণ আগে তার পাশে বসে থাকা শিবম হঠাৎ খিঁচুনি অনুভব করেন। তাঁকে সামলাতে গিয়েই নাকি এই দুর্ঘটনা।
যদিও নিজেদের অবস্থানে অনড় পুলিশ। কানপুরের পুলিশ কমিশনার রঘুবীর লাল জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ এবং অন্যান্য প্রমাণ নিশ্চিত করে যে দুর্ঘটনার সময়ে শিবম মিশ্র গাড়ি চালাচ্ছিলেন। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ভিডিয়োগুলির উল্লেখ করে জানিয়েছেন, পথচারীরা লক্ষ করেছেন, শিবমকেই একজন ব্যক্তিকে চালকের আসন থেকে টেনে বের করে আনছিলেন। এর পাল্টা আবার শিবমের চালক মোহন দাবি করেছিলেন যে গাড়ির স্বয়ংক্রিয় লকিং সিস্টেমের কারণে তিনি বেরিয়ে আসতে দেরি করেন, এরপর তিনি শিবমকে চালকের আসনে নিয়ে যান এবং বেরিয়ে আসেন। এ দিন আদালতে পেশ করা হবে ধৃত শিবম মিশ্রকে।