• ‘New India-তে শোকপালনেও মূল্য দিতে হয়...’, নির্মলাকে চাঁচাছোলা জবাব অভিষেকের
    এই সময় | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • ‘ট্রিপল ট্যাক্স ট্র্যাপ’-এর ফাঁদে হাঁসফাঁস অবস্থা দেশের মধ্যবিত্ত থেকে নিম্নবিত্ত নাগরিকের। সংসদে দাঁড়িয়ে কমেডিয়ান বীর দাসের ‘দুই ভারত’ শব্দবন্ধের উল্লেখ করে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত ট্যাক্স চক্র নিয়ে আক্রমণ শানিয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (TMC MP Abhishek Banerjee)। এর পাল্টা বাংলার ‘বম্ব কালচার’ নিয়ে আক্রমণ শানান কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন (Union Finance Minister Nirmala Sitharaman)। এমনকি তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে তথ্য বিকৃতির অভিযোগ আনেন তিনি। অর্থমন্ত্রীর আক্রমণের জবাবে এক্স হ্যান্ডলের বিস্তারিত পোস্টে আরও একবার তুলে ধরেন কেন্দ্রের ট্যাক্স চক্র।

    মঙ্গলবার অভিষেক তাঁর বক্তব্যে জানিয়েছিলেন, একটি শিশু জন্মালে তার প্রয়োজনীয় দুধের জন্যেও বাবা-মাকে ট্যাক্স দিতে হয়। সেই বক্তব্যের বিরোধিতা করে বুধবার জবাবি ভাষণে নির্মলা বলেন,‘আমি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষণ খুব মনোযোগ দিয়ে শুনেছি। দুঃখের বিষয়, উনি একের পর এক ভুল তথ্য দিয়েছেন। উনি বলেছেন, জন্মের পর থেকেই কর দিতে হয়, দুধে কর আছে, শিক্ষায় জিএসটি আছে— এর কোনওটাই সত্যি নয়। কোথা থেকে পেয়েছেন এই তথ্য? ২০১৭ সাল থেকেই দুধের উপর থেকে ট্যাক্স উঠে গিয়েছে।’ সেই অভিযোগের জবাবে বৃহস্পতিবার এক্স হ্যান্ডলে অভিষেক লিখেছেন,‘অর্থমন্ত্রী একদম ঠিক বলেছেন, তাজা তরল দুধের উপর কোনও জিএসটি নেই। কিন্তু হয়তো তিনি সেই মায়ের কথা শোনেননি, যিনি তাজা দুধ কিনতে পারেন না। বাধ্য হয়ে জলে গুঁড়ো দুধ মিশিয়ে শিশুকে খাইয়ে কোনওমতে সংসার চালান। সেই গুঁড়ো দুধের উপর? ৫% জিএসটি। যা কিনতে পারেন না, তাতে শূন্য কর—আর যা কিনতে বাধ্য হন, তাতে ৫% কর।’

    এখানেই শেষ নয়, নির্মলার দাবি, ২০১৭ সালের জুলাই থেকে শিক্ষা, পেন্সিল, খাতা, শার্পনার এই সবকিছুর উপর জিএসটি শূন্য। অর্থমন্ত্রীর এই দাবিকে নস্যাৎ করে তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা তথ্য তুলে ধরে বলেন,‘অর্থমন্ত্রী ঠিকই বলছেন, পাঠ্যবইয়ের উপর কোনও GST নেই। কিন্তু গণিতের অঙ্কের জন্য যে গ্রাফ পেপার লাগে? তাতে ১২% GST। বিজ্ঞান প্র্যাকটিকালের ল্যাবরেটরি নোট বই? ১২% GST। আঁকার ক্লাসের জন্য ক্রেয়ন? ১২% GST। স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রেও তিনি প্রযুক্তিগতভাবে সঠিক; পরামর্শ ও চিকিৎসায় GST নেই। কিন্তু যে অক্সিজেন সিলিন্ডার কোভিড রোগীর জীবন বাঁচিয়ে রাখে? তাতে ১২% GST। যে ইনসুলিন ইনজেকশন একজন ডায়াবেটিক রোগীকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করে,তাতে ৫% GST। অস্ত্রোপচারের অ্যানাস্থেশিয়াতেও ১২% GST।’

    মৃত্যুর পরে GST নিয়েও যে অভিযোগ তুলেছিলেন তৃণমূল সাংসদ, তার জবাবে তৃণমূল সরকারকে বিঁধে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘মৃত্যুর পরেও ধূপকাঠিতে জিএসটি দিতে হয়— এটা সম্পূর্ণ অসত্য। ধূপকাঠিতে জিএসটি শূন্য শতাংশ। পশ্চিমবঙ্গে যদি মৃত্যুর পরে কিছু দিতে হয়, সেটা জিএসটি নয় ওটা কাটমানির সংস্কৃতি। এই সব মিথ্যার পেছনে রয়েছে তৃণমূলের কাটমানি সিন্ডিকেট।’ এরই জবাবে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক লিখেছেন,‘হ্যাঁ, শেষকৃত্যের পরিষেবাও করমুক্ত। কিন্তু আমাদের প্রিয়জনের স্মরণে যে মোমবাতি জ্বালাই তাতে ৫% জিএসটি। অর্থাৎ ‘নিউ ইন্ডিয়া’-তে শোকের মূল্যও নির্ধারিত।’

    অর্থমন্ত্রীর কটাক্ষের পাল্টা চাঁচাছোলা জবাব দেন অভিষেক। তাঁর কথায়,‘মাননীয়া অর্থমন্ত্রী, ঠিক সেই সমস্যার দিকেই আমি ইঙ্গিত করছিলাম। যতদিন না আপনি জিএসটি আইনে লেখা কথার সঙ্গে গরিব পরিবারের বাজারের বিলের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারবেন, ততদিন আপনি আপনার ভারতের মধ্যে বাস করবেন, আর আমরা আমাদের ভারতে। আমার বক্তব্যকে আমার চেয়ে ভালোভাবে প্রমাণ করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।’

    ট্যাক্স তরজায় সংসদে দাঁড়িয়ে বাংলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলে কটাক্ষ করেন অর্থমন্ত্রী। সেই প্রসঙ্গে বাংলার বঞ্চনার কথা আবারও মনে করিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ। তিনি লেখেন,‘আমার বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনার জন্য ধন্যবাদ জানাই। তবে আমি চাই, তিনি যেন বাংলার মানুষের কথাও একই ভাবে মনোযোগ দিয়ে শোনেন, যখন তাঁরা তাঁদের MGNREGA, PMAY, PMGSY এবং JJM-এর বকেয়ার দাবি জানান।’

  • Link to this news (এই সময়)