জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন নীতির প্রতিবাদে দেশব্যাপী ভারত বনধের ডাক দিয়েছে ১০টি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন। ট্রেড ইউনিয়নগুলির সঙ্গে বনধে সামিল হয়েছে কৃষক সংগঠনগুলিও। এমনকি বনধে সামিল ব্যাঙ্ক কর্মচারী ও অফিসার সংগঠনগুলিও। কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন, কৃষি ইউনিয়ন, গ্রামীণ শ্রমিক গোষ্ঠী, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সিভিল সার্ভিস কর্মচারী ও শিক্ষক সংগঠন, পাবলিক সেক্টর আন্ডারটেকিং (PSU) এর কর্মী এবং স্বাধীন ট্রেড ইউনিয়নগুলির কমপক্ষে ৩০ কোটি শ্রমিক এই বনধে অংশগ্রহণ করছেন।
সি.আই. টি.ইউ. সহ অন্যান্য ট্রেড ইউনিয়নের আহ্বানে বিজেপি সরকারের জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে সারা ভারত সাধারণ ধর্মঘটের প্রভাব পড়েছে পশ্চিমবঙ্গেও। পশ্চিমবঙ্গে ধর্মঘটের প্রভাব দেখা গেল সল্টলেকের বিভিন্ন ব্যাংকে। সল্টলেকে বিভিন্ন ব্যাংক বন্ধ। চেয়ার নিয়ে সামনে বসে কর্মীরা। ভারতীয় জীবন বীমা নিগম বিল্ডিং-এও চলছে আন্দোলন। মোট ১১ দফা দাবিতে রাজ্যে বনধে সামিল সিআইটিইউ।
তাদের দাবি:
১) বেকার যুবদের হাতে কাজ চাই।
২) শহর ও গ্রামে ন্যূনতম ২০০ দিন কাজের গ্যারান্টি কেন্দ্রীয় সরকারকে করতে হবে।
৩) রাষ্ট্রায়ত্ব শিল্প বিক্রি নয়, আধুনিকীকরণ করে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে।
৪) শ্রমকোড বাতিল করতে হবে।
৫) নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস ও ওষুধের দাম কমিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে রাখতে হবে।
৬) নয়া শিক্ষানীতি বাতিল করে শিক্ষাকে সার্বজনীন ও গুণগতভাবে উন্নত করতে হবে।
৭) মার্কিন সরকারের সঙ্গে নির্লজ্জ আত্মসমর্পণের চুক্তি বাতিল কর।
৮) অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের জন্য সামাজিক সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।
৯) ইস্পাত, কয়লা, বিদ্যুৎ, প্রতিরক্ষা সহ অন্যান্য রাষ্ট্রায়ত্ব শিল্প বেসরকারি হাতে দেওয়া চলবে না।
১০) ব্যাঙ্ক, বীমা বেসরকারিকরণ করে দেশের জনগনের টাকা লুঠ করার নীতি বাতিল করতে হবে।
১১) ধর্মের নামে বিভাজনের রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার নিশ্চয়তা চাই।
দেশব্যাপী ধর্মঘটের প্রভাব পড়েছে শিলিগুড়িতে। আংশিক স্তব্ধ শহর। তবে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার কারণে স্বাভাবিক পরিবহন।
জলপাইগুড়ি শিরিষতলার মারুতি শোরুমে ধর্মঘট সফল করতে ময়দানে CITU। ঘটনাস্থলে পুলিস পৌঁছলে কিছুক্ষণের জন্য উত্তেজনা ছড়ায়। ধর্মঘট সফল বলে দাবি বিক্ষোভকারীদের।
কৃষ্ণনগর শহরেও মিছিল। শিল্প ধর্মঘটের সমর্থনে বাঁকুড়ার জেলাশাসকের দফতরগামী ধর্মঘটীদের মিছিল জেলাশাসকের দফতরের আগেই ব্যরিকেড করে আটকে দেয় পুলিস। পুলিস আইজি মোড়ের কাছে মিছিল আটকে দিলে সেখানেই রাস্তার উপর বসে পড়েন ধর্মঘটীরা।
কোচবিহারে ধর্মঘটের সেরকম প্রভাব না পড়লেও সকালবেলায় এসবিআই ব্যাংকের সামনে গেটের সামনে পতাকা লাগিয়ে গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকের কর্মচারীরা ঢুকতে পারেননি । কোচবিহার এলআইসি অফিসেও গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
আসানসোলে বেশ কিছু কয়লা খনিতে কাজে যোগ দেয়নি শ্রমিকরা। পিকেটিং ধর্মঘটীদের। মর্নিং শিফটে শ্রমিকরা এলেও কাজে যোগ দেয়নি।
ভারত বনধ ও পশ্চিমবঙ্গে শিল্প ধর্মঘটের প্রভাব পড়েছে রায়গঞ্জেও। শহরে এদিন ধর্মঘটে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গিয়েছে। সকাল থেকেই রায়গঞ্জ সরকারি বাস ডিপো থেকে যাত্রীবাহী বাস চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও যাত্রীর সংখ্যা ছিল সাধারণ দিনের তুলনায় অনেকটাই কম। স্টেশন বাজার খোলা থাকলেও একাংশ ব্যবসায়ী দোকান খোলেননি।
সকাল থেকে বালি জুটমিলে সামনেও ছবিটা এক। বেঙ্গল চটকল মজদুর ইউনিয়নের সকল সদস্যরা মিলে গেটের সামনে স্লোগান দিতে থাকেন। তাদের দাবি ধর্মঘট সফল হয়েছে। মিলে হাজিরা অনেকটাই কম।
ওড়িশায় বনধে আটকাল বিয়ে
এদিকে বনধের সর্বাত্মক প্রভাব পড়েছে ওড়িশায়। ওড়িশা প্রদেশ কংগ্রেস বনধের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। বনধে জেরে বিয়ে পর্যন্ত আটকে গিয়েছে ওড়িশায়। বালাসোরের সোরো থেকে কোরধা যাচ্ছিলেন এক পাত্র। রাস্তায় বনধের জেরে ভুবনেশ্বরের জয়দেব বিহারে যানজটে আটকে পড়েন পাত্র। ধর্মঘটীদের সঙ্গে কথা কাটাকাটিতে জড়াতেও দেখা যায় তাকে।