• বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ম শিথিল স্বাস্থ্যসাথীর অস্ত্রোপচারে
    আনন্দবাজার | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে এ বার থেকে হার্নিয়া, হাইড্রোসিল, ফিসারেক্টমি ও আর্থোস্কোপিক অস্ত্রোপচার করা যাবে বেসরকারি হাসপাতালে। সম্প্রতি এমনই নির্দেশিকা জারি করেছে স্বাস্থ্য দফতর। তবে, বেসরকারি হাসপাতালে যুক্ত কোনও সরকারি চিকিৎসক ওই অস্ত্রোপচার করতে পারবেন না।

    রাজ্যে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প চালুর পর থেকে এই চারটি অস্ত্রোপচারের সুযোগ সরাসরি বেসরকারি হাসপাতালে মিলত না। কারণ হিসেবে স্বাস্থ্য দফতরের যুক্তি ছিল, সরকারি পরিকাঠামোয় এই সমস্ত অস্ত্রোপচারের উন্নত সুবিধা রয়েছে। তবে, কোনও সরকারি হাসপাতালে যদি হার্নিয়া, হাইড্রোসিল, ফিসারেক্টমির অস্ত্রোপচার করতে সমস্যা থাকে এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক যদি তা লিখে দেন, তা হলেই একমাত্র বেসরকারিতে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে এই অস্ত্রোপচারের সুযোগ মিলত। আবার কোনও দুর্ঘটনায় আহত রোগীর আর্থোস্কোপিকের প্রয়োজন হলে একমাত্র সেটি স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে বেসরকারি হাসপাতালে করা যেত।

    কোল্ড-ওটি, অর্থাৎ, যে অস্ত্রোপচার পরে করা যায়, সে ক্ষেত্রে আর্থোস্কোপি বেসরকারি পরিকাঠামোয় স্বাস্থ্যসাথীতে করা যেত না। সাধারণ মানুষের কথা ভেবেই এই ‘গেটকিপিং’ ব্যবস্থায় কিছুটা ছাড় দেওয়া হয়েছে বলে জানাচ্ছে স্বাস্থ্য দফতর।

    স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, দীর্ঘ দিনের পর্যবেক্ষণে দেখা গিয়েছে, এই চারটি ক্ষেত্রে সরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের তারিখ পেতে অনেক দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কোথাও আবার তারিখও মিলছে না, অথচ রোগীকে অপেক্ষা করে বসে থাকতে হচ্ছে। বিশেষত, গ্রামের দিকের রোগীদের তরফে অভিযোগ ছিলই। স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার সমীক্ষায় অধিকাংশেরই দাবি ছিল, সরকারি হাসপাতালেও অস্ত্রোপচার হচ্ছে না। আবার সরাসরি বেসরকারিতে গেলেও বলছে, হবে না।

    সেই সঙ্গে স্বাস্থ্য দফতরের পর্যবেক্ষণে আসে, সরকারি হাসপাতালের এক শ্রেণির চিকিৎসক বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে ওই সব অস্ত্রোপচারের রোগীকে বেসরকারি হাসপাতালে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। সেখানে ওই চিকিৎসকই অস্ত্রোপচার করছেন।

    এই সব পর্যবেক্ষণ করেই স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে বেসরকারি হাসপাতালে হার্নিয়া, হাইড্রোসিল, ফিসারেক্টমি ও আর্থোস্কোপিক অস্ত্রোপচারে ছাড়পত্র দিল স্বাস্থ্য দফতর। তবে ‘গেটকিপিং’ নির্দেশিকা কিছুটা শিথিল করলেও, কারা ওই অস্ত্রোপচার করতে পারবেন, তা স্পষ্ট করেছে স্বাস্থ্য দফতর। নয়া নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, বেসরকারি হাসপাতালের নিজস্ব শল্য চিকিৎসকই শুধুমাত্র ওই অস্ত্রোপচার করতে পারবেন। ওই বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত কোনও সরকারি চিকিৎসক অস্ত্রোপচার করতে পারবেন না। তাঁরা শুধু সরকারি হাসপাতালেই ওই পরিষেবা দেবেন।

    যদিও সার্ভিস ডক্টর্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সজল বিশ্বাস বলেন, ‘‘সরকারির পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালে একই পরিষেবা চালু রেখে দুই ক্ষেত্রের চিকিৎসকদের মধ্যে বৈষম্য করাটা ঠিক নয়। তার থেকে সরকারি স্তরের পরিষেবা আরও ঢেলে সাজানো প্রয়োজন।’’
  • Link to this news (আনন্দবাজার)