জন্মসূত্রে দার্জিলিঙের সোনাদার মেয়ে সরিতা ইয়োলমো। কিন্তু প্রায় কুড়ি বছর ধরে ট্রেনে ভ্রাম্যমাণ টিকিট পরীক্ষকের (টিটিই) কাজ করলেও, পাহাড়ের কোনও ট্রেনে ডিউটি করেননি। সেই সুযোগ এল আচমকা। গত ৫ ফেব্রুয়ারি প্রথম বার তাঁকে এনজেপি থেকে দার্জিলিং রুটে টয় ট্রেনের টিটিই-র দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিল রেল। আর তার জেরে ভাঙল দার্জিলিং-হিমালয়ান রেলের (ডিএইচআর) পুরনো রেকর্ড। প্রথম বার টয় ট্রেন নিয়ে পাহাড়ে উঠলেন কোনও মহিলা টিকিট পরীক্ষক।
এনজেপিতে কর্মরত সরিতা। কলকাতা এবং দক্ষিণ ভারতগামী একাধিক ট্রেনে টিটিই-র দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। শুধু শতাব্দী এক্সপ্রেস এবং বন্দে ভারত ট্রেনে ডিউটি করেননি। প্রথম বার টয় ট্রেনে টিটিই-র দায়িত্ব পেয়ে একটাই কথা মনে হচ্ছিল তাঁর। কাজটা ঠিকমতো করতে পারবেন তো? সরিতা জানান, তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, টয় ট্রেনে ডিউটি করতে চান কি না। তিনি বলেন, ‘‘সম্মতি তো দিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু একটু উদ্বেগও হচ্ছিল। কারণ অন্য ট্রেনে একাধিক টিটিই থাকলেও, টয় ট্রেনে এক জনকে সব সামলাতে হয়। মেয়ে ছিতেন আর স্বামী দাওয়াকে ফোন করলাম। ওরা বলল, তুমি নিশ্চয়ই পারবে।’’ এর পরেই সব দ্বিধা কাটিয়ে ইতিহাসের দিকে পা বাড়ালেন সরিতা।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি প্রথম বার সফল ভাবে এনজেপি থেকে ট্রেন নিয়ে পাহাড়ে যান সরিতা। সেখানেই তাঁর আদি বাড়ি। বর্তমানে শিলিগুড়ির কাছে নিজে বাড়ি করেছেন। সেখানেই স্বামী, রেলের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী দাওয়ার সঙ্গে থাকেন সরিতা। ডিএইচআর অধিকর্তা ঋষভ চৌধুরী বলেন, ‘‘ঐতিহ্যবাহী টয় ট্রেনে এই প্রথম কোনও মহিলা টিটিই-র দায়িত্ব পালন করছেন। এটা আমাদের কাছেও ভীষণ গর্বের।’’
রেলের দাবি, ডিএইচআর-এর ইতিহাসে কোনও মহিলার টয় ট্রেনে টিটিই-র দায়িত্ব পালন করার কথা শোনা যায়নি। ৫ ফেব্রুয়ারির পরে ৮ ফেব্রুয়ারি ফের তাঁর দায়িত্ব পড়ে এনজেপি-দার্জিলিং টয় ট্রেনে। সে দিনও তিনি তা সফল ভাবে পালন করেন। রেল সূত্রে খবর, এনজেপি থেকে বিভিন্ন দিকে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে টিটিই-দের ডিউটি পড়ে। ফের কবে পাহাড়ের টয় ট্রেনে তাঁর ডিউটি পড়বে, সে দিকেই তাকিয়ে সরিতা।