• বালি পাচারে নাম জড়াল তৃণমূলের, অস্বস্তি শাসকের
    আনন্দবাজার | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • রাতের অন্ধকারে কোচবিহারের তোর্সা নদীতে ডাম্পার নামিয়ে চলছিল বালি পাচার। সে সময় স্থানীয় কয়েক জন তা নিয়ে প্রশ্ন তুললে অভিযুক্তেরা সাফ জানান, তাঁরা কোচবিহার পুরসভার শাসক দলের এক পুর প্রতিনিধির ‘লোক’। যা নিয়ে ঘোর অস্বস্তিতে তৃণমূল। দলের কোচবিহার জেলা চেয়ারম্যান গিরীন্দ্রনাথ বর্মণ যদিও বলেন, ‘‘এ সব ঘটনায় তৃণমূলের কেউ জড়িত ছিল না। কেউসুবিধে নেওয়ার জন্য তৃণমূলেরনাম নিয়ে থাকতে পারে। যদি কেউ অপরাধ করে, প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।’’

    বুধবার রাতের কোচবিহারের গুড়িয়াহাটিতে পুরসভার ভাগার সংলগ্ন তোর্সা নদীর চর থেকে বালি তোলা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। কোচবিহার ১ নম্বর ব্লকের ভুমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক রামপ্রসাদ চাকি বলেন, "অবৈধ ভাবে বালি তোলার অভিযোগ পেয়েছি। ওই জায়গাটি নিয়ে একটু বিতর্ক রয়েছে। যেখান থেকে বালি তোলা হচ্ছিল, সেই জায়গাটি স্থানীয় এক জনের বলে দাবি রয়েছে। আমরা পুরো বিষয়টি দেখছি।’’ কোচবিহার সদর মহকুমাশাসক গোবিন্দ নন্দী বিষয়টি নিয়ে ভূমি রাজস্ব দফতরে কথা বলবেন বলে জানান।

    অভিযোগ, তোর্সার অন্তত দশটি পয়েন্ট থেকে চলে অবৈধ কারবার। তার মধ্যে একটি তোর্সা সেতুর পিলার ঘেঁষে থাকা এলাকাও রয়েছে। প্রশাসন ও ভূমি রাজস্ব দফতর এর আগে একাধিক বার অভিযান চালিয়ে বালির গাড়ি আটক করেছে। গ্রেফতারও হয়েছে। ভূমি সংস্কার দফতর সূত্রেই জানা গিয়েছে, ওই অবৈধ কারবারের পিছনে একটি বড় চক্র রয়েছে। তোর্সার বালি ‘ভরাট’ নামে পরিচিত। কোনও জায়গা ভরার কাজ হয় হয় ওই বালি দিয়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শীতের সময় নদীতে জল কমে যায়। এ সময় নির্মাণ কাজও বাড়ে। তাই চাহিদা বেড়ে যায় বালির। তোর্সার ওই পয়েন্ট থেকে মূলত ছোট-ছোট বস্তায় বালি ভরে ভুটভুটি করে পাচার করা হয়। যে ভুটভুটি আগে পাঁচশো টাকায় বালি পৌঁছে দিত তা এখন নেয় এক হাজার থেকে পনেরোশ টাকা। আর একটি ডাম্পারে এক সঙ্গে অন্তত সাত থেকে আট হাজার টাকার বালি পাচার হয়।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)