• শালবনীতে জিন্দালদের দেড় হাজার একরের বেশি জমি রাজ্যের, তৈরি হবে তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র
    বর্তমান | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, শালবনী: পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনীতে শিল্পায়নের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরির জন্য জিন্দাল গোষ্ঠীকে ১ হাজার ৬৮৮ একর জমি লিজ দিল রাজ্য সরকার। শালবনীতে এই কারখানায় ৩২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। এই প্রজেক্টের জন্য ৪০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হচ্ছে। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই খুশিতে আত্মহারা একাধিক গ্রামের মানুষ। গ্রামবাসীরা জানালেন, এই কারখানা তৈরি হলে এলাকার অর্থনীতি বদলে যাবে। একইসঙ্গে কর্মসংস্থান বাড়বে। গতবছর কারখানার দূষণ নিয়েও গণ শুনানি হয়েছে। কারখানা কর্তৃপক্ষের মানবসম্পদ আধিকারিক দিব্যেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেন, প্রথম ধাপে লিজ বাবদ জমির জন্য রাজ্যের তরফে অনুমোদন মিলেছে। আমাদের কাছেও জমি রয়েছে। আশা করছি, খুব তাড়াতাড়ি শালবনীবাসীর স্বপ্নপূরণ হবে।

    মেদিনীপুরের বিধায়ক সুজয় হাজরা বলেন, মুখ্যমন্ত্রী শুধু স্বপ্ন দেখান না। উনি স্বপ্ন বাস্তবায়িত করেন। পশ্চিমবঙ্গের শিল্প মানচিত্রে শালবনী নতুন পথ দেখাবে। প্রসঙ্গত, শালবনী এলাকার মানুষ শিল্পায়নের স্বপ্ন দেখা শুরু করেন বাম আমলে। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর বাস্তবে রূপায়িত হয়নি। বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রী সেই স্বপ্নকে বাস্তব করতে আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। জানা গিয়েছে, ২০০৭ সাল জিন্দাল গোষ্ঠীর হাত ধরে বৃহত্তম ইস্পাত কারখানা তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। স্থানীয় যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থান হবে বলেও আশাবাদী ছিলেন একাধিক গ্রামের মানুষ। কুলফেনী, আসনাশুলি, গাইঘাট সহ প্রায় ৩০টি গ্রামের মানুষ জমিদান করেছিলেন। কিন্তু ২০০৮ সালে তৎকালীন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের কনভয়ের মাওবাদীদের আক্রমণের জেরে বন্ধ হয় ইস্পাত কারখানা তৈরি। পরে অধিগ্রহণ করা জমিতে কারখানা তৈরির দাবি জানিয়ে আন্দোলন শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দারা। সেই কথা মাথায় রেখে ২০১৬ সাল নাগাদ জিন্দাল গোষ্ঠীর কর্তারা অধিগৃহীত জমির কিছু অংশে একটি সিমেন্ট কারখানা তৈরি করেন। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের কর্মসংস্থানও হয়। তবে বিপুল পরিমাণ জমি পড়েই ছিল। এরপর গতবছর তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের শিলান্যাস করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। নতুন বছরে সেই তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরির প্রস্তুতি পুরোদমে শুরু হল বলে মানছেন গ্রামবাসীরা। শালবনীর বাসিন্দা ও ক্রীড়া সংগঠক সন্দীপ সিংহ বলেন, এই এলাকার মানুষের কথা ভেবেছেন মুখ্যমন্ত্রী। গ্রামের মানুষ খুশি। কারখানা কর্তৃপক্ষ আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকার গ্রামবাসীদের জন্য নানা প্রকল্প রূপায়িত করছে।শালবনীতে কারখানা তৈরির জন্য জমিদাতা আদিত্য মাহাত বলেন, আমাদের একটাই দাবি, খুব তাড়াতাড়ি কারখানা তৈরি হোক, যাতে এলাকার মানুষের কর্মসংস্থান হয়। সিমেন্ট কারখানায় অনেকেই কাজ পেয়েছেন।
  • Link to this news (বর্তমান)