• লালকেল্লা বিস্ফোরণ জৈশ-এরই কীর্তি, JeM-কে নিষ্ক্রিয় দাবি করে UN-এ মুখ পুড়ল পাকিস্তানের
    এই সময় | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • লালকেল্লা বিস্ফোরণে (Delhi Blast) মাস্টার মাইন্ড জৈশ-ই-মহম্মদ। ভারতের রাজধানীতে ঘটা এই ভয়াবহ ঘটনার পিছনে যে নিষিদ্ধ পাক সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীই ছিল তাতে সিলমোহর দিল রাষ্ট্রপুঞ্জও। নয়াদিল্লির তোলা অভিযোগই প্রতিষ্ঠিত হলো বিশ্বমঞ্চে। রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের (United Nations Security Council) দেওয়া রিপোর্টে আরও একবার কাঠগড়ায় পাকিস্তান। কারণ, রিপোর্টে উল্লেখ Jaish-e-Mohammed-কে নিষ্ক্রিয় বলে দাবি করে সক্রিয় সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার বিরোধিতা করেছিল পাকিস্তান। অথচ সেই সংগঠনই একের পর এক জঙ্গি হামলার দায় নিয়ে মিথ্যেবাদী বলে প্রমাণ করেছে ইসলামাবাদকেই।

    আড়ে-বহরে বাড়ছে জৈশ-ই-মহম্মদ। নতুন শাখা, নতুন নামে পাকভূমেই ডালপালা বিস্তার করছে এই নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন। আন্তর্জাতিক চাপ, আর্থিক ক্ষেত্রে বরাদ্দে কাঁটছাট সত্ত্বেও এই সংগঠন যে বিলুপ্ত হয়নি রিপোর্টে তা বিস্তারিত ভাবে জানিয়েছে নিরাপত্তা পরিষদ। গত ৪ ফেব্রুয়ারি জমা পড়া ৩৭তম রিপোর্টে মাসুদ আজ়হারের দলের বাড়বাড়ন্ত নিয়ে রীতিমতো উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এতে শুধু জৈশ নয়, দক্ষিণ এশিয়ার জিহাদি সংগঠনগুলি নিয়েও আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে।

    শুধু তাই নয়, নথিতে স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অন্তত একটি সদস্য রাষ্ট্রই এই রিপোর্টে Jaish-e-Mohammed-এর অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল। সেই রাষ্ট্র যে পাকিস্তান তারও উল্লেখ রয়েছে রিপোর্টে। নিষিদ্ধ এই সংগঠন কার্যকর এবং সন্ত্রাসবাদী হামলা ঘটাতে সক্ষম হলেও পাকিস্তান জানিয়েছে জৈশ-এর এখন অস্তিত্ব নেই। পূর্ববর্তী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পরেও এই গোষ্ঠীটিকে সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করা হয়নি বলেও উল্লেখ করা হয়েছে রিপোর্টে। অর্থাৎ, নিরাপত্তা পরিষদে বার বার যে কথা বলে এসেছে ভারত, অবশেষে তাই এ দিন স্বীকৃতি পেল নিরাপত্তা পরিষদে।

    রিপোর্টে (UNSC Report) বলা হয়েছে, গত ৯ নভেম্বর লালকেল্লায় হামলাতেও ছিল জৈশের (JeM) হাত। Red Fort Blast-এ প্রাণ হারান ১৫ জন। আহত বহু। সেই হামলার আগে গত ৮ অক্টোবর Jaish-e-Mohammed নেতা মৌলানা মাসুদ আজহার আলভি আনুষ্ঠানিকভাবে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের লক্ষ্যে মহিলা শাখা ‘জামাত-উল-মুমিনত’ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা করেছিল। নতুন করে জঙ্গি নিয়োগও শুরু করে দিয়েছে জৈশ বলে উল্লেখ রিপোর্টে।

    জৈশ-ই-মহম্মদ যে সক্রিয় জঙ্গি গোষ্ঠী তার সমর্থনে সাম্প্রতিক একাধিক হামলায় তার দায় স্বীকার করার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে এই রিপোর্টে। বিশ্বমঞ্চে এতেই আবারও মুখ পুড়েছে পাকিস্তানের। তাদের মতে, অস্তিত্বহীন জঙ্গি সংগঠন জৈশ। অথচ তারাই এখনও সন্ত্রাসবাদী হামলায় সক্রিয় ভাবে যুক্ত। এতেই গোটা বিশ্বের সামনে মিথ্যেবাদী তকমা জুটেছে ইসলামাবাদের।

  • Link to this news (এই সময়)