প্রথমে প্রিভিলেজ় মোশন আনার কথা হলেও শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে (Rahul Gandhi) সংসদ থেকে বহিষ্কারের উদ্যোগ নিল BJP। এ দিন কংগ্রেস সাংসদকে লোকসভা থেকে অযোগ্য ঘোষণা করার জন্য আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করেছেন বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে (BJP MP Nishikant Dubey)। ইতিমধ্যেই প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে বলে খবর। শুধু তাই নয়, তাঁকে আজীবনের মতো লোকসভা থেকে নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছে গেরুয়া শিবির।
BJP সাংসদ নিশিকান্ত দুবে লোকসভায় রাহুল গান্ধীর সাংসদ পদ খারিজ করার প্রস্তাব পেশ করেন। তাঁর অভিযোগ, রাহুল গান্ধী ‘দেশবিরোধী শক্তির’ সমর্থনে দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করছেন। তাই বিরোধী দলনেতাকে অযোগ্য ঘোষণা করে আজীবন তাঁর নির্বাচনে লড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির দাবি করেছেন দুবে। বিজেপি সাংসদের কথায়, ‘কোনও বিশেষাধিকার প্রস্তাব নয়। আমি যে প্রস্তাব জমা দিয়েছি সেখানে আমি উল্লেখ করেছি যে কী ভাবে তিনি সোরোস ফাউন্ডেশন, ফোর্ড ফাউন্ডেশন, USAID-র সঙ্গে জড়িত এবং থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম এবং আমেরিকার মতো জায়গায় ভ্রমণ করেন এবং কী ভাবে তিনি ভারত বিরোধী শক্তির সঙ্গে যুক্ত।’
প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল এমএম নরবনের (MM Naravane) অপ্রকাশিত আত্মজীবনী, ‘ফোর স্টারস অফ ডেস্টিনি’ (Four Stars of Destiny) থেকে গালওয়ান পর্ব সংসদে উদ্ধৃত করতে চেয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। বিতর্কের সূত্রপাত সেখানেই। তার পর থেকে বুধবারের আগে পর্যন্ত বিরোধী দলনেতাকে সংসদে বলতে লাগাতার বাধা দেওয়া হয়েছে। সেই হট্টগোলে দফায় দফায় মুলতুবি হয়ে গিয়েছে সংসদ। অবশেষে শেষ পর্যন্ত বুধবার বাজেট আলোচনায় বলার সুযোগ পান বিরোধী দলনেতা রাহুল। সেই সময়ে তিনি আমেরিকার সঙ্গে অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন। সে সময়ে কংগ্রেস সাংসদ প্রধানমন্ত্রী মোদী ও বিজেপি সরকারের উদ্দেশে আক্রমণ শানিয়ে মন্তব্য করেন,‘আপনি ভারতকে বিক্রি করে দিয়েছেন। ভারতকে বিক্রি করতে কি আপনাদের লজ্জা করল না? আপনারা আমাদের মা, ভারতমাতাকে বিক্রি করে দিয়েছেন।’
মূলত এই কথাতে তীব্র আপত্তি জানান সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজ়ু। এখানেই শেষ নয়, এপস্টাইন ফাইলে হরদীপ পুরীর নাম থাকা নিয়েও প্রশ্ন ছোড়েন কংগ্রেস সাংসদ। তারই পাল্টা বিজেপি সরকার অভিযোগ তুলেছে, রাহুল গান্ধী সরকারকে বদনাম করার জন্য বিতর্ক তৈরির চেষ্টা করেছেন। প্রতিরক্ষা, অর্থ, বাণিজ্য, বিদেশ সব নিয়েই সরকারকে কলঙ্কিত করছেন তিনি।
বিজেপি সাংসদের কথায়, ‘রাহুল গান্ধীর এইরকম অবাধ্য মনোভাবের উৎপত্তি হলো 'সোরোস ফাউন্ডেশন'। একজন সক্রিয় সহযোগী হিসেবে কাজ করেন তিনি। তাদের ক্লায়েন্ট দেশগুলির সুবিধার জন্য বিভিন্ন দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলাই এই সংগঠনের কাজ। ইচ্ছাকৃত ভাবে দেশের বিকৃত চিত্র তুলে ধরছেন তিনি। তাঁকে অর্থ জোগায় কে? প্রাক্তন সেনাপ্রধানের (Former Chief of Army Staff of the Indian Army) অপ্রকাশিত বই তিনি কোথায় পেলেন? এগুলো আসলে ষড়যন্ত্র।’ বিরোধী নেতার পদে থেকে রাহুলের বিরুদ্ধে দেশে অস্থিরতা তৈরির প্রচেষ্টার অভিযোগ এনেছে বিজেপি।
উল্লেখ্য, এই প্রথম নয়, এর আগেও কংগ্রেস সাংসদ রাহুলের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ এনেছিল বিজেপি। সে বার রাহুল দুই পলাতক ব্যবসায়ী নীরব মোদীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদীর (PM Modi) পদবির মিল নিয়ে কটাক্ষ করে বিজেপির চক্ষুশূল হয়েছিলেন। ২০২৩ সালের মার্চ মাসে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতি অপমানজনক মন্তব্যের জন্য মানহানির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাঁকে সংসদ থেকে অযোগ্য বলে ঘোষণা করা হয়েছিল।