• উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীকে ধাক্কা মেরে পুকুরে ফেলার অভিযোগ, নাম জড়াল তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতির
    এই সময় | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • এক উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীকে (Higher Secondary 2026) পুকুরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠল তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতির বিরুদ্ধে। পূর্ব বর্ধমানের (Purba Burdwan) খণ্ডঘোষ ব্লকের বেরুগ্রামের ঘটনা। ওই পরীক্ষার্থীর বাবাকেও হেনস্থা, মারধরের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের আঙুল তৃণমূলের বেরুগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি শেখ শাহাদ আলি ওরফে লকাইয়ের বিরুদ্ধে। থানায় অভিযোগও দায়ের হয়েছে। তবে যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, শাসকদলের সেই নেতার দাবি, ‘অভিযোগ ভিত্তিহীন। পারিবারিক দ্বন্দ্বে রাজনীতির রং লাগানো হচ্ছে।’

    বোঁয়াইচণ্ডী মায়ের মন্দির সংলগ্ন বাজারে দোকান রয়েছে দীপক অধিকারীর। বুধবার সেই দোকানে হামলা চালানো হয়। দীপক অধিকারী ওই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর বাবা। এর পরেই তাঁর ছেলেকে একজন ধাক্কা মেরে পুকুরে ফেলে দেন বলে অভিযোগ।

    অঞ্চল তৃণমূল (TMC) সভাপতি শেখ শাহাদ আলি ওরফে লকাই বলেন, ‘দীপকের ভাই দু’বছর আগে মারা গিয়েছেন। তাঁর স্ত্রী, এক মেয়ে রয়েছে। তাঁদের দু’কাঠা জমি আছে। তা পেতে বার বার দীপক অধিকারীকে বলছিলেন। কিন্তু কাজ হয়নি। বুধবার দীপক অধিকারী কিছু লোকজনকে নিয়ে গিয়ে অশান্তি করেন। আমাদের কাছে খবর আসায় জনপ্রতিনিধি হিসেবে যাই। আমার সঙ্গে আরও কয়েকজন ছিল। এখন বিজেপি আমার নামে বদনাম করছে। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্কই নেই। একটা পারিবারিক ঝামেলা। যা মেটাতে জনপ্রতিনিধি হিসেবে যাই। মানুষ বিপদে পড়লে, সেখানে যাব, এটাই তো স্বাভাবিক।’

    স্থানীয় সূত্রে খবর, দীপক অধিকারী বিজেপি সমর্থক। কিছুদিন আগে বিজেপির এক কর্মসূচিতেও ছিলেন। বিজেপি (BJP) নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, ‘দীপক অধিকারী ও তাঁর ছেলেকে মারধর করা হয়। তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি শেখ লকাইয়ের নেতৃত্বে ১০-১৫ জনের দুষ্কৃতী এই কাজ করেছে। আমরা কিছু দিন আগে যুবমোর্চার তরফে ‘চাকরি চায় বাংলা’ কর্মসূচি করি। দীপক সেখানে সহযোগিতা করেছিলেন। তাই জমি সংক্রান্ত একটি বিষয়কে সামনে রেখে হামলা করা হয়েছে। দোকান ভাঙচুর করেছে, ছেলেকে মারধর করে জলে ফেলে দিয়েছে।’

    এ বিষয়ে তৃণমূলের পূর্ব বর্ধমান জেলার সাধারণ সম্পাদক বাগবুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছি। তবে শুনেছি থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। সুতরাং পুলিশ প্রশাসন তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।’ সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে তদন্ত করা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তবে এখনও অধিকারী পরিবারের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

  • Link to this news (এই সময়)