আজকাল ওয়েবডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জি, মঙ্গলবার সংসদে দাঁড়িয়ে কড়া ভাষায় কটাক্ষ করেছিলেন কেন্দ্রকে। কয়েক মিনিটের বক্তব্যে একের পর এক প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন কেন্দ্রের দিকে। একদিকে যেমন বক্তব্যে দুই ভারত তত্ব তুলে ধরেন অভিষেক, তেমনই বক্তব্যে তুলে ধরেন কর ব্যবস্থা কীভাবে সাধারণের গলার ফাঁস হয়ে উঠছে তা নিয়েও।
অভিষেক কী বলেছিলেন মঙ্গলবার?
সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত, সাধারণ মানুষকে কর দিতে হচ্ছে প্রতিটি পদক্ষেপে। করের ফাঁসে হাঁসফাস অবস্থা তাঁদের। অভিষেকের বক্তব্য, ২০২৬ এর যে বাজেট পেশ করেছে কেন্দ্র, কর্পোরেটরা মুক্তি পাবেন সহজে কিন্তু করের জালে আটকা পড়বেন সৎ করদাতারা। যেভাবে সাধারণ মানুষের উপর করের বোঝা চাপানো হয়েছে, অভিষেক সেটিকে ট্রিপল ট্যাক্স বলে উল্লেখ করে, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। আয়কর, জিএসটি, মূল্যবৃদ্ধি নিয়েও এদিন সুর চড়িয়েছেন অভিষেক। অভিষেক বলেন, শিশু জন্ম নিল। দুধ-ডাইপারের উপর ট্যাক্স। স্কুলে ভর্তি হল, শিক্ষার উপর ট্যাক্স। বই, নোটবুক, পেন-পেন্সিল, মোবাইল ডেটা, সবকিছুর উপর ট্যাক্স। চাকরি জীবন শুরু হল, ইনকামট্যাক্স। টাকা জমালে, তার উপরে ট্যাক্স। বেঁচে থাকার জন্য খরচ করলে, দৈনন্দিন ব্যবহারের উপর কর আরোপ করা হয়। কর্মক্ষেত্রে যাতায়াতের জন্য জ্বালানি কর আরোপ করা হয়। অসুস্থতার জন্য স্বাস্থ্যসেবা এবং ওষুধের উপর কর আরোপ করা হয়। বৃদ্ধ বয়সে পেনশনের উপর কর আরোপ করা হয়। অভিষেক বলেন, এই করের ফাঁস থেকে রেহাই নেই মৃত্যুর পরেও। তৃণমূল সাংসদের বক্তব্য, এমনকি মৃত্যুতেও, শেষকৃত্যে পোড়ানো ধূপকাঠিও কর এড়ায় না।
নির্মলা সীতারামণ কী বললেন?
অভিষেকের এই বক্তব্যের পালটা জবাব দেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। বক্তব্যে তিনি যেমন বাংলার সরকারকে কটাক্ষ করে বলেন, মমতা জমানায় রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয়েছে, তেমনই নির্মলা পালটা জবাব দেন অভিষেকের বক্তব্যের।
অভিষেকের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে নির্মলা বলেন, অভিষেক মূলত জিএসটি তথ্য দিয়ে ব্রিভান্ত করতে চেয়েছেন। নির্মলার দাবি, দুধ, প্রি স্কুল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা, বই, নোটবুক, টেক্সটবুক কোনঅ কিছুর উপর জিএসটি নেই।
নির্মলার বক্তব্যের পর, ফের নিজের বক্তব্যের সপক্ষে অভিষেক ব্যানার্জি সোশ্যাল মিডিয়ায় দুটি পোস্ট করেছেন। একটি বুধবার সন্ধেয় একটি বৃহস্পতিবার সকালে। একটিতে অভিষেক লিখেছেন, 'আমি সত্যিই চাই যে অর্থমন্ত্রী গত সন্ধ্যায় লোকসভায় আমি যে তথ্য উপস্থাপন করেছি তার উৎসগুলি পরীক্ষা করার জন্য সময় বের করতেন, তার উত্তর দেওয়ার আগে।' সঙ্গেই লেখেন, 'আমি দুটি ভারত থেকে এসেছি। একটি যেখানে পরিবারগুলি পেঁয়াজ কেনার জন্য লড়াই করে এবং যেখানে বেঁচে থাকা নিজেই একটি আকাঙ্ক্ষা হয়ে ওঠে। এবং আরেকটি যেখানে দেশের সর্বোচ্চ আর্থিক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তি আকস্মিকভাবে ঘোষণা করতে পারেন যে তিনি বিরক্ত নন - কারণ তিনি পেঁয়াজ খান না।'
বৃহস্পতিবার ফের অভিষেকের পোস্ট। তিনি লিখেছেন, অর্থমন্ত্রী বলেছেন আমি তথ্য বিকৃত করেছি। তিনি একেবারে ঠিক বলেছেন, তাজা তরল দুধের উপর কোনও GST নেই। কিন্তু সম্ভবত তিনি সেই মাকে দেখেননি যিনি তাজা দুধ কিনতে পারেন না, যিনি তার শিশুর জন্য গুঁড়ো দুধ মেশান। সেই গুঁড়ো দুধ? ৫% GST। তিনি যা কিনতে পারেন না তার উপর শূন্য কর, যা কিনতে বাধ্য হন তার উপর ৫% কর।'
তথ্য দিয়ে তিনি লিখেছেন,পাঠ্যপুস্তকে কোনও জিএসটি নেই। কিন্তু একজন ছাত্র তার অঙ্কের অ্যাসাইনমেন্টের জন্য যে গ্রাফ পেপার ব্যবহার করে? ১২% জিএসটি। বিজ্ঞানের ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরি নোটবুক? ১২% জিএসটি। আঁকার ক্লাসের জন্য রঙিন পেন্সিল? ১২% জিএসটি। সঙ্গেই অভিষেক লিখেছেন, 'স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে, তিনি বরাবরের মতোই প্রযুক্তিগতভাবে নির্ভুল; পরামর্শ এবং চিকিৎসা জিএসটি-মুক্ত। কিন্তু কোভিড রোগীকে বাঁচিয়ে রাখে এমন অক্সিজেন সিলিন্ডার? ১২% জিএসটি। ডায়াবেটিস রোগীর মৃত্যু রোধ করে এমন ইনসুলিন ইনজেকশন? ৫% জিএসটি। অস্ত্রোপচারের জন্য অ্যানেস্থেসিয়া? ১২% জিএসটি।' তাঁর বক্তব্যের নির্মলা সীতারামন সংসদে কাউন্টার করে যে আরঅ বেশি করে সঠিক বলে প্রমাণীত করেছেন, সেকথাও উল্লেখ করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।