আজকাল ওয়েবডেস্ক: বৃহস্পতিবার নদিয়া জেলার পলাশীর যুদ্ধের স্মারকের সামনে থেকে শুরু হল তৃণমূল কংগ্রেসের সাসপেন্ডেড বিধায়ক তথা জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরের 'বাবরি যাত্রা'র প্রথম পর্যায়।
লক্ষাধিক মানুষ নিয়ে হুমায়ুন কবীরের 'বাবরি যাত্রা'র করার কথা থাকলেও রাজ্য জুড়ে চলা মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার কথা মাথায় রেখে এবং প্রশাসনের অনুরোধ সাড়া দিয়ে হুমায়ুনের আজকের 'বাবরি যাত্রা'য় মুষ্টিমেয় কিছু লোক উপস্থিত ছিলেন।
প্রাথমিক পরিকল্পনায় এই যাত্রা নদিয়া জেলার পলাশি থেকে শুরু হয়ে উত্তর দিনাজপুরের ইটাহার পর্যন্ত প্রায় ২৬৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করার কথা ছিল। শতাধিক গাড়ি, বাইক ও পদযাত্রীর সমাবেশে এই যাত্রার মাধ্যমে দক্ষিণবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গ পর্যন্ত মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বাবরি মসজিদ পুনর্নির্মাণের বার্তা পৌঁছে দেওয়া হুমায়ুনের উদ্দেশ্য ছিল। যদিও কিছু কারণে হুমায়ুন এই যাত্রা সংক্ষিপ্ত করতে বাধ্য হয়েছেন। সূত্রের খবর, বিভিন্ন জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে হুমায়ুনকে মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার মধ্যে এই যাত্রা করার সরকারি অনুমতি দেওয়া হয়নি।
বৃহস্পতিবার 'বাবরি যাত্রা' শুরুর পর হুমায়ুন কবীর বেশ কিছুটা পথ মোটরসাইকেলে করে যান। এরপর বাকি পথ কখনও ট্যাবলো গাড়িতে কখনও বা পায়ে হেঁটে রেজিনগরের ছেতিয়ানি এলাকায় প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদের জমির কাছে এসে পৌঁছান।
প্রসঙ্গত বাবরি মসজিদ নির্মাণ করার কথা ঘোষণা করার পরই তৃণমূলের সঙ্গে হুমায়ুনের দূরত্ব চরমে ওঠে। এরপর তৃণমূলের তরফ থেকে হুমায়ুনকে সাসপেন্ড করা হয়।
যদিও তারপরও হুমায়ুন কবীর মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ তৈরীর করার তাঁর সিদ্ধান্ত থেকে এক চুলও সরেননি। ২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর হুমায়ুন কবীর এই মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। প্রায় ৫০-৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ হতে চলা এই মসজিদে একসঙ্গে প্রায় ১০ হাজার মানুষ নামাজ পড়তে পারবেন বলে জানানো হয়েছে। আগামী দু'বছরের মধ্যে এই মসজিদের নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা। বুধবার ছেতিয়ানি এলাকায় বাবরি মসজিদে প্রবেশের মূল ফটকের ভিত ঢালাই করার মধ্য দিয়ে মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে।
'বাবরি যাত্রা'য় অংশগ্রহণ করে হুমায়ুন কবীর বলেন," পলাশীর ঐতিহাসিক প্রান্তর থেকে এই যাত্রা শুরু হয়েছে। ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে রেজিনগরের লোকনাথপুরে গিয়ে আমরা পৌঁছাব, সেখানে মূল জমায়েত হবে।"
যদিও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, হুমায়ুনকে এই যাত্রার জন্য কোনওরকম অনুমতি দেওয়া হয়নি। এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে হুমায়ুন কবীর বলেন,"জাতীয় সড়ক দিয়ে হেঁটে বা গাড়িতে যাওয়ার জন্য কারও অনুমতির প্রশ্ন নেই। তাও আমরা জেলা শাসকদেরকে ইমেল করে অনুমতি চেয়েছি। মাধ্যমিক পরীক্ষা চলার জন্য মালদা প্রশাসনের তরফ থেকে আমাকে এই যাত্রার দিন পরিবর্তন করার অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু অন্য কিছু কাজ থাকায় আমি প্রশাসনের দেওয়া প্রস্তাবিত দিনে এই যাত্রা করতে পারছিনা।"
হুমায়ুন কবীর এদিন ঘোষণা করেন," 'বাবরি যাত্রা' কেউ আটকাতে পারবেনা, এই যাত্রা হবেই। বৃহস্পতিবার এই যাত্রার প্রথম 'ফেজ' অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় 'ফেজে' মেদিনীপুর থেকে আসানসোল এবং আসানসোল থেকে কলকাতা পর্যন্ত এই যাত্রা হবে। কারও ক্ষমতা নেই 'বাবরি যাত্রা' আটকানোর।"