• সন্তান জন্মের ১২ ঘণ্টার মধ্যে উচ্চমাধ্যমিক!
    আজকাল | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: অদম্য ইচ্ছাশক্তি। নিজের সেই ইচ্ছেশক্তিকে ভর করেই মা হওয়ার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসলেন এক ছাত্রী। উচ্চশিক্ষিত হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর এই ইচ্ছাকে কুর্নিশ জানিয়ে ওই ছাত্রীর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসার যাবতীয় ব্যবস্থা করে দিলেন মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘির তৃণমূল বিধায়ক বাইরন বিশ্বাস। 

    মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘি থানার পোপড়া গ্রামের বাসিন্দা শবনম ইয়াসমিনের বছরখানেক আগে বিয়ে হয়েছে। এবছর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার আগেই ওই ছাত্রী অন্তঃসত্তা হয়ে পড়েন। বুধবার বেশি রাতের দিকে শবনম সাগরদিঘি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিজের সন্তানের জন্ম দেন। 

    কিন্তু রাত পার হলেই যে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা। তাই সুস্থভাবে সন্তান জন্ম দেওয়ার পরেই পরিবারের লোকেদের কাছে শবনম দাবি করে বসে যে যে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসতে চায়। সাগরদিঘি গার্লস হাই স্কুলের ছাত্রী শবনমের এবছরের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার আসন পড়েছে মেঘাশিয়ার হাই স্কুলে। কিন্তু শারীরিক দুর্বলতা থাকার কারণে শবনমের পক্ষে নিজের পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসা সম্ভব ছিল না। গোটা বিষয়টি সাগরদিঘির তৃণমূল বিধায়কের বাইরন বিশ্বাসের কানে যেতেই তিনি এবং তাঁর 'টিম' সক্রিয় হয়ে ওঠে। 

    সূত্রের খবর, বাইরন বিশ্বাসের নির্দেশের পরই স্কুল কর্তৃপক্ষ, শিক্ষা দপ্তর এবং প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করে ওই ছাত্রী যাতে হাসপাতালের শয্যায় বসেই পরীক্ষা দিতে পারে সেরকম ব্যবস্থা করা হয়। 

    মা হওয়ার পর হাসপাতালে শয্যায় বসে শবনম পরীক্ষা দিতে চায়- শিক্ষা দপ্তরের কাছে এমন তথ্য পৌঁছানোর পরই তাদের তরফ থেকে ওই হাসপাতালে কড়া নিরাপত্তায় প্রশ্নপত্র পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং সেখানে বসেই মা হওয়ার পর জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষায় বসে শবনম। 

    হাসপাতালের শয্যায় পরীক্ষকের কড়া নজরদারির মধ্যে একটানা বসে প্রশ্নের উত্তর লিখতে কিছুটা অসুবিধা হলেও শবনম পুরো পরীক্ষা দিয়েছে বলেই জানা গিয়েছে। আজ শবনমকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা এবং স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। 

    শবনমের মা মর্জিনা বিবি জানান,"আমার মেয়ে বরাবরই পড়াশুনায় খুব ভালো। প্রসব যন্ত্রণা ওঠায়  মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল এবং  গতকাল রাতেই সে পুত্র সন্তানের জন্ম দেয়। মা এবং ছেলে বর্তমানে সুস্থ রয়েছে।" তিনি বলেন," প্রসব যন্ত্রণা একটু কমার পরই শবনম আমাদের কাছে দাবি করেছিল সে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসতে চায়। এই বিষয় নিয়ে আমাদের কোনও অভিজ্ঞতা না থাকায় আমরা বিধায়কের এবং স্কুলের শরণাপন্ন হয়েছিলাম।  তাঁরাই সমস্ত কিছুর ব্যবস্থা করে দিয়েছেন এবং আজ সুস্থভাবে শবনম নিজের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে। " পরীক্ষা শেষে সন্তান কোলে শবনম বলেন ,"পরীক্ষা দেওয়ার সময় ছেলের কান্না শুনতে পাচ্ছিলাম। কিন্তু ভালো করে পরীক্ষা দেওয়াটাও প্রয়োজন ছিল। আশানুরূপ প্রশ্ন পাওয়ায় আজ আমার পরীক্ষা ভালোই হয়েছে। একটু সময় ছেলের সঙ্গে কাটিয়ে ফের আমি পরের পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করছি।"
  • Link to this news (আজকাল)