স্কুলের বাইরে মা-শাশুড়ির ঝগড়া, মেয়ের পরিণতি জানেন?
আজকাল | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। পরীক্ষা দিতে গিয়েছিল। তবে পরীক্ষাশেষে হল থেকে বেরিয়ে যা দেখল, তাতে একপ্রকার হতচকিত। তুমুল বিবাদ মা এবং শাশুড়ির মধ্যে। মাঝখানে পড়ে, ধাক্কাধাক্কিতে আহত যুবতী। নিয়ে যেতে হল হাসপাতালেই। বৃহস্পতিবার গুসকরা পি পি ইন্সটিটিউশন পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে এই ঘটনা ঘটে।
সূত্রের খবর,প্রেম এবং তারপরেই বিয়ে করে বসে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ওই ছাত্রী। গুসকরা গার্লস হাইস্কুলের ওই ছাত্রী দু’সপ্তাহ আগে গুসকরা শহরেরই এক যুবকের সঙ্গে প্রেম করে বিয়ে করে। ছাত্রীর বাবা মা এই বিয়েতে প্রথমে রাজি ছিলেন না বলে অভিযোগ। যদিও ছাত্রীর শাশুড়ির দাবি, দুই পরিবারের মধ্যে কথাবার্তা বলেই বিয়ে ঠিক হয়েছিল।
মূল ঘটনা ঘটে বৃহস্পতিবার। স্বামী ওই যুবতীকে পরীক্ষাকেন্দ্রে ছেড়ে নিজের কাজে যান। যুবতী নির্বিঘেন পরীক্ষা দেয়। বেরিয়ে দেখে, বিবাদরত মা এবং শাশুড়ি। অভিযোগ, পরীক্ষা শেষ করে বাইরে বেরোতেই তার মা তাকে নিজের সঙ্গে নিয়ে যেতে চান। তা নিয়ে শুরু হয় টানাটানি। ছাত্রী যেতে না চাইলে ধাক্কাধাক্কির মধ্যে পড়ে গিয়ে মাথায় চোট পান সে। সঙ্গে সঙ্গেই তাকে গুসকরা প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল চত্বরে দুই পরিবারের মধ্যে বচসার ঘটনাও ঘটে, যা ঘিরে স্কুল চত্বরে চাঞ্চল্য ছড়ায়।
চিকিৎসার পর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে ছাত্রীকে স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে তিনি নিজের ইচ্ছায় শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যায় বলে পরিবার সূত্রে খবর।
অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদে যুবতীর মনের জোর এবং পরীক্ষা দেওয়ার ইচ্ছাকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন স্থানীয়রা। নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে ভর করে মা হওয়ার ১২ ঘণ্টার মধ্যে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসল এক ছাত্রী। উচ্চশিক্ষিত হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর এই ইচ্ছাকে কুর্নিশ জানিয়ে ওই ছাত্রীর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসার যাবতীয় ব্যবস্থা করে দিলেন মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘির তৃণমূল বিধায়ক বাইরন বিশ্বাস।
মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘি থানার পোপড়া গ্রামের বাসিন্দা শবনম ইয়াসমিনের বছরখানেক আগে বিয়ে হয়েছে। এবছর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার আগেই ওই ছাত্রী অন্তঃসত্তা হয়ে পড়ে। বুধবার বেশি রাতের দিকে শবনম সাগরদিঘি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিজের সন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু রাত পোহালেই পরীক্ষা। তাই সুস্থভাবে সন্তান জন্ম দেওয়ার পরেই পরিবারের কাছে পড়ীক্ষার বসার আবেদন জানায়।
সাগরদিঘি গার্লস হাই স্কুলের ছাত্রী শবনমের এবছরের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার আসন পড়েছে মেঘাশিয়ার হাই স্কুলে। কিন্তু শারীরিক দুর্বলতা থাকার কারণে শবনমের পক্ষে নিজের পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসা সম্ভব ছিল না। গোটা বিষয়টি সাগরদিঘির তৃণমূল বিধায়কের বাইরন বিশ্বাসের কানে যেতেই তিনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। সূত্রের খবর, বাইরন বিশ্বাসের নির্দেশের পরই স্কুল কর্তৃপক্ষ, শিক্ষা দপ্তর এবং প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করে ওই ছাত্রী যাতে হাসপাতালের শয্যায় বসেই পরীক্ষা দিতে পারে সেরকম ব্যবস্থা করা হয়।