কেন যুবসাথী? বিধানসভা ভোটে যেভাবে খেলা ঘুরিয়ে দিতে পারে Gen Z ভোটাররা
আজ তক | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অন্তর্বর্তী বাজেটে ঘোষিত একাধিক ভাতা প্রকল্পের মধ্যে একটি স্কিম বেশ সাড়া ফেলেছে, তা হল যুবসাথী। মাধ্যমিক পাশের পরে বেকার যুবক-যুবতীদের প্রতিমাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা করে দেবে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ৫ বছর ধরে টানা দেওয়া হবে। তারপরও যদি বেকার থাকেন সংশ্লিষ্ট যুবক বা যুবতী, তাহলে আরও ৫ বছরের জন্য রিনিউ করা হবে এই প্রকল্প।
এখন প্রশ্ন হল, প্রথমত, বিধানসভা ভোটের মুখে হঠাত্ কেন যুবসাথীর মতো একটি প্রকল্প ঘোষণা করলেন মমতা? দ্বিতীয়ত, রাজ্যে বেকারদের জন্য যুবশ্রী নামে একটি প্রকল্প ইতিমধ্যেই রয়েছে। ২০১৩ সালে চালু করা হয়েছিল। তাহলে যুবসাথী নামে আরও একটি প্রকল্প কেন করা হল?
কেন ভোটের মুখে যুবসাথী প্রকল্পের ঘোষণা?
প্রথম প্রশ্নটি নিয়েই প্রথমে আলোচনা করা যাক। এই প্রশ্নটির উত্তর খুঁজতে গিয়ে আরও একটি প্রশ্নের উদয় হচ্ছে, তা হল, পশ্চিমবঙ্গে Gen Z ভোটার কত? ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে যাঁদের জন্ম, সেই প্রজন্মকেই Gen Z বলা হয়। গোটা বিশ্বে এখন এই প্রজন্মেরই দাপট। এমনকী বাংলাদেশের নির্বাচনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে জেন জি ভোটাররা। পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটের মুখেও Gen Z ভোটারদের নিয়ে আলোচনা জরুরি। চিরাচরিত মহিলা, মতুয়া, হিন্দু, মুসলিম ইত্যাদি ভোটব্যাঙ্কের চর্চা শুনে অভ্যস্ত বঙ্গবাসী। এবার Gen Z ভোটব্যাঙ্ক নিয়ে আলোচনা জরুরি। এই ভোটব্যাঙ্ক কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা বলে দিচ্ছে নির্বাচন কমিশনের ডেটাই।
পশ্চিমবঙ্গে Gen Z ভোটাররা বড় ভূমিকায়
মমতার ঘোষণা অনুযায়ী, যুবসাথীর দেড় হাজার টাকা ২১ বছর বয়স থেকে ৪০ বছর পর্যন্ত সব বেকার যুবক-যুবতীদের দেওয়া হবে। ন্যূনতম মাধ্যমিক পাশ করলেই হবে। নির্বাচন কমিশনের ২০২৪-২৫ বছরের ডেটায় দেখা যাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গে ১৮ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে বয়স যাঁদের, সেই ভোটার ২৪.০৭ শতাংশ। ২০২৪ সালের ২০ মে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী। অর্থাত্ পশ্চিমবঙ্গের মোট ভোটার (সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী) প্রায় ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ। হিসেব বলছে, ২৪ শতাংশ মানে প্রায় ১ কোটি ৭০ লক্ষ ভোটার।
২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের বয়সভিত্তিক জনবিন্যাসের যে ট্রেন্ড দেখা যাচ্ছে, তা হল, ২০২১ সালে ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের ভোটদানে অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো। ঠিক তারপরেই ২৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সীদের দাপট ভোটদানের হারে। ২০২২ সালের সার্ভে ডেটা বলছে, ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের ভোটদানের হার সবচেয়ে বেশি। ২৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সীরা স্থায়ী ভাবে ভোট দিচ্ছেন। মানে স্থিতিশীল। ৪৫ থেকে ৫৯ বছর বয়সের মধ্যে ভোটররা ভোট দিতে বেশ উত্সাহী। আবার ৬০ থেকে ৭৯ বছর বয়সের মধ্যে ভোটদানের প্রবণতা বাড়েওনি আবার কমেওনি। ভোটটা নিয়মিত দিচ্ছেন এঁরা। এই তথ্য বিস্তারিত রয়েছে ceowestbengal.wb.gov.in -এ।
অতএব ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে Gen Z ভোটাররা বড় ভূমিকা নিতে চলেছে। এই বিষয়টি রাজনৈতিক দলগুলিও বুঝে গিয়েছে। বিশেষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যুবসাথী প্রকল্প ঘোষণা, ওই ভোটব্যাঙ্কের দিকে তাকিয়েই বললেও অত্যুক্তি হয় না।
যুবশ্রী থাকতেও কেন যুবসাথী?
এবার আসা যাক, দ্বিতীয় প্রশ্নে। যুবশ্রী প্রকল্প থাকতেও কেন যুবসাথী প্রকল্পের ঘোষণা করলেন মমতা? যুবশ্রী প্রকল্প মমতা ঘোষণা করেছিলেন ২০১৩ সালে। এই প্রকল্প অনুযায়ী, কর্মসংস্থান ব্যাঙ্কে (Employment Bank) নথিভুক্ত কর্মপ্রার্থীদের প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা করে ভাতা প্রদান করা হয়। প্রকল্পটির দেখভাল করে পশ্চিমবঙ্গের শ্রম দফতর। আবেদনকারীকে ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সের মধ্যে হতে হবে।
যুবসাথী প্রকল্পে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জে নাম নথিভুক্ত করার প্রয়োজন নেই। মাধ্যমিক পাশ যুবক-যুবতীরা ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে বয়স,তাঁরা প্রতিমাসে দেড় হাজার টাকা করে পাবেন, যতদিন না চাকরি পাচ্ছেন। প্রথমে বাজেটে বলা হয়েছিল, ৫ বছর দেওয়া হবে। তারপর মুখ্যমন্ত্রী জানালেন, ৫ বছর পর রিনিউ হবে, যদি সংশ্লিষ্ট যুবক বা যুবতী চাকরি না পেয়ে থাকেন। এ ক্ষেত্রে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জে নাম তুলতে হবে না। পয়লা এপ্রিল থেকে ক্যাম্প হবে প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে, সেখানেই ফর্মে আবেদন করা যাবে।
যার নির্যাস, বেকার ভাতাকে আরও বেশি সংখ্যক যুবক-যুবতীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। তার ফলে ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী ভোটার, যাঁরা বেকার, তাঁদের হাতে সরাসরি দেড় হাজার টাকা চলে আসবে। আর এই সেগমেন্টে বেশিরভাগটাই কিন্তু Gen Z প্রজন্ম।