• 'দাদা, যুবসাথীর ফর্ম কবে পাব?' ভিড় বাড়ছে KMC-তে, অফিসারদের তৈরি থাকার নির্দেশ ফিরহাদের
    আজ তক | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • ‘যুবসাথীর ফর্ম দেওয়া শুরু হয়েছে?’ ‘কী কী কাগজ লাগবে?’, এমন প্রশ্নে গত কয়েক দিন ধরে কার্যত ব্যতিব্যস্ত কলকাতা পুরসভা। ধর্মতলার পুরভবনে এসে নিরাপত্তারক্ষী থেকে শুরু করে আধিকারিকদের পর্যন্ত একই প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে।

    জানা গেছে বহু যুবক পুরভবনে এসে জানতে চান, 'ফর্ম কি দিচ্ছে? কোন রুমে গেলে পাওয়া যাবে?' কর্তব্যরত নিরাপত্তারক্ষীর সোজাসাপ্টা উত্তর, 'এখনও কিছু শুরু হয়নি। ফর্ম দেওয়া শুরু হলে নিজের ওয়ার্ড থেকেই জানতে পারবেন,  কোথায় মিলবে, কী কী নথি লাগবে, কোথায় জমা দিতে হবে, সব জানিয়ে দেওয়া হবে।'

    এমন ঘটনা এক-দু’টি নয়। গত তিন-চার দিনে অন্তত ৩০ জনেরও বেশি মানুষ সরাসরি পুরভবনে এসে ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের খোঁজ নিয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। শুধু কেন্দ্রীয় দফতর নয়, বিভিন্ন ওয়ার্ড অফিস ও বরো অফিসেও একই ছবি। ফোনের পর ফোন পাচ্ছেন কাউন্সিলাররাও।

    গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাজ্য বাজেটে ঘোষণা হয়েছে ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের। মাধ্যমিক উত্তীর্ণ ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সি বেকার যুবক-যুবতীদের সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত মাসে ১,৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে, এমন ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে আগ্রহ তুঙ্গে। কবে আবেদন শুরু হবে, কীভাবে ফর্ম জমা দিতে হবে, তা জানতে উৎসাহী বহু তরুণ-তরুণী।

    গত মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, আগামী ১৫ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে বিশেষ ক্যাম্প করে আবেদনপত্র নেওয়া হবে। তবে এখনও পর্যন্ত পুরসভার হাতে কোনও নির্দিষ্ট নির্দেশিকা বা এসওপি (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর) এসে পৌঁছয়নি।

    কলকাতার ক'য়েকজন কাউন্সিলর জানিয়েছেন, অনেকেই ফোন করছেন, কেউ সরাসরি ওয়ার্ড অফিসে চলে আসছেন। বলা হচ্ছে, এখনও কোনও সরকারি নির্দেশ পাইনি। নির্দেশিকা এলেই জানিয়ে দেওয়া হবে কবে, কোথায় ক্যাম্প হবে এবং কী কী নথি লাগবে। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য মাইকিং করা যাচ্ছে না, তাই বাড়ি বাড়ি গিয়ে জানাতে হতে পারে।

    এদিকে, বুধবার মেয়র পরিষদের বৈঠকে আধিকারিকদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। ‘দুয়ারে সরকার’ বা ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’-এর মতো এই প্রকল্পেও শহরজুড়ে শিবির পরিচালনার দায়িত্ব পুরসভার উপরই বর্তাবে বলে জানা গিয়েছে।

    এক অফিসার জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। তবে এখনও স্পষ্ট কোনও রূপরেখা নেই, কতগুলি ক্যাম্প হবে, কীভাবে আয়োজন হবে, তা জানা যায়নি। কলকাতার মতো শহরে যদি বিধানসভাভিত্তিক একটি মাত্র ক্যাম্প করা হয়, তাহলে ভিড় সামাল দেওয়া কঠিন হবে। বরোভিত্তিক একাধিক শিবির করলে সুবিধা হয়।

     
  • Link to this news (আজ তক)