প্রসেনজিৎ মালাকার: বীরভূম জেলার তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত বোলপুর শহরে দাঁড়িয়েই শাসকদলকে তীব্র আক্রমণ করলেন বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। বৃহস্পতিবার বোলপুরে বিজেপির দলীয় কর্মসূচি “নিয়োগ চাই, বিজেপি তাই”-এ অংশ নিয়ে তিনি একদিকে যেমন তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন, তেমনই অন্যদিকে সনাতনী ভোটারদের উদ্দেশে বিজেপির পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
সৌমিত্র খাঁ বলেন, বীরভূমে তৃণমূল শাসনের জেরে যুবসমাজ কাজ না পেয়ে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিতে বাধ্য হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, বীরভূম জেলা পরিষদে গত কয়েক বছরে কয়েকশো কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। জেলা সভাধিপতি কাজল শেখ ও পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডল-এর নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, নকল গাড়ির ডিক্লারেশন দেখিয়ে বিপুল টাকা তোলা হয়েছে। ডেউচা-পাচামি প্রকল্প সঠিকভাবে শুরু হলে বীরভূমের যুবকদের কাজের সন্ধানে বাইরে যেতে হত না বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিনের বক্তব্যে বার বার তৃণমূলের বীরভূম জেলা কোর কমিটির আহ্বায়ক অনুব্রত মণ্ডলকে আক্রমণ করেন বিজেপি সাংসদ। অনুব্রত মণ্ডলকে কটাক্ষ করে তিনি বড় কথা বলেন। বলেন, নিজের ভবিষ্যৎ এবং পরিবারের ভালোর জন্য সনাতনীদের হয়ে বিজেপিকে ভোট দেওয়ার কথা ভাবা উচিত তাঁর। তবে অনুব্রত মণ্ডলের বিজেপিতে যোগদান প্রসঙ্গে সৌমিত্র খাঁয়ের স্পষ্ট জবাব, না, তেমন কোনও সম্ভাবনা নেই।
প্রসঙ্গত, গরু চুরি মামলায় দীর্ঘদিন জেলে ছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। দীর্ঘ দেড় বছরের উপর কারাবাসের পর ২০২৪-এর সেপ্টেম্বরে জেলমুক্তি ঘটে অনুব্রত মণ্ডলের। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর আর দলে বড় কোনও পদ পাননি। জেলা সভাপতির পদটাও গিয়েছে কারাবাসের সময়ে। এখন বীরভূম জেলার মাথায় তৃণমূলের একটি কোর কমিটি। সেখানে কাজল শেখেরও একচ্ছত্র ক্ষমতাও নেই। সেই পরিস্থিতিতে একবার বীরভূম তৃণমূলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলকে বলতে শোনা যায়, 'পদের মায়া করি না, পদ না পেলে অম্বল হয়ে যাবে এমনটা নয়।' আবার সম্প্রতি, SIR নিয়েও সুর চড়ান।
এছাড়াও মুর্শিদাবাদ প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাবরি মসজিদের বিষয়েও মন্তব্য করেন সৌমিত্র খাঁ। তিনি বলেন, মসজিদ নির্মাণে তাঁদের আপত্তি নেই, আপত্তি শুধুমাত্র নাম নিয়ে। একই সঙ্গে তিনি হুমায়ুন কবির তৃণমূল উৎখাতের যে সংকল্প নিয়েছেন, তা বজায় রাখার আবেদন জানান। সব মিলিয়ে বোলপুরের সভা থেকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, বেকারত্ব এবং উন্নয়নহীনতার অভিযোগ তুলে বিজেপির রাজনৈতিক লড়াই আরও ধারালো করলেন সৌমিত্র খাঁ।