• বড় খবর! মুখ্যমন্ত্রীর বিরাট ঘোষণা! লক্ষ্মীর ভান্ডার, যুবসাথীর পাশাপাশি এবার এঁদের দেওয়া হবে ৪০০০ টাকা...
    ২৪ ঘন্টা | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের মুকুটে যুক্ত হল আরও একটি পালক। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের অনুদান বৃদ্ধি এবং ‘যুব সাথী’ প্রকল্পের সূচনার পর এবার রাজ্যের ভূমিহীন কৃষি শ্রমিকদের জন্য বড়সড় আর্থিক সহায়তার কথা ঘোষণা করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ২০২৬ সালের রাজ্য বাজেটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মেহনতি মানুষের স্বার্থে একগুচ্ছ যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য প্রান্তিক কৃষকদের সামাজিক ও আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

    ভূমিহীন কৃষি শ্রমিকদের বার্ষিক ৪,০০০ টাকা সহায়তা

    রাজ্য সরকারের নতুন নীতি অনুযায়ী, যেসব কৃষি শ্রমিকের নিজস্ব কোনো জমি নেই কিন্তু জীবিকার তাগিদে অন্যের জমিতে চাষের কাজ করেন, তাঁরা এখন থেকে বার্ষিক ৪,০০০ টাকা সরাসরি আর্থিক সাহায্য পাবেন। অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বাজেট বক্তৃতায় স্পষ্ট করেছেন যে, জমির মালিকানা না থাকলেও যোগ্য কৃষি শ্রমিকরা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন না।

    টাকা প্রদানের পদ্ধতি: এই অনুদান একবারে দেওয়া হবে না। কৃষকদের সুবিধার্থে এটি দুটি সমান কিস্তিতে ভাগ করা হয়েছে: ১. প্রথম কিস্তি: রবি মরশুমে ২,০০০ টাকা। ২. দ্বিতীয় কিস্তি: খরিফ মরশুমে ২,০০০ টাকা।

    মুখ্যমন্ত্রী নবান্ন থেকে জানিয়েছেন, আগামী এপ্রিল মাস থেকেই এই প্রকল্পের টাকা উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে পাঠানো শুরু হবে।

    আবেদন পদ্ধতি ও বিশেষ ক্যাম্প

    এই প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দিতে রাজ্য সরকার ‘দুয়ারে সরকার’-এর আদলে প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু করেছে। আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে ধোঁয়াশা কাটাতে জানানো হয়েছে:

    ১. প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে বিশেষ ক্যাম্প বসানো হবে।

    ২. ইচ্ছুক কৃষি শ্রমিকদের সেই ক্যাম্পে গিয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ নাম নথিভুক্ত করতে হবে।

    আবেদনকারীদের তথ্যের ভিত্তিতে একটি শক্তিশালী 'ডাটাবেস' বা তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা হবে, যাতে প্রকৃত উপভোক্তার কাছেই টাকা পৌঁছায়।

    সেচ কর মকুব: চাষিদের বড় স্বস্তি

    নগদ অর্থ সাহায্যের পাশাপাশি কৃষিকাজের খরচ কমাতে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য। এতদিন চাষের জন্য সেচের জল বা পাম্প ব্যবহারের ক্ষেত্রে কৃষকদের সরকারকে বছরে ১,৫০০ থেকে ২,০০০ টাকা কর দিতে হতো। বেসরকারি পাম্পের ক্ষেত্রে এই খরচ ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছে যেত। এবারের বাজেটে ঘোষণা করা হয়েছে যে, এখন থেকে কৃষকদের কোনো সেচ কর বা জলকর দিতে হবে না। এই পরিষেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে মিলবে, যা ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিদের ওপর থেকে আর্থিক বোঝা অনেকটাই লাঘব করবে।

    কৃষক বন্ধু বনাম নতুন প্রকল্প: পার্থক্য কোথায়?

    রাজ্যে আগে থেকেই 'কৃষক বন্ধু' (নতুন) প্রকল্প চালু রয়েছে। সেখানে জমির মালিকানাধীন কৃষকরা বছরে সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা এবং সর্বনিম্ন ৪,০০০ টাকা পান। তবে ভূমিহীন শ্রমিকরা এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত ছিলেন না। নতুন এই ঘোষণার ফলে বাংলার কয়েক লক্ষ ভূমিহীন শ্রমিক, যাঁরা অন্যের জমিতে ঘাম ঝরিয়ে ফসল ফলান, তাঁরাও এখন থেকে কৃষক বন্ধুর ন্যূনতম সাহায্যের সমপরিমাণ (৪,০০০ টাকা) অনুদান পাবেন।

    রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপ কেবল আর্থিক অনুদান নয়, বরং ভূমিহীন শ্রমিকদের সামাজিক স্বীকৃতির এক অনন্য দলিল। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে অর্থ বৃদ্ধি (১,০০০ থেকে ১,৫০০ টাকা) এবং যুব সাথী প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের উদ্যোগের পাশাপাশি কৃষি খাতের এই আমূল পরিবর্তন গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও চাঙ্গা করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

     

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)