• ‘খুনি ইউনূসের সাজানো খেলা!’ ভোট বাতিলের দাবিতে ফুঁসে উঠলেন হাসিনা
    এই সময় | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • বাংলাদেশের ভোটগ্রহণ পর্ব মিটতেই ফুঁসে উঠলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবারের নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ এবং ‘অবৈধ’ বলে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। শুধু তাই নয়, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসকে ‘খুনি’ ও ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে তাঁর পদত্যাগ চাইলেন তিনি। সেই সঙ্গে ‘জনগণহীন’ নির্বাচন বাতিলের ডাক দিলেন তিনি।

    এ দিন ভোটগ্রহণ শেষ হতেই এক কড়া বিবৃতি জারি করেছেন শেখ হাসিনা। তাঁর অভিযোগ, আওয়ামি লিগ ও সাধারণ ভোটারদের বাদ দিয়ে হওয়া এই নির্বাচন ছিল আসলে ইউনূসের সাজানো নাটক।

    তিনি বলেন, ‘অবৈধ ও অসাংবিধানিক উপায়ে ক্ষমতা দখলকারী ইউনূসের এই আয়োজন জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে।’ তাঁর দাবি, দেশের মানুষ এই ‘জালি নির্বাচন’-কে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। এই ‘প্রহসনে অংশ না নেওয়া’য় বাংলাদেশি জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।

    বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের তথ্য উদ্ধৃত করে হাসিনা জানান, সকাল ১১টা পর্যন্ত মাত্র ১৪.৯৬ শতাংশ ভোট পড়েছে। বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর দাবি, এটাই ভোটের ‘পিক আওয়ার’ অর্থাৎ, অধিকাংশ ভোট এই সময়েই পড়ে যায়।

    হাসিনা বলেছেন, ‘এই নগণ্য উপস্থিতিই প্রমাণ করে যে আওয়ামি লিগ ছাড়া হওয়া এই নির্বাচন বয়কট করেছে জনগণ।’ হাসিনা আরও অভিযোগ করেছেন, ১১ ফেব্রুয়ারি রাত থেকেই বুথ দখল, ব্যালট পেপারে ছাপ মারা এবং এজেন্টদের ভয় দেখানোর মতো ঘটনা ঘটেছে।

    এ দিন স্পষ্ট ভাষায় ইউনূসের পদত্যাগ দাবি করেছেন হাসিনা। এ ছাড়া আরও বেশ কিছু দাবি করেছেন তিনি।

    এর মধ্যে রয়েছে— ১) অবিলম্বে এই ‘ভোটারহীন’ নির্বাচন বাতিল, ২) রাজনৈতিক বন্দি, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীদের মুক্তি, ৩) আওয়ামি লিগের উপরে যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে তা প্রত্যাহার এবং ৪) একটি নিরপেক্ষ তদারকি সরকারের অধীনে পুনরায় সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন।

    মজার বিষয় হলো, গত দু’বারের নির্বাচনে যখন হাসিনা ক্ষমতায় ছিলেন, ‘নিরপেক্ষ তদারকি সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন’-এর দাবি জানাতেন BNP, জামায়াতের মতো বিরোধী দলের নেতারা।

    প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, গত কয়েকদিন ধরে আওয়ামি লিগের কর্মী-সমর্থক এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপরে অকথ্য নির্যাতন চালানো হয়েছে। ভয় দেখিয়ে জোর করে তাদের বুথে আনার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও তাঁরা এই ‘প্রতারণা’-র নির্বাচনে অংশ নেননি। ঢাকার ভোটার তালিকা নিয়েও তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছেন, ‘ভোটার সংখ্যা অস্বাভাবিক ভাবে বেড়েছে। এটা সম্পূর্ণ অবিশ্বাস্য।’

    হাসিনার এই বিবৃতি নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করে কি না, সেটাই এখন দেখার।

  • Link to this news (এই সময়)