• কেন্দ্রের একাধিক নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বামপন্থী শ্রমিক সংগঠনগুলির, ধর্মঘটের মিশ্র প্রভাব রাজ্যে
    এই সময় | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • কেন্দ্রীয় সরকারের শ্রম, কৃষি, শিল্প, বাণিজ্য-সহ একাধিক নীতি বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে বৃহস্পতিবার দেশ জুড়ে শিল্প ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল ১০টি ট্রেড ইউনিয়ন। এই ধর্মঘটে সামিল ছিল ব্যাঙ্ক শিল্পের ইউনিয়নগুলোর যৌথমঞ্চ। রাজ্যে মোটের উপরে মিশ্র প্রভাব পড়ল ধর্মঘটের। হাওড়া থেকে উত্তর ২৪ পরগনা, মালদা থেকে বাঁকুড়া— বিভিন্ন জায়গায় বামপন্থী ট্রেড ইউনিয়নের নেতা-কর্মীরা প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করেন। তবে বেশিরভাগ জায়গাতেই কারখানা, ব্যাঙ্ক, চটকল চালু রাখার ছবি ধরা পড়েছে। নিউ টাউনের অফিসপাড়া থেকে হলদিয়া শিল্পাঞ্চলে তেমন কোনও প্রভাব পড়েনি ধর্মঘটের। সরকারি অফিসগুলিতেও ৯০ শতাংশের বেশি উপস্থিতি ছিল।

    সারা ভারতবর্ষে এ দিন সাধারণ ধর্মঘট পালন হলেও পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতিটা ছিল অন্যরকম। এ দিন থেকেই রাজ্যে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু। ছেলেমেয়েদের যাতে পরীক্ষা দিতে যেতে অসুবিধা না হয় সেই কারণে রাস্তায় যানজট না হওয়ার জন্যে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করা হয় জেলা সদর-সহ রাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায়। এর মধ্যেও বিক্ষিপ্ত প্রভা পরে ধর্মঘটের। বেশ কিছু জায়গায় তৃণমূলপন্থী ট্রেড ইউনিয়নের সদস্যরা ধর্মঘটের বিরোধিতা করে রাস্তায় নামেন।

    কলকাতার নিউ টাউনে বিভিন্ন ব্যাঙ্কে হাজির হন ধর্মঘট সমর্থনকারীরা। ব্যাঙ্কের কর্মীদের কাজ বন্ধ রাখার অনুরোধ করা হয়। অন্য দিকে, এই শিল্প ধর্মঘটে তেমন কোনও প্রভাব পড়েনি হলদিয়া শিল্পাঞ্চলে। হলদিয়ার বিভিন্ন শিল্পসংস্থার সামনে চলে সিটুর বিক্ষোভ পিকেটিং। তবে শিল্পাঞ্চলের বেশির ভাগ কারখানায় কর্মীরা কাজে নিযুক্ত ছিলেন।

    অন্য দিকে, হুগলির ভদ্রেশ্বরের শ্যামনগর নর্থ জুটমিলে কাজে যোগ দেননি শ্রমিকরা। জুটমিল গেটে পিকেটিং করে ধর্মঘট সমর্থনকারীরা। মর্নিং শিফটে শ্রমিকরা এলেও মিলে ঢোকেননি কেউ। হাওড়ার বালি জুটমিলে সামনে বেঙ্গল চটকল মজদুর ইউনিয়নের সকল সদস্যরা মিলে গেটের সামনে পিকেটিং করে। মিলে হাজিরা ছিল অনেকটাই কম। সকালবেলায় প্রায় জোর করেই জুটমিল খোলার চেষ্টা করেছে INTTUC। যদিও কোথাও কোনও গন্ডগোলের খবর নেই। হুগলির বাঁশবেড়িয়ার গ্যাঞ্জেস জুট মিলেও শ্রমিকরা কাজে যোগ দেননি। মিল গেটের পিকেটিং করেন ধর্মঘট সমর্থনকারীরা।

    বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বড়জোড়া শিল্পাঞ্চল-সহ বাঁকুড়া শহরে জড়ো হন বামপন্থী শ্রমিক সংগঠনের কর্মী-সমর্থকেরা। স্লোগান, ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে ধর্মঘটের সমর্থনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়।

    মালদা শহরের বিভিন্ন ব্যাঙ্ক ও বীমা সংস্থার অফিসের সামনে পিকেটিং করেন ধর্মঘট সমর্থনকারীরা। শ্রমকোড বাতিল, বিদ্যুৎ আইন বাতিল, কৃষি ঋণ মকুব, সম কাজে সম বেতন-সহ নানা দাবি-দাওয়া নিয়ে সরব হন। এ দিনের এই শিল্প ধর্মঘট সফল করতে পিকেটিং কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন সিটুর জেলা সভাপতি প্রণব দাস, সিটু নেতা অম্বর মিত্র, নীলয় গঙ্গোপাধ্যায়, মিন্টু চৌধুরী, নুরুল ইসলাম-সহ অন্যান্যরা।

    ধর্মঘটকে কেন্দ্র করে এ দিন বোলপুরে কিছুটা অশান্তি হয়। বোলপুরের চিত্রা মোড়ের কাছে বনধ সমর্থনকারীদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি হয় পুলিশের। বিষয়টি নিয়ে সিপিএমের জেলা সম্পাদক গৌতম ঘোষ বলেন, ‘বিজেপির বিরুদ্ধে আজকের বনধ। অথচ তৃণমূলের পুলিশ বাধা দিচ্ছে।’

  • Link to this news (এই সময়)