কলকাতার ‘এসপ্ল্যানেড রো’-এর নাম পরিবর্তন হয়েছিল আগেই। সড়কটির নতুন নাম হয়েছে ‘জাস্টিস রাধাবিনোদ পাল সরণি’। এ বার বদলে গেল কলকাতা হাইকোর্টের অফিশিয়াল ঠিকানাও। কলকাতা হাইকোর্টের নতুন ঠিকানা হলো— ‘হাইকোর্ট অ্যাট ক্যালকাটা, ৩, জাস্টিস রাধাবিনোদ পাল সরণি, কলকাতা–৭০০০০১’। গত মে মাসে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সাফল্য সম্বন্ধে বক্তৃতা দিতে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি দলের সদস্য হয়ে জাপানে গিয়েছিলেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময়েই অভিষেকের কাছে বিচারপতি পালের পরিবারের সদস্যরা স্বীকৃতির আবেদন জানিয়েছিলেন। গত অগস্ট মাসেই এই রাস্তার নতুন নামকরণ করেছিল কলকাতা পুরসভা।
ভারতের আইন জগতের অন্যতম পথিকৃৎ বিচারপতি রাধাবিনোদ পাল। ব্রিটিশ শাসিত ভারতে অবিভক্ত নদিয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন রাধাবিনোদ পাল। ১৯২০ সালে রাজশাহী কলেজ থেকে আইনে স্নাতকোত্তর হন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন নিয়ে অধ্যাপনা করেন। পরে কলকাতা হাইকোর্টে আইনি পেশায় যোগদান করেন। ১৯৪১-৪৩ সাল পর্যন্ত তিনি কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ছিলেন। পরবর্তী কালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হয়েছিলেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে দূরপ্রাচ্যে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের বিচারার্থে তৈরি আন্তর্জাতিক সামরিক আদালতের অন্যতম বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন রাধাবিনোদ। সেই সময়ে জাপানকে যুদ্ধাপরাধ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে তিনি ‘জাপান বন্ধু ভারতীয়’ বলে খ্যাতি অর্জন করেন। পেয়েছিলেন জাপানের সর্বোচ্চ সম্মানও।
উল্লেখ্য, গত অগস্ট মাসেই এই ‘এসপ্ল্যানেড রো’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘জাস্টিস রাধাবিনোদ পাল সরণি’ করে কলকাতা পুরসভা। সেই সময়ে রাধাবিনোদ পালের পরিবারের তরফে সুধী বিনোদ পাল বলেন, ‘মৃত্যুর ৬৭ বছর পরে এই স্বীকৃতি মেলায় আমরা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কলকাতা পুরসভার কাছে কৃতজ্ঞ।’
বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে একটি পোস্ট করে লেখা হয়েছে, ‘এই নামকরণ আমাদের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের দেওয়া আশ্বাসের পরিপূর্ণতা। আমরা আমাদের আদর্শদের প্রাপ্য সম্মান এবং মর্যাদা দিয়ে সম্মানিত করে যাব।’