আজকাল ওয়েবডেস্ক: মায়ের চক্ষুদানকে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তার হওয়া সমাজকর্মী ও শিক্ষক আমির চাঁদ শেখ এবং তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের অবশেষে নিঃশর্ত জামিন মঞ্জুর করল কৃষ্ণনগর আদালত। চারদিনের জেল হেফাজতের পর বৃহস্পতিবার বেলা প্রায় দু’টো নাগাদ নদিয়া জেলা আদালতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে নদিয়া জেলা আদালতের বিচারক জেএম (পঞ্চম) আমির চাঁদ শেখসহ পরিবারের চার সদস্যের জামিন মঞ্জুর করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, অভিযোগকারী রশিদ শেখ এদিন আদালতে জানান যে পুরো ঘটনাটি ছিল একটি ভুল বোঝাবুঝির ফল। তাৎক্ষণিক উত্তেজনা ও বিভ্রান্তির কারণে তিনি অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। পরবর্তীতে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বুঝতে পেরে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন এবং আমির চাঁদ শেখের জামিনে তাঁর কোনও আপত্তি নেই বলেও আদালতে জানান। অন্যদিকে, সরকার পক্ষ থেকেও জামিনের বিরোধিতা করা হয়নি।
এই প্রেক্ষিতেই বিচারক বিনাশর্তে জামিনের নির্দেশ দেন। উল্লেখ্য, গত শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি নদিয়ার কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার অন্তর্গত শেনপুর শ্যামনগর পাড়ার বাসিন্দা রাবেয়া বিবির মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর প্রতিবেশীদের পক্ষ থেকে কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয় যে রাবেয়া বিবির দুই চোখ নাকি বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ রাবেয়া বিবির তিন পুত্র আমির চাঁদ শেখ, আব্দুল শেখ ও সাব্দুল শেখ সহ পরিবারের অন্য সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁদের আদালতে তোলা হলে বিচারক চার দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।
ঘটনার পর থেকেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। আমির চাঁদ শেখকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার সামনে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে বিক্ষোভও দেখানো হয়। বিক্ষোভকারীদের দাবি ছিল, চক্ষুদান একটি মানবিক ও সামাজিক কাজ , অন্যায় ভাবে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে , অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি তুলেছিলেন । আমির চাঁদ শেখ পেশায় একজন শিক্ষক এবং পাশাপাশি বিজ্ঞানমনস্ক সমাজকর্মী। গ্রেপ্তারের পর কৃষ্ণনগর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানিয়েছিলেন, স্থানীয়দের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অবশেষে আজ আদালতের নির্দেশে তাঁদের নিঃশর্ত জামিন মঞ্জুর হওয়ায় পরিবার ও সমর্থকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।