বিধানসভা ভোটের আগে বড় সিদ্ধান্ত স্বাস্থ্য দপ্তরের!
আজকাল | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে পশ্চিমবঙ্গের জেলাগুলিতে নাগরিকদের মন রাখতে এবার স্বাস্থ্য দপ্তরের বড় সিদ্ধান্ত। রোগীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে ‘সন্ধ্যাকালীন ওপিডি’ খোলার সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর। সকালের আউটডোরের পাশাপাশি এবার বিকেল ৩টে থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চালু হতে চলেছে ‘ইভিনিং ওপিডি’ বা সান্ধ্যকালীন আউটডোর পরিষেবা। প্রায় ১৫ দিন আগে জেলার সিএমওএইচদের সঙ্গে বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন এক শীর্ষ স্বাস্থ্যকর্তা। লোকবলের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দ্বিতীয় স্তরের হাসপাতালগুলিতে (মূলত জেলাগুলিতে) ধাপে ধাপে এই পরিষেবা চালু করা হবে কিছুদিনের মধ্যেই।
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে খবর, প্রথম পর্যায়ে রাজ্যের সব সুপার স্পেশালিটি, স্টেট জেনারেল, মহকুমা এবং জেলা হাসপাতালে এই ইভিনিং ওপিডি চালু হবে। বর্তমানে রাজ্যে ১৪টি জেলা হাসপাতাল রয়েছে। সুপার স্পেশালিটি, মহকুমা ও স্টেট জেনারেল মিলিয়ে মোট রয়েছে ৭১টি হাসপাতাল। সবমিলিয়ে মোট ৮৫টি জেলা স্তরের হাসপাতালে শুরু হতে চলেছে এই সান্ধ্যকালীন পরিষেবা। প্রথমে স্ত্রীরোগ-প্রসূতি (গাইনি) এবং শিশু বিভাগে আউটডোর পরিষেবা চালু হবে। স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশ অনুযায়ী, কোনও বিভাগে ন্যূনতম ৪-৫ জন চিকিৎসক থাকলে তবেই সেই বিভাগে ইভিনিং ওপিডি শুরু করা যাবে। পরবর্তী পর্যায়ে মেডিসিন, সার্জারি-সহ অন্যান্য বিভাগেও পরিষেবা সম্প্রসারণ করা হবে। বালুরঘাট, শিলিগুড়ি-সহ একাধিক জেলা হাসপাতালে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে গাইনি ও শিশু বিভাগের পাশাপাশি মেডিসিন ও সার্জারি বিভাগেও সন্ধ্যাকালীন ওপিডি চালু হবে। কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালেও শুরু হচ্ছে এই পরিষেবা।
দক্ষিণ ২৪ পরগনায় এতদিন ‘কোল্ড কেস’ রোগীদের সন্ধ্যায় ইমার্জেন্সিতেই দেখা হত। এবার তাঁদের জন্য আলাদা সান্ধ্যকালীন আউটডোর চালু করা হচ্ছে এবং রোগীর হিসাব রাখার জন্য পৃথক রেজিস্টার রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের হাসপাতালগুলিতেও আলাদাভাবে এই পরিষেবা চালু করার প্রস্তুতি চলছে।
তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে স্বাস্থ্য প্রশাসনের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একাধিক জেলা ও মহকুমা হাসপাতালের সুপারদের প্রশ্ন— যদি পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও কর্মী না থাকে, তবে কীভাবে এই অতিরিক্ত আউটডোর চালানো সম্ভব? ইতিমধ্যেই বহু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত ডাক্তার, নার্স, ফার্মাসিস্ট, টেকনোলজিস্ট, গ্রুপ-ডি কর্মী ও নিরাপত্তারক্ষীর জন্য দাবি জানিয়েছেন। আরও একটি বাস্তব সমস্যা সামনে এসেছে। সন্ধ্যাকালীন সময় বহু চিকিৎসকের ব্যক্তিগত চেম্বারের ‘পিক টাইম’। সেই সময়ে তাঁদের সরকারি আউটডোরে ধরে রাখা যাবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
এই পরিষেবা নিয়ে সরাসরি রাজ্যের স্বাস্থ্য সচিব নারায়ন স্বরূপ নিগমকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানিয়েছেন, বেলা ২টো অবধি সকালের ওপিডি। পর্যাপ্ত পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না জেলা হাসপাতালগুলির। সেজন্যই এই সন্ধ্যাকালীন ওপিডির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের একটি বৈঠক হয় ১৫ দিন আগে। আগামী খুব শীঘ্রই এই পরিষেবা জেলাগুলিতে শুরু করা হবে। তবে এই মুহূর্তে জেলা হাসপাতাল গুলির প্রসূতি ও শিশু বিভাগ সহ কিছু বিভাগে শুরু করা হচ্ছে। পরবর্তীতে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে তবে সমস্ত বিভাগে এই পরিষেবা চালু করা হবে।
স্বাস্থ্যদপ্তরের মতে, কর্মজীবী মানুষ, ছাত্রছাত্রী এবং দূরবর্তী এলাকার রোগীদের কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত। দিনের ব্যস্ততায় যারা সকালবেলার ওপিডিতে যেতে পারেন না, তাঁদের জন্য বিকেলের এই পরিষেবা বিশেষ সহায়ক হবে বলেই মনে করছে দপ্তর। রাজ্যের জেলা স্তরে হাসপাতাল গুলিতে বিধানসভা নির্বাচনের পূর্বে রাজ্যে স্বাস্থ্য বিভাগের এই সিদ্ধান্ত অতীব গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। এখন দেখার, পর্যাপ্ত পরিকাঠামো ও জনবল জোগাড় করে এই উদ্যোগ কতটা সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়। তবে স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও নাগরিকবান্ধব করার পথে এটি যে বড় পদক্ষেপ, তা বলাই যায়।