'বন্দে মাতরম'-বিকৃত করেছে কেন্দ্র? অভিযোগ তৃণমূলের
আজকাল | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: সব সরকারি অনুষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় আয়োজনে তিন মিনিট দশ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের ‘বন্দেমাতরম’-এর ছয় স্তবকের অনুমোদিত সংস্করণ বাজানো বা গাওয়া বাধ্যতামূলক করল কেন্দ্রীয় সরকার। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, আনুষ্ঠানিকতা ও প্রোটোকলের একরূপতা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও রাজ্যগুলির কাছে ইতিমধ্যেই নির্দিষ্ট সংস্করণ ও সময়সীমা সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে।
এর মাঝেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বিরাট অভিযোগ তুলেছে রাজ্যের শাসক দল। তৃণমূল কংগ্রেসের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে, ফেসবুকে একটি পোস্ট করা হয়েছে। সেখানে পাশাপাশি দুটি ছবিকে তুলে ধরা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, একটি ছবি কেন্দ্রের নোটিসের এবং অন্য ছবিটি মূল আনন্দমঠ-এ লেখা বন্দে মাতরমের। সেখানে লেখা হয়েছে, 'প্রথমে, অমিত শাহের দিল্লি পুলিশ বাংলাকে 'বাংলাদেশি ভাষা' তকমা দিয়েছে। এরপর বিজেপি নেতা অমিত মালব্য বলেছেন, বাংলা বলে কোনও ভাষাই নেই। তারপর, নরেন্দ্র মোদি সংসদের ফ্লোরে সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে 'বঙ্কিম দা' বলে সম্বোধন করেছেন। এরপর অনুরাগ ঠাকুর “বন্দে মাতরম”-কে “বন্দে ভারত” বলে উল্লেখ করেছেন। আর এখন, একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'আনন্দমঠ'-এ লেখা “বন্দে মাতরম”-এর মূল গানটিকেই বিকৃত করেছে।'
এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, কেন্দ্রের নয়া নির্দেশ। কী বলা হয়েছে তাতে? নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় মুহূর্তে—বিশেষ করে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সময় এবং রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে—‘বন্দেমাতরম’ পরিবেশন করতে হবে। শুধু তাই নয়, রাষ্ট্রপতির ভাষণ বা জাতির উদ্দেশে ভাষণের আগে ও পরে এই ছয় স্তবকের সংস্করণ বাজানো বা গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই নির্দেশ রাজ্যপালদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। সরকারি কর্মসূচিতে রাজ্যপালের আগমন ও ভাষণের আগে এবং পরে নির্ধারিত সংস্করণের ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশন করতে হবে। কেন্দ্রের মতে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরকারি অনুষ্ঠান পালনের ক্ষেত্রে যাতে অভিন্ন প্রোটোকল অনুসরণ করা হয়, সেই লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগে ‘বন্দেমাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উদ্যাপন শুরুর পরপরই এই নির্দেশ জারি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি এক বছরব্যাপী উদ্যাপনের সূচনা করেন এবং জাতীয় সঙ্গীতকে সম্মান জানিয়ে বিশেষ স্মারক ডাকটিকিট ও স্মারক মুদ্রা প্রকাশ করেন। ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৭ নভেম্বর পর্যন্ত দেশজুড়ে এই কর্মসূচি চলবে।