সন্দীপ ঘোষচৌধুরী: সুস্থ হয়ে ওঠার পথেই ফুসফুসে সেকেন্ডারি ইনফেকশন! ভেন্টিলেশনে দিয়েও আর শেষরক্ষা হল না। মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন নিপায় আক্রান্ত মহিলা নার্স। শোকের ছায়া পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটে।
নিপা সংক্রমণের মৃত ওই নার্সের বাড়িতে মঙ্গলকোটের কোঁয়ারপুর গ্রামে। আজ, বৃহস্পতিবার বিকেলে যখন গ্রামে মৃত্যুসংবাদ পৌঁছয়, তখন কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা। সামান্য জ্বর- ঠান্ডা লাগা থেকে যে এমন মর্মান্তিক পরিণতি কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না কেউই।
পরিবারের সূত্রে খবর, প্রথমদিকে সামান্য জ্বর ও ঠাণ্ডা লাগার উপসর্গ দেখা দিয়েছিল। গ্রামের বাড়িতে ফিরে এসেছিলেন ওই নার্স। তখন কিন্তু বোঝা যায়নি যে, তিনি নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত। কাটোয়ার এক চিকিত্সকের কাছে গিয়েছিলেন। এরপর ৩ জানুয়ারি ফের জ্ঞান হারান ওই নার্স। এরপর আর কোনও ঝুঁকি নেননি পরিবারের লোকেরা। মেয়েকে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করে দেন তাঁরা। সেখানে থেকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ, শেষে বারাসাতের একটি নার্সিংহোমে। এরপরই প্রথম জানা যায়, নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত ওই নার্স।
পরিবারের দাবি, প্রথমদিকে উপসর্গ এতটাই সাধারণ ছিল যে, কেউই বিপদের আশঙ্কা করেননি। ৩১ ডিসেম্বর চাকরি পরীক্ষা দিতে গুসকরায় গিয়েছিলেন ওই নার্স। তারপর আবার ফিরে আসেন গ্রামের বাড়িতেই। সেখান থেকেই অসুস্থতার সূত্রপাত বলে মনে করা হচ্ছে। মেয়ের মৃত্য়ুসংবাদ পেয়ে ইতিমধ্যে বারাসতের নার্সিংহোমে পৌঁছে গিয়েছেন বাবা-মা। গ্রামের বাড়িতে রয়েছেন দাদু-ঠাকুমা। প্রতিবেশীরা জানান, ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় মেধাবী ও কর্মঠ ছিলেন ওই তরুণী। নার্স হিসেবে মানুষের সেবা করাই ছিল তাঁর একমাত্র লক্ষ্য।
খবর দেওয়া হয় স্বাস্থ্য ভবনকে। তাঁকে ভেন্টিলেশনে দেওয়া হয় আজ। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। মৃত্যু হল ওই নার্সের। মহিলা নার্সের বাড়ি বর্ধমানের কাটোয়াতে। তবে নিপা আক্রান্ত পুরুষ নার্সের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলেই জানা গিয়েছে। তাঁকে জানুয়ারি মাসেই হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মহিলা নার্সকে ভেন্টিলেশনে দেওয়া হয়। কবে? আজ, বৃহস্পতিবার। কিন্তু শেষরক্ষা হল না।