• মৃত বা ভুয়ো বলে নাম বাদ যাঁদের, ভোটের দিন তাঁরাও ভোট দিতে পারবেন! সুপ্রিম রায়ের জেরে বড় পদক্ষেপ কমিশনের...
    ২৪ ঘন্টা | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • অর্কদীপ্ত মুখোপাধ্যায়: ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্রমশ চড়ছে রাজনৈতিক পারদ। কবে ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করা হবে এবং কত দফায় এই মেগা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, তা নিয়ে এখন রাজ্য রাজনীতিতে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রের খবর, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে মার্চ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহেই বাজতে পারে ভোটের দামামা।

    নির্বাচন কমিশনের তৎপরতা ও ফুল বেঞ্চের সফর

    ভোটের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে আগামী ১ ও ২ মার্চ রাজ্যে আসছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। এই দুই দিনে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO), প্রশাসনিক আধিকারিক এবং রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সারবেন কমিশনের শীর্ষ কর্তারা। জানা যাচ্ছে, দোল উৎসব মিটে যাওয়ার পরপরই সম্ভবত নির্বাচনের নির্ঘণ্ট বা 'শিডিউল' ঘোষণা করে দেওয়া হবে।

    কত দফায় ভোট?

    সবচেয়ে বড় কৌতূহল তৈরি হয়েছে ভোটের দফা নিয়ে। সূত্রের খবর, জাতীয় নির্বাচন কমিশন এবার চার দফায় রাজ্যে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে চাইছে। যদি চার দফায় ভোট হয়, তবে এপ্রিল মাসের মধ্যেই সমগ্র নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষ করে ফেলার পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের। যদিও শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনী এবং অন্যান্য লজিস্টিক সুবিধা বিচার করে এই দফার সংখ্যা পরিবর্তন হতে পারে কি না, সেদিকে নজর রয়েছে সকলের।

    ভোটার তালিকা ও বুথ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তারিখ

    নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই বেশ কিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চাইছে কমিশন:

    ২৫ ফেব্রুয়ারি: কোন কোন বহুতল আবাসনে নতুন বুথ তৈরি করা হবে, সেই তালিকা প্রকাশ করবে কমিশন। শহরাঞ্চলে ভোটদানের হার বাড়াতে এটি একটি বড় পদক্ষেপ।

    ২৮ ফেব্রুয়ারি: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া শেষে প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। এই তালিকার ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে আগামী সরকারের ভাগ্য।

    নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার প্রস্তুতি

    ভোট যাতে সম্পূর্ণ অবাধ ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, তার জন্য এখন থেকেই আঁটোসাঁটো পরিকল্পনা করা হচ্ছে। একদিকে যেমন ভোটারদের তথ্য যাচাই ও বুথ বিন্যাসের কাজ চলছে, অন্যদিকে স্পর্শকাতর এলাকা চিহ্নিতকরণের কাজও শুরু করেছে কমিশন।

    মার্চের শুরুতেই কমিশনের ফুল বেঞ্চের সফরের পর বাংলার ভোটচিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, দোলের আগেই নির্বাচনী উত্তাপে ফুটতে শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গ।

    নির্বাচন কমিশন বৃহস্পতিবার জানিয়েছে- 

    ১. যাঁর খসড়া তালিকায় নাম ছিল অথচ চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় যদি নাম না আসে, তাহলে তাঁকে চিঠি দিয়ে কারণ জানানো হবে তাঁর নাম কেন বাদ গিয়েছে। এ ছাড়া, কোনও ভোটারের নাম নির্বাচনের নমিনেশনের দিন পর্যন্ত অ্যাড হতে পারে।

    ২. ৬ হাজার ৩০০ নতুন রাজ্য সরকারের দেওয়া গ্রুপ-বি আধিকারিক জয়েন করেছেন ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টার মধ্যে। তাঁদের মধ্যে, প্রায় ৪০০ জন AERO-ই রয়েছেন। এই AERO-দের বাদ দেওয়া হবে। অন্য দিকে, এঁদের মধ্যে বেশিরভাগই গ্রুপ-বি অফিসার নন। সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে কমিশনের তরফে।

    ৩. কত লোক কোন জেলায় নতুন মাইক্রো অবজ়ার্ভার হিসেবে জয়েন করবেন, সেই সংখ্যা CEO-র কাছে আসেনি। এ ছাড়া CEO, DM-দের থেকে জানতে চেয়েছিলেন দুপুর তিনটের মধ্যে, কী করে মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের তালিকায় এই প্রায় ৪০০ জন AERO এলেন। এখনও পর্যন্ত রিপোর্ট দিয়েছেন DM DARJEELING, DM ALIPURDUAR।

    ৪. PUBLIC UTILITY ANGLE : ASDD তালিকায় অর্থাৎ, মৃত-ভুয়ো-স্থানান্তরিত-অনুপস্থিতের তালিকায় যদি কোনও ভোটারের নাম থাকে, তাহলেও ভোটের দিন তিনি ভোট দিতে পারবেন। 

    সেক্ষেত্রে, প্রিসাইডিং অফিসারের কাছে একটি তালিকা থাকে সেই ASDD-র। সংশ্লিষ্ট সেই ভোটার যদি ভোট দিতে চান, সেক্ষেত্রে তাঁকে যথোপযুক্ত প্রমাণ নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে এটি প্রমাণ করার জন্য যে তিনি জীবিত এবং তাঁর সমস্ত তথ্য সঠিক। 

    এরপর তিনি প্রিসাইডিং অফিসারের উপস্থিতিতে একটি ডিক্ল্যারেশন ফর্ম ফিলআপ করবেন যেখানে তিনি সমস্ত তথ্য দেবেন এবং প্রিসাইডিং অফিসার যাচাই করে দেখবেন। রাজ্যের CEO জানান, পরবর্তীতে যদি প্রমাণিত হয়, যে ওই ভোটার ভুল তথ্য পরিবেশন করে ভোট দিয়েছেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ করা হবে।

     

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)