• পা ভাঙা নবজাতকের মৃত্যুতে ব্যাপক উত্তেজনা আরজি করে
    এই সময় | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়: এক সদ্যোজাতের মৃত্যুকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল আরজি কর হাসপাতালে (RG Kar Hospital)। সিজ়ারের সময়ে চিকিৎসার গাফিলতিতে নবজাতকের পা ভেঙে যায় বলে অভিযোগ। একরত্তির মৃত্যুতে সেই অভিযোগ ক্ষোভে বদলে যায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে। এ দিন সকালে হাসপাতালের ভিতরে বিক্ষোভ দেখান মৃত শিশুর পরিবারের সদস্যরা। এ দিনই আবার মৃত সন্তান প্রসবের অভিযোগ ঘিরেও আর এক প্রসূতির পরিবারের তরফেও বিক্ষোভ দেখানো হয়।

    যদিও হাসপাতাল সূত্রে খবর, দু'টি ঘটনাতেই গাফিলতির কোনও চিহ্ন মেলেনি। এবং পা ভেঙে নয়, ওই সদ্যোজাতের মৃত্যু হয়েছে জন্মাবধি অক্সিজেনের ঘাটতিতে। কী ভাবে পা ভাঙলো, তারও সম্ভাব্য ব্যাখ্যা দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, গত সোমবার শোভাবাজার হাটখোলার বাসিন্দা সিমরান কুমারীকে আরজি করের 'অ্যানেক্স' অবিনাশ দত্ত ম্যাটার্নিটি হোমে ভর্তি করা হয়। বুধবার সকালে সিজ়ার হয় তাঁর। জন্মায় কন্যা সন্তান।

    পরিজনের অভিযোগ, প্রসবের পরে চিকিৎসকরা তাঁদের জানান, অস্ত্রোপচারের সময়ে নবজাতকের বাঁ পায়ের ফিমার বোন ভেঙে গিয়েছে। এও জানানো হয়, জন্মের পরেই শিশুটির তীব্র শ্বাসকষ্ট দেখা দেওয়ায় তাকে অক্সিজেন সাপোর্টে রেখে আরজি করের এসএনসিইউ-তে স্থানান্তরিত করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় বৃহস্পতিবার সকালে শিশুটিকে ভেন্টিলেশনে দেওয়া হলে দুপুরে তার মৃত্যু হয়।

    এই ঘটনায় চিকিৎসকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, শিশুটির 'ব্রিচ প্রেজেনটেশন' ছিল। অর্থাৎ গর্ভের মধ্যে শিশুটির মাথা নীচের দিকে না থেকে উপর দিকে ছিল। প্রথমে নর্মাল ডেলিভারির চেষ্টা করা হলে চিকিৎসকেরা দেখতে পান, অবস্থান ঠিক করার সময়ে শিশুটির মাথায় চাপ পড়ছে। তখন জরুরি ভিত্তিতে সিজ়ার করা হয়। অস্ত্রোপচারের সময়েই নবজাতকের বাঁ পায়ের ফিমার হাড় ভাঙা ধরা পড়ে।

    যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, মৃত্যুর কারণ ফ্র্যাকচার নয়, বার্থ অ্যাসফিক্সিয়া। কারণ জন্মের পরে ওই নবজাতকের ফুসফুস প্রসারিত হয়নি। এক বারও কাঁদেনি সে। ফলে মস্তিষ্ক–সহ গোটা শরীরেই প্রবল অক্সিজেনের ঘাটতি হয়। শরীরে কার্বন ডাই–অক্সাইড জমে গিয়ে জেরে মাল্টি-অর্গান ফেলিয়োর হয়ে মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

    অন্য দিকে, তিলজলার বাসিন্দা পারুল খাতুন মৃত সন্তান প্রসব করেন। তার জেরেও উত্তেজনা ছড়ায় হাসপাতালে। তাঁকে গত সোমবার হাসপাতালের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগে ভর্তি করানো হয়। তাঁর স্বামী বিশ্বকর্মা প্রামাণিকের অভিযোগ, বুধবার রাতে সিজ়ারের জন্য নিয়ে যাওয়ার পরে তাঁকে মৃত সন্তানের কথা জানানো হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, অস্ত্রোপচারের সময়েই দেখা যায়, শিশুটি গর্ভেই মারা গিয়েছে।

    আরজি করের উপাধ্যক্ষ সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায় বলেন, 'প্রাথমিক তদন্তে চিকিৎসায় গাফিলতির প্রমাণ মেলেনি। তবে দু'টি ঘটনারই বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে এবং পরিবারের সদস্যদের লিখিত অভিযোগ জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে। কিন্তু কোনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি।'

  • Link to this news (এই সময়)