• বহুতল হস্টেলের নীচে নার্সের রক্তাক্ত দেহ, মরণঝাঁপ না খুন?
    এই সময় | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়, দুর্গাপুর: ডিউটি শেষ করে রাতে একে একে হস্টেলে ফিরছেন নার্সিং স্টাফরা। ফ্রেশ হয়ে খাওয়াদাওয়া করবেন সবাই। কিন্তু তাঁদের সহকর্মী মন্দিরা পালকে হস্টেলের রুমে না–দেখে তাঁর খোঁজ শুরু হয়। সে সময়ে হস্টেলের বাঁ দিকে ঝোপের কাছে হঠাৎ কিছু লোক জটলা করেন। সেখান থেকে চিৎকার শুনে তড়িঘড়ি কয়েকজন নার্স নেমে আসেন নীচে। ঝোপের কাছে গিয়ে দেখেন, সেখানে পড়ে আছে ২৪ বছর বয়সি মন্দিরার রক্তাক্ত দেহ।

    বুধবার রাতে ঘটনাটি ঘটে কাঁকসা ব্লকের গোপালপুরে। সহকর্মীরা মন্দিরার দেহ দেখে কলেজে খবর দেন। কলেজ থেকে খবর দেওয়া হয় পুলিশে। কাঁকসা থানার মলানদিঘি ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে প্রাথমিক তদন্ত করার পরে দেহ দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায়। খবর দেওয়া হয় মন্দিরার বাড়ির লোকেদের।

    বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর শহরের ১৯ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার বাসিন্দা মন্দিরা। কাঁকসার মলনাদিঘির একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নার্স ছিলেন। কলেজ থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে গোপালপুরে ওই বহুতল আবাসনে নার্সদের থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সেই বিল্ডিংয়ের আট তলায় থাকতেন মন্দিরা। সহকর্মী এক নার্স বিন্দিয়া কুমারি বলেন, ‘আমি ১০ তলায় থাকি। রাতে হাসপাতাল থেকে ফিরে এসে শুনলাম, বিল্ডিং থেকে পড়ে মৃত্যু হয়েছে মন্দিরার। কী ভাবে পড়েছে, তা জানি না।’ মন্দিরা নিজে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন নাকি কেউ তাঁকে ঠেলে ফেলে দিয়েছে, এই নিয়ে দেখা দিয়েছে রহস্য।

    বৃহস্পতিবার সকালে হস্টেলে আসেন মৃতের বাবা সাগর পাল, ভাই–সহ অন্য আত্মীয়রা। পেশায় ফল ব্যবসায়ী মন্দিরার বাবা বলেন, ‘আমার দুই মেয়ে এক ছেলে। মন্দিরা ছোট মেয়ে। বেঙ্গালুরুতে নার্সিং পড়েছে। তার পরে বিষ্ণুপুরে একটি নার্সিংহোমে কাজ করত। আট মাসে আগে দুর্গাপুরের এই হাসপাতালে কাজ যোগ দেয়। সরস্বতীপুজোর সময়ে শেষ বার বাড়িতে এসেছিল।’

    কী হয়েছিল ঘটনার দিন? মৃতের বাবা বলেন, ‘মেয়ের সঙ্গে মঙ্গলবার রাতে কথা হয়। বুধবার ওর নাইট শিফটের ডিউটি ছিল। তবে কাজে সে যায়নি সে দিন। রাতে মেডিক্যাল কলেজ থেকে ফোন করে জানায়, মন্দিরা খুব অসুস্থ। দ্রুত আসতে বলে। এসে শুনি, মেয়ে মারা গিয়েছে। কোনও সমস্যা ছিল না। আমার মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারে না।’ দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়ে মলানদিঘি ফাঁড়িতে অভিযোগ দায়ের করেছেন মৃত নার্সের পরিবারের লোকজন। নার্সিং হস্টেলের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার আবেদন করেছেন তাঁরা।

    ময়নাতদন্তের জন্য দেহ নিয়ে যাওয়া হয়েছে আসানসোল জেলা হাসপাতালে। সূত্রের খবর, মন্দিরার রুম থেকে তাঁর মোবাইল ফোন ও একটি ডায়েরি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। ডায়েরিতে ডিউটির হিসেব লেখা রয়েছে। মোবাইলের ম্যাসেজে কোনও অসঙ্গতি পাওয়া যায়নি। মলানদিঘি ফাঁড়ির এক আধিকারিক বলেন, ‘ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়া গেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।’ হাসপাতালের সিইও বোনাপার্ট চৌধুরী বলেন, ‘দুঃখজনক ঘটনা। পুলিশ তদন্ত করছে। সব রকম সহযোগিতার জন্য আমরা পরিবারের পাশে আছি।’

  • Link to this news (এই সময়)