• জেলা সদরেই গণনাকেন্দ্র, চিঠি দিল নির্বাচন কমিশন
    আনন্দবাজার | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • মহকুমার বদলে জেলা সদরেই গণনাকেন্দ্র তৈরির উপর জোর দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। এই ব্যবস্থা শেষ পর্যন্ত কার্যকর হলে আগের মতো এখন গণনাকেন্দ্রগুলি জেলা জুড়ে ছড়িয়ে থাকবে না। বরং তা কেন্দ্রীভূত হবে জেলা সদরগুলিতে। এতদিন মহকুমা সদরেই গণনাকেন্দ্র হত। অনেকের মতে, জেলা সদরে গণনাকেন্দ্র হলে নজরদারি সহজ হবে। অনেকে এ-ও মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ২০২১ সালে নন্দীগ্রাম বিধানসভার একটি গণনাকেন্দ্রে অপ্রীতিকর কিছু পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যার জেরে শুরু হয় বিতর্কও। সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এমন পদক্ষেপ।

    সম্প্রতি সব জেলাশাসককে লিখিত বার্তায় কমিশন জানিয়েছে, তারা চাইছে যে প্রত্যেক জেলা সদরেই গণনাকেন্দ্র তৈরি হোক। খুব ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে তা মহকুমা সদরে তৈরি করা যেতে পারে। উল্লেখ্য, জেলা সদরেই জেলাশাসক, পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত জেলাশাসক-সহ জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের অফিস।

    জেলা-কর্তাদের একাংশের বক্তব্য, একটি বিধানসভা কেন্দ্রের গণনার জন্য ন্যূনতম চারটি বড় মাপের ঘরের প্রয়োজন হয়। ভোট-যন্ত্র সংরক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট করতে হয় উপযুক্ত ভবনও। ফলে যে জেলাগুলি বড় মাপের, সেই জেলাগুলিতে অনেক সংখ্যায় বড় মাপের ঘর দরকার। ফলে জেলা সদরের একটি ভবনে এমন ব্যবস্থা করা কার্যত অসম্ভব। সে ক্ষেত্রে একাধিক ভবনের প্রয়োজন হবে। তা কতদূর ব্যবস্থা করা যাবে, সে ব্যাপারে তাঁরা নিশ্চিত হতে পারছেন না এখনই। এক কর্তার কথায়, ‘‘উত্তর ২৪ পরগনায় ৩৩টি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য জেলা সদরে ব্যবস্থা করতে গেলে অন্তত ১৩২টি বড় ঘর প্রয়োজন। তা একটি ভবনে কী ভাবে করা সম্ভব! আবার স্ট্রং রুমের জন্য একাধিক ভবনের ব্যবস্থা করতে হবে। তবে অবশ্য ছোট জেলাগুলির ক্ষেত্রে এতটা সমস্যা হবে না। তবুও একটি ভবনে সেই আয়োজন কোনও ভাবেই সম্ভব নয়।’’

    অবশ্য লিখিত বার্তায় কমিশন জেলাশাসকদের জানিয়েছে, জেলা সদরের সরকারি ভবন ছাড়াও স্কুল-কলেজগুলিতে গণনাকেন্দ্র পরিকাঠামো তৈরি করা যেতে পারে। কোথায় এমন ভবন পাওয়া যাবে, তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কমিশনকে জমা দিতে বলা হয়েছে। আধিকারিকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ২০২১ সালে নন্দীগ্রাম বিধানসভার একটি গণনাকেন্দ্রে বিস্তর গোলমাল হয়েছিল। সেই কেন্দ্রের প্রার্থী ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যের বর্তমান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। স্বাভাবিক ভাবেই সেই গোলমাল থেকে বিতর্ক ছড়াতে বেশি সময় লাগেনি।

    অন্যদিকে, তথ্যগ্রাহ্য অসঙ্গতির ক্ষেত্রে ভোটারদের তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজন নেই—ভাঙড়ের এক তৃণমূল নেতার এই নিদানে রীতিমতো বিতর্ক ছড়িয়েছে। তাঁকে এক ইআরও সমর্থন দিয়েছেন বলেও অভিযোগ পেয়েছে কমিশন। গোটা বিষয়টি কমিশনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে। ঘটনার অনুসন্ধান শুরু করেছে কমিশন। পাশাপাশি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে আরও গরমিলের অভিযোগ এসেছে কমিশনের কাছে। সেই জেলা প্রশাসনের থেকে রিপোর্ট চেয়েছে কমিশন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতো রাজ্য যে সাড়ে আট হাজার কর্মীর নাম পাঠিয়েছে, তাঁদের মধ্যে সাড়ে ছ’হাজার কর্মী রিপোর্ট করেছেন। কিন্তু অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতো তাঁদের সম্পর্কে সবিস্তার তথ্য পাঠানো হয়নি কমিশনে। তাঁদের মধ্যে আবার প্রায় ১০ শতাংশ ইতিমধ্যেই এইআরও হিসাবে কাজ করছেন। তাঁদের তথ্যও চাওয়া হয়েছে সরকারের থেকে। ফলে ওই নিয়োগ-জট বৃহস্পতিবারেও কাটেনি।

    এ দিকে, আজ, শুক্রবার রাজ্যের মুখ্যসচিবকে দিল্লিতে তলব করেছে কমিশন। সূত্রের ব্যাখ্যা, রাজ্য প্রশাসনকে বিভিন্ন নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও তারা ঢিলেঢালা মনোভাব দেখাচ্ছে। সে কারণেই এই তলব। একই দিনে জেলা নির্বাচনী আধিকারিক-সহ বাকি জেলাকর্তাদের নিয়ে ভিডিয়ো মাধ্যমে বৈঠক করবেন দিল্লির নির্বাচন সদনের কর্তারা। জানা গিয়েছে, পরিমার্জিত সূচি অনুযায়ী ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ পেলে সর্বদল বৈঠক ডাকা হবে।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)