ভোপালে নাবালিকাকে গণধর্ষণের অভিযোগ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথমে তাকে অপহরণ করা হয়। তার পরে চারটি ভিন্ন গাড়িতে আলাদা আলাদা স্থানে নিয়ে গিয়ে লাগাতার ধর্ষণ করে দুই যুবক। পাশাপাশি, ঘটনার ভিডিয়ো ভাইরাল করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে নির্যাতিতার কাছ থেকে মোটা টাকা আদায়ের জন্য ব্ল্যাকমেলও করছিল তারা। ইতিমধ্যে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। SIT গঠন করে শুরু হয়েছে তদন্ত।
ভোপাল পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে ১ ফেব্রুয়ারি। সন্ধ্যায় টিউশন থেকে বাড়ি ফিরছিল একাদশ শ্রেণির ওই ছাত্রী। অভিযোগ, সেই সময়ে তাকে জোর করে একটি SUV-তে তুলে নেয় আসিফ আলি খান নামে এক যুবক। গাড়িতেই ওই নাবালিকাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। গোটা ঘটনার ভিডিয়ো করে আসিফের বন্ধু মাজ খান।
এখানেই শেষ নয়। আরও অভিযোগ, পরে ওই ছাত্রীকে আলাদা একটি গাড়িতে ধর্ষণ করে মাজ খান। সেই ঘটনারও ভিডিয়ো তুলে রাখে তারা। এর পরে আসিফ আর মাজ আরও দু’টি গাড়িতে তাকে অন্য জায়গায় নিয়ে গিয়ে ফের ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। রক্তাক্ত অবস্থায় কোনও রকমে বাড়ি যান নাবালিকা। তাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সঙ্গে সঙ্গে থানায় অভিযোগ জানান পরিবারের লোকজন। শুরু হয় তদন্ত।
অ্যাসিস্ট্যান্ট পুলিশ কমিশনার অঙ্কিত খাত্রাকরের নেতৃত্বে SIT গঠন করেছে ভোপাল পুলিশ। তদন্তে নেমেই আসিফকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গত ৮ ফেব্রুয়ারি মাজ খানকেও গ্রেপ্তার করা হয়। ভোপালে তার একটি জিম রয়েছে। সেখান থেকেই তাকে পাকড়াও করে পুলিশ। তদন্তে জানা গিয়েছে, ধর্ষণের ভিডিয়ো বন্ধুবান্ধবের মধ্যে শেয়ার করেছিলেন আসিফ এবং মাজ। নাবালিকাকে লাগাতার হুমকিও দেওয়া হতো। গাড়িগুলি সেহোর গ্রামে লুকিয়ে রেখেছিলেন আসিফ এবং মাজ। তদন্তে নেমে চারটি গাড়িই বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।
বিষয়টা আরও জটিল হয়ে উেছে, এক পুলিশ কনস্টেবলের যোগসূত্র উঠে আসায়। অভিযুক্ত মাজ খানের সঙ্গে কোহেফিজা থানার হেড কনস্টেবলের যোগাযোগ ছিল। তাঁর বিরুদ্ধে মামলার অনেক গোপন তথ্য ফাঁস করার অভিযোগ উঠেছে। এর পরেই ওই কনস্টেবলকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।