• বিধানসভা ভোটের মুখে BJP-তে ভাঙন, জল্পনায় সিলমোহর দিয়ে তৃণমূলে যোগদান ময়নার চন্দনের
    এই সময় | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • জল্পনা ছিলই। তাতেই সিলমোহর দিয়ে BJP ছেড়ে শুক্রবার তৃণমূলে যোগ দিলেন ময়নার নেতা চন্দন মণ্ডল। এ দিন তৃণমূল ভবনে গিয়ে দলীয় পতাকা হাতে তুলে নেন তিনি। বিধানসভা ভোটের মুখে বিরোধী শিবিরে তৃণমূলের এই ভাঙন ধরানো রাজনৈতিক ভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তাঁদের কথায়, পূর্ব মেদিনীপুর শুভেন্দু অধিকারীর সৌজন্যে BJP-র অন্যতম ‘শক্ত ঘাঁটি’ বলেই বিবেচনা করা হয়। সেই জায়গায় ভাঙন ধরিয়েছে তৃণমূল। যদিও পাল্টা বিজেপির দাবি, দল কোনও ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়। এই যোগদানের কোনও ফল তৃণমূলের ঘরে যাবে না।

    জেলা রাজনীতির অন্দরে ময়নার বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্দার ঘোর বিরোধী হিসেবেই চন্দন পরিচিত। জেলার রাজনৈতিক মহলের অন্দরে কান পাতলেই শোনা যায়, ২০২১ সালে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে জোরালো ভাবে উঠে এসেছিল চন্দনের নাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁর ভাগ্যে শিকে ছেঁড়েনি। দল টিকিট দিয়েছিল ক্রিকেটার অশোক দিন্দাকে। নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী। এর পরে কেলেঘাইয়ের স্রোতে পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে ময়নায় রাজনৈতিক সমীকরণ। চন্দন শিবিরের দাবি ছিল, দল এই নেতার গুরুত্ব কমিয়েছে। কারণ ব্লক কনভেনারের পদ থেকেও তাঁকে সরানো হয়েছিল। গত এক বছরে BJP-র কোনও প্রচারেও সে ভাবে অংশ নিতে দেখা যায়নি এই নেতাকে।

    এ দিন যোগদানের পরে চন্দন দাবি করেন, ‘কী ভাবে বিজেপি নেতা হলাম, জানি না!’ ময়নার মানুষকে মাছ চাষে সহায়তা, জল জমা থেকে মুক্তি দেওয়ার মতো প্রতিশ্রুতি শোনা গিয়েছে তাঁর গলায়। এ দিন অশোক দিন্দার সমালোচনাও করেন তিনি।

    পাল্টা এই যোগদান প্রসঙ্গে তমলুক সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সভাপতি মলয় সিনহা দাবি করেছেন, ‘কেন চন্দন মণ্ডল দল ছেড়েছেন, তা আমার জানা নেই। বিজেপি কোনও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দল নয়। জেলার ১৬টি আসনের মধ্যে প্রতিটিতেই আমরা জিতব।’ এই নিয়ে অশোক দিন্দার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন তোলেননি। উল্লেখ্য, চন্দনের স্ত্রী খুকুরানি মণ্ডল গোজিনা পঞ্চায়েতের বিজেপির প্রধান। তাঁর অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। যদিও এখনও তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

    তাৎপর্য পূর্ণ ভাবে এ দিন চন্দন দাবি করেন, বাকচা এবং গোজিনা, যে দুই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের কয়েক মাসের টাকা ঢোকেনি, তা নিয়ে তিনি তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি মুখ্যমন্ত্রীকে এই ব্যাপারে চিঠি লিখি। তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন, সকলে খুব দ্রুত টাকা পাবেন। এর পরে তাঁরা টাকা পেয়েছেন। কিন্তু এখনও পাঁচ-ছয় মাসের টাকা বাকি। আমি আবেদন করেছি, এই টাকা যাতে দ্রুত ছেড়ে দেওয়া হবে।’

    তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে বিষয়টির জল গড়িয়েছিল হাইকোর্টেও। অভিযোগ ছিল, বিজেপি করার জন্য সেখানে নাকি অনেককে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দেওয়া হয় না। চন্দনের মন্তব্য ফের সামনে আসে এই বিতর্ক। যদিও চন্দনের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিত টেনেই তৃণমূল নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে শুরু করে কোনও সরকারি প্রকল্পের ক্ষেত্রে বিজেপি বা তৃণমূলের যে কোনও ভাগাভাগি থাকে না, তা গোটা বাংলা বলবে। তাঁরা ঠিক মতো ফর্ম ফিল আপ করেন কি না, তা বলা যায় না। হয়তো টেকনিক্যাল কোনও সমস্যা হয়েছে।’

  • Link to this news (এই সময়)