আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রেমিকার বিয়ের আগের রাতে ফোনে যোগাযোগ করে মাঠে মিলিত হয়েছিলেন প্রেমিক-প্রেমিকা| দু'জনে বিয়ে করে শেষপর্যন্ত আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন৷ খবর পেয়ে তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে বৃহস্পতিবার শেষরাতে প্রেমিকের মৃত্যু হয়৷ প্রেমিকা আশঙ্কাজনক অবস্থায় এখনও মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন৷ ভ্যালেন্টাইন্স ডে'র ঠিক আগেই প্রেমিক যুগলের ঘটল এমন করুণ পরিণতি! ঘটনাটি উত্তর ২৪ পরগণার বাগদা থানা এলাকার চাঙ্গা চাঁদপুরে। এমন মর্মান্তিক ঘটনায় স্থানীয়রা রীতিমতো অবাক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দু'জনের এই ভালোবাসার সম্পর্ক তাঁদের পরিবার মেনে না নেওয়ার জন্যই বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন তাঁরা। শেষপর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় যুবকের মৃত্যু হয়েছে। নাবালিকা তরুণীর অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, সূর্য গাইন (২০) নামে এক যুবকের সঙ্গে ওই এলাকার এক নাবালিকার বেশ কিছুদিন ধরে সম্পর্ক ছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে ওই নাবালিকার বিয়ে ঠিক করা হয়েছিল। স্থানীয়রা জানান তাঁরা জানতে পেরেছেন বিয়ের আগের রাতেই দু’জনে নির্জন স্থানে দেখা করেন এবং সেখানেই প্রেমিক সিঁদুর পরিয়ে বিয়ে করেন। এরপরই তাঁরা বিষ পান করেন। ঘটনার খবর পেয়ে মেয়ের পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছন। অভিযোগ, সেখানে যুবককে মারধর করা হয়। সেই অবস্থাতেই যুবককে ফেলে রেখে মেয়েকে নিয়ে চলে যান মেয়ের বাড়ির লোকজন। মেয়েকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই যুবককে উদ্ধার করে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করেন তাঁর বাড়ির লোকজন। নাবালিকাকে ও আহত প্রেমিককে প্রথমে বাগদা গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় প্রেমিকাকে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
সূর্য গাইনকে ভর্তি করা হয় বারাসতের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে। বৃহস্পতিবার শেষরাতে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। যুবকের পরিবার সূত্রে জানা যায়, মেয়ের মা-বাবা ও মাসির বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা ও মারধরের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বাগদা থানায়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এর আগে ওই প্রেমিক যুগল বাড়ি ছেড়ে অন্য রাজ্যে গিয়ে বিয়ে করেছিলেন। পরে মেয়ের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে এলাকায় ফিরিয়ে আনে। প্রেমিক ভেবেছিলেন বালিকার ১৮ পার হলেই নতুন করে তাঁরা সংসার বাঁধবেন। কিন্তু অভিযোগ, মেয়ের বাড়ি থেকে জোরজবরদস্তি তাঁকে অন্য জায়গায় নিয়ে গিয়ে বিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তাই বিষপান করে তাঁরা আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন৷
গোটা ঘটনায় এলাকায় নেমেছে শোকের ছায়া। আত্মহত্যায় প্ররোচনা থেকে নাবালিকার বিয়ে-সহ যুবককে মারধরের ঘটনার সবদিক খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে বাগদা থানার পুলিশ।