BJP-র দাপুটে নেতা যোগ দিলেন TMC-তে, গেরুয়া শিবিরে সাংগঠনিক ধাক্কা
আজ তক | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নায় তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন বিজেপির জেলা স্তরীয় নেতা চন্দন মণ্ডল। শাসকদলের দাবি, বাংলার উন্নয়ন ও মানুষের স্বার্থের রাজনীতির প্রতি আস্থা রেখেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, বিজেপির একাধিক কর্মী ও নেতা দল থেকে দূরত্ব তৈরি করছেন। চন্দন মণ্ডল তমলুকের জেলা কমিটির তিন বারের সম্পাদক ছিলেন। এ রাজ্যে বিজেপির দীর্ঘদিনের সংগঠক হিসেবে পরিচিত।
দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, স্থানীয় সমস্যাগুলি সমাধানের ক্ষেত্রে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিশেষ করে বন্যা প্রতিরোধ এবং মৎস্যজীবীদের জন্য সহায়তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে উদ্যোগের অভাব নিয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
এদিন কুনাল ঘোষের পাশে বসে চন্দন মণ্ডল জানান, ময়না অঞ্চলের প্রধান সমস্যা নিচু জমি এবং জল জমে থাকার পরিস্থিতি। তাঁর অভিযোগ, এলাকার বিজেপি বিধায়ক এই সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেননি।
তাঁর আরও দাবি, এই বিষয়টি নিয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তাঁদের তরফে ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের জয় নিয়ে তিনি আশাবাদী বলেও মন্তব্য করেন।
এদিন তৃণমূল কংগ্রেসের এক্স পোস্টে দাবি করা হয়েছে, 'পূর্ব মেদিনীপুরে বিজেপি সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়েছে।' দীর্ঘদিনের কর্মীদের উপেক্ষা করে নতুন মুখকে সামনে আনার প্রবণতায় দলের ভিতরে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ শাসকদলের। তাদের বক্তব্য, রাজ্য জুড়ে বিজেপি এখন অন্তর্দ্বন্দ্বে ভুগছে।
এহেন পরিস্থিতিতে চন্দন মণ্ডলের তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদানকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বিশ্লেষকদের মতে, পূর্ব মেদিনীপুর জেলা রাজনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। বিধানসভা ভোচের আগে সেখানে দলবদলের এই ঘটনায় নির্বাচনী সমীকরণে প্রভাব পড়তে পারে। তবে বিজেপির তরফে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।