• বাংলার SIR নিয়ে ভয়ংকর অভিযোগ! নথি হিসেবে যা আপলোড হয়েছে, তাতে আঁতকে উঠছে কমিশন! ডকুমেন্টে ভুল থাকলে কি ফের...
    ২৪ ঘন্টা | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • অর্কদীপ্ত মুখোপাধ্যায়: চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে যাতে কোন ভারতীয়র নাম না বাদ যায়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। কোন বিদেশিদের নাম যাতে না থাকে ভোটার তালিকা সেটাও আপনাদের নিশ্চিত করতে হবে। ডকুমেন্টগুলি যেন পর্যাপ্ত স্ক্রুটিনি (SIR exercise) করা হয় সেটাও নিশ্চিত করতে হবে। জেলাশাসকদের বৈঠকে বললেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (Gyanesh Kumar) বলেই কমিশন সূত্রে খবর।

    ভাববেন না যে আপনারা পালিয়ে যেতে পারবেন

    আপনারা ভাববেন না যে আপনারা পালিয়ে যেতে পারবেন। আজ না হোক আগামী দু'বছর বাদেও কমিশন পদক্ষেপ করতে পারবে। বিভিন্ন জেলাশাসক তথা ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসারদের সতর্ক করে এমন বার্তাই জাতীয় নির্বাচন কমিশন দিল বলে কমিশন সূত্রে খবর। অনেক জায়গা থেকেই ভুল ডকুমেন্ট আপলোড করা হচ্ছে। ডকুমেন্ট হিসেবে কোথাও সংবাদপত্র আপলোড করে দেওয়া হয়েছে, পাসপোর্ট আপলোড করার কথা বলা হলেও পাসপোর্টের জায়গায় ব্ল্যাঙ্ক পেপার আপলোড করে দেওয়া হচ্ছে। 

     ভুল ডকুমেন্ট

    উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় দুই জেলার জেলাশাসককে উদ্দেশ্য করে ভুল ডকুমেন্টগুলি দেখিয়ে বিশেষভাবে সতর্ক করলেন এই দিনের বৈঠকে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ বলে কমিশন সূত্রে খবর। আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় স্থানীয়ভাবে জেলাশাসকরা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় রিপোর্ট মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে দেবেন। তাঁদের কাছে ডকুমেন্টস না থাকলে স্থানীয়ভাবে জেলাশাসকরা সুপারিশ করে পাঠিয়ে দেবেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এর কাছে। বৈঠকে নির্দেশ মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বলেই কমিশন সূত্রে খবর।

    কী কী অভিযোগ

    সংবাদপত্রের কাটিং, ফাঁকা পৃষ্ঠা, অস্পষ্ট ছবি ইত্যাদি নথি আপলোডের একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। এগুলো ডিএম (জেলাশাসক) ও কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের পাওয়ারপয়েন্টে দেখানো হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে-- এই নথিগুলি কীভাবে আপলোড হল, কে আপলোড করল, এবং ডিএমরা কেন সেগুলো যাচাই করলেন না?

    এখন কেন নতুন করে নথি আপলোড করা হচ্ছে—তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। জাল বা তৈরি করা নথি আপলোডের চেষ্টা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে ডিএমদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন (ECI) ও সুপ্রিম কোর্ট যে নথিগুলো অনুমোদন করেছে, শুধুমাত্র সেগুলোই যেন ERO/AERO-রা বিবেচনা করেন, তা ব্যক্তিগতভাবে দেখার দায়িত্ব ডিএমদের।

    আগামী সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকেল ৫টার মধ্যে সব ডিইও-কে (জেলা নির্বাচন আধিকারিক) নিশ্চিত করতে হবে যে, আপলোড হওয়া প্রতিটি নথি অনুমোদিত তালিকা অনুযায়ী। আইটি টিমকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সময়সীমার পরেও সিস্টেমে এমন কোনও নথি আছে কি না তা খতিয়ে দেখতে। নির্ধারিত সময়ের পর যদি একটি নথিও ধরা পড়ে, তবে সংশ্লিষ্ট ডিএমকে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করা হবে।

    ডিইও, ERO ও AERO-দের সতর্ক করে বলা হয়েছে—প্রতিটি নথি ও সিদ্ধান্ত বহু বছর সিস্টেমে সংরক্ষিত থাকবে। ভবিষ্যতে ১, ২ বা ৫ বছর পর কোনও বিদেশি শনাক্ত হলেও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের আইনি জবাবদিহির মুখে পড়তে হতে পারে। দীর্ঘ প্রশাসনিক জীবনের জন্য এটি বড় ঝুঁকি বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

    ডিএমদের তিরস্কার 

    অবহেলার অভিযোগে কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, মালদা, দক্ষিণ ও উত্তর ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরের ডিএমদের বিশেষভাবে তিরস্কার করা হয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের ডিএমকে রাজনৈতিক মন্তব্য না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোচবিহারের ডিএমকে নথি আপলোডে দেরির জন্য ভর্ৎসনা করা হয়েছে এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডিএমকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে—কোন কর্তৃত্বে ERO ও AERO-রা ERMO-দের ডাকছিলেন।

    পর্যবেক্ষককে নির্দেশ 

    সব পর্যবেক্ষককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—ERO/AERO ও DEO-দের যে কোনও নিয়মভঙ্গের ঘটনা দ্রুত কমিশনের নজরে আনতে, যাতে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

    সিইও-কে নির্দেশ

    সিইও-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—অগ্রহণযোগ্য বা অস্পষ্ট নথির ভিত্তিতে যেসব মামলা যাচাই করা হয়েছে, সেগুলো সরাসরি নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠাতে, যাতে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)